প্রকাশ: শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:৫৬ পিএম (ভিজিট : ২৩৪)
আগামী
৩১ ডিসেম্বর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হতে পারে।
জেএসসি-জেডিসির ফলাফলকে ২৫ এবং এসএসসির ফলকে ৭৫ শতাংশ বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ
মাধ্যমিকের ফল ঘোষিত হবে। এরপরেই বিশ^বিদ্যালয়গুলো ভর্তি কার্যক্রম শুরু
হবে। উচ্চশিক্ষায় ভর্তিচ্ছুদের পছন্দসই বিশ^বিদ্যালয়ে ও বিষয়ে ভর্তি নিয়ে
টেনশন।
১৯টি বিশ^বিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।
১০০
নম্বরের এই পরীক্ষা হবে বহু নির্বাচনি প্রশ্নে (এমসিকিউ)। উচ্চ মাধ্যমিকের
পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা (বাণিজ্য) বিভাগের
জন্য আলাদা তিনটি পরীক্ষা হবে। বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আগের মতো আলাদা
পরীক্ষা হবে না। অর্থাৎ একজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী একটি পরীক্ষা দিয়েই
যোগ্যতা অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ পাবে। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই নিজ বিভাগের
পাশাপাশি অন্য বিভাগভুক্ত বিষয়েও ভর্তি হওয়া যাবে। সেভাবেই বিষয়ভিত্তিক আসন
রাখা হবে। শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয়বার (২০১৯ ও ২০২০) পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ
পাবেন।
১৯ বিশ^বিদ্যালয়
ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, খুলনা বিশ^বিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিশ^বিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, জগন্নাথ
বিশ^বিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়, জাতীয় কবি
কাজী নজরুল ইসলাম
বিশ^বিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া
বিশ^বিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়,
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ^বিদ্যালয়,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা
বিশ^বিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিশ^বিদ্যালয়।
যোগ্যতা ও নম্বর বণ্টন
২০১৯ এবং ২০২০ সালে যারা
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করবেন তারাই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার
সুযোগ পাবেন। ১০০ নম্বরের এই পরীক্ষার প্রশ্ন হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে।
তিনটি
বিভাগের জন্য তিনটি পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে মানবিক বিভাগের পরীক্ষায় অংশ
নেওয়ার জন্য এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম মোট জিপিএ-৬
থাকতে হবে। তবে যেকোনো পরীক্ষায় জিপিএ-৩-এর কম হলে চলবে না। বাণিজ্যে
বিভাগের জন্য ওই দুই পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ-৬ দশমিক ৫ থাকতে হবে। এখানেও
কোনো পরীক্ষায়
জিপিএ-৩-এর নিচে থাকলে চলবে না। আর বিজ্ঞানে দুই পরীক্ষায় ন্যূনতম মোট জিপিএ-৭ থাকতে হবে। এখানেও কোনো পরীক্ষায়
জিপিএ-৩-এর
নিচে থাকলে আবেদন করা যাবে না। মানবিক বিভাগের পরীক্ষা হবে বাংলা, ইংরেজি
এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে বাংলায় ৪০,
ইংরেজিতে ৩৫ এবং আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।
ব্যবসায় শিক্ষায়
(বাণিজ্য) হিসাববিজ্ঞান (২৫ নম্বর), ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (২৫
নম্