আদুরী111জুয়েল আশরাফ222আয় আদুরী আয়।প্রথমে আদুরী বুঝে উঠতেrn পারল না তাকেই যে ডাকছে ওই বাড়ির ছোট্ট মেয়েটি। মেয়েটাকে ও চেনে, ওর নাম rnআদর। নিজের নামের সাথে মিলিয়ে তার নাম রেখেছিল আদুরী। ঘাড় কাদ করে মাথাটা rnএকটু তুলে সেদিকে তাকাতেই ও বুঝতে পারল যে ওকেই ডাকছে। কানটা খাড়া করে rnআবারও শুনতে চেষ্টা করল আদুরী। না, তার আশপাশে তো আর কেউ নেই। তাহলে মেয়েটিrn ওকেই ডাকছে। মাঝেমধ্যে এ পাড়ার অনেকেই খেতে দেয় ডেকে। আদুরী খায় সে খাবার।rn তেমনি সমস্ত বাড়ির ইঁদুর মেরে পাড়ার লোকের ঋণও শোধ করে দেয়। আদুরী তাই rnআস্তে আস্তে এগিয়ে গেল ওর কাছে।এ পাড়ায় হোটেলের মালিক পান্নুও ছিলেন rnযিনি সবসময় তাকে ডেকে ডাল ভাত খেতে দিতেন। মনে হয় তিনি এমনই খাবার খান। তাইrn হাড্ডি, কাঁটা কখনও খেতে দেন না। যাই হোক ভালোবেসে যে যা খেতে দেয় আদুরী rnতাই খেয়ে খুশি থাকে। সেই কবে থেকে আদুরী রয়েছে এই পাড়াতেই। মা আর rnভাই-বোনেরা তো চলে গেছে কোথায়। কিন্তু আদুরী রয়ে গেছে।আদুরী কিন্তু rnএমনিতে ভালো খুব। কোনো বাড়ির মিটসেফে ভাজা মাছের খোঁজ করে না। ঢাকনা সরিয়েrn তরকারি চাটে না। বরং অন্য কোনো বিড়াল সেই কাজটি করতে এলে তাকে তাড়া করে rnবেড়ায়। তাই এ পাড়ার বাচ্চারাও ওকে মাঝেমাঝে খেতে বসে মাছের কাঁটা খেতে দেয়।rn আদর করে ডেকে খাবারও দেয়। সে দেখতে খুবই সুন্দর। নাদুসনুদুস। এজন্য আদুরী rnডাকে সবাই তাকে। রাতে কোনো একটা বাড়িতে শুয়ে থাকে সে। আসলে সে পাড়ার rnলোকেদের খাবারের ধার ধারত না আগে। যখন মোড়ের মাথার হোটেলটা চালু ছিল তখন rnসেখান থেকেই খাবার পেয়ে যেত এমনিতেই। এখন ‘করোনা’ নামে কী এক ভাইরাস আসাতে rnহোটেল বন্ধ হয়ে আছে বলে লোকেদের বাড়ির খাবারের ওপরেও ওকে নির্ভর করতে rnহচ্ছে। কিন্তু টুকটাক খাবারে তো আর পেট ভরে না। তাই শরীরটা আদুরীর খুব rnদুর্বল হয়ে পড়েছে এখন। পেট খালি থাকলে ঠিকঠাক ঘুমও তো আসতে চায় না। দুর্বল rnহয়ে শুয়ে থাকে আদুরী অনেক সময়ই।সেদিনও তেমনি শুয়ে ছিল আদুরী। হোটেল মালিকের ছোট্ট মেয়েটি এসে বলল, ‘আদুরী, ওঠ ওঠ। এই দেখ তোর জন্য কত খাবার এনেছি।’একrn চোখ খুলে দেখেই আদুরী শরীরের আড়মোড়া ভেঙে উঠে দাঁড়াল এবার। সামনে খাবার rnপ্লেট দিয়েই মেয়েটি ঘরের ভেতরে ঢুকল। তার মাকে বলতে শুনল, ‘এই বিড়ালটাই rnনষ্টের গোড়া। খাবার জিনিস সব নষ্ট করে বেড়ায়। ওকে খেতে দিলি কেন?’মেয়েটিrn বলল, ওর দোষ নেই মা। অন্য বিড়ালগুলো এসে খাবার নষ্ট করে দিয়ে যায়। ও খুব rnভালো বিড়াল মা। একদম কারোর খাবার নষ্ট করে না। ওকে যেটুকু খেতে দেবে তাতেই ওrn খুশি।’মা বলল, ‘বিড়ালকে তাড়াবার ব্যবস্থা নিচ্ছি দাঁড়া। কয়েকবার তাড়ালাম। এবার এমন ব্যবস্থা করব কোনোদিন আর এ পাড়ায় ফিরে আসতে পারবে না।’‘কী করবে মা শুনি?’‘প্রথমেrn ওকে বস্তায় ভরব। বস্তার ভেতর কর্পূর নেব। কর্পূরের গন্ধে অন্য সব গন্ধ rnঢাকা পড়ে যাবে। অনেক দূরে নিয়ে বস্তার মুখ খুলব। বস্তার মুখ খুলবার আগে rnবস্তাটা ঝ ঝ করে ঘুরাব যাতে বিড়ালের দিকভ্রম হয়। এরপর আর কোনোদিন গন্ধ rnশুঁকে শুঁকে ফিরতে পারবে না।’মেয়েটির অবাক হওয়ার গলায় বলতে শুনল, ‘এভাবেও বিড়াল তাড়ানো যায় নাকি মা?’আদুরীrn শুনল সবই। সামনে খাবার পেয়েও তার খেতে ইচ্ছে করল না। খাবারে রুচি নষ্ট rnহলো। অন্য বিড়ালগুলোর কারণে আজ তার বদনাম উঠেছে। ওকে কি তাড়িয়ে দেবে তবে? rnকী আর করবে। তাড়িয়ে দিলে চলে যাবে। ছোটবেলা থেকেই আদুরী একটু অন্য রকমের। rnকারও সঙ্গে ঝগড়া-মারামারি এসব করে না। অযথা ঝামেলা আদুরীর পছন্দ নয়। এসব rnথেকে সে দূরেই থাকতে চায়। ওর মা তো ছোট থেকেই ওর এই স্বভাবটার কথা জানত। rnদুঃখ করে বলত, ‘তুই যদি নিজের দাবি নিজে আদায় করে নিতে না পারিস তবে বাঁচবিrn কী করে? তোর আশপাশের বিড়ালগুলো তোর খাবার খেয়ে নিচ্ছে। অভুক্ত থেকে কি rnবাঁচতে পারবি তুই?’ আদুরী মনে মনে ভাবছে তেমন হলে আর এখানে থাকবে না ও। চলেrn যাবে অনেকদূরে। চলেই গিয়েছিল আদুরী। ঘুরেফিরে অনেকদিন পর হোটেল মালিকের rnসেই বাড়ি এসে পৌঁছল। পৃথিবী তো গোল, গোলাকার হয়ে ঘুরতে ঘুরতে আবার আগের rnজায়গায়।‘আয় আয় আদুরী।’হোটেল মালিকের ছোট্ট মেয়েটি ডাকছে। কিন্তু rnসঙ্গে আবার ওর মা কেন এলো? আবার কি তাড়িয়ে দেবে? আদুরী ভয়ে খাবারের কাছে rnযাবার সাহস পাচ্ছে না। মেয়েটির মা বলে উঠল, ‘তুই ঠিক বলেছিলি আদর, তোর rnআদুরী বিড়ালটা খেতে না পেয়ে সত্যিই খুব রোগা হয়ে গেছে। আয় আয় আদুরী খেয়ে নেrn মাছ-ভাত।’আদুরী মনে মনে ভাবছে ও কি ঠিক দেখছে? যে মানুষটি ওকে দেখলে rnপরেই তাড়া করে সে কিনা মাছ-ভাত খাওয়ার জন্য বলছে! তারপর আদুরীর খাওয়া দেখে rnআদরের মা বলছে, ‘আহারে বেচারি পেট ভরে না খেতে পেয়ে রোগা হয়ে গেছে। আমরা তোrn রোজই খাচ্ছি।’ আদরের বাবাও ঘর থেকে বেরিয়ে এসে আদুরীর খাওয়া দেখতে লাগল। rnবলল, ‘এখন রোজই আদুরীকে খেতে দিতে হবে। আমাদের উচিত বিড়াল-কুকুরদের খেতে rnদেওয়া।’ আদরের মা তখন বুঝতে পেরে বলল, ‘হুঁ বুঝলাম। এই করোনা ভাইরাসের rnমহামারিতে খাবার হোটেল বন্ধ, স্কুল কলেজ বন্ধ। তাই এই অবলা জীবদেরও খুবই rnকষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।’অনেকদিন পর আদর তার বিড়াল আদুরীকে পেয়েrn খুশি হলো। ওর খাওয়া শেষ হতেই ওকে মাটি থেকে তুলে নিল। আর আদুরীও আদরের rnহাতের আদর পেয়ে মুখ গুঁজে দিল ছোট্ট মেয়েটির বুকে আনন্দে।
জুয়েল আশরাফ
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০, ১১:০৪ পিএম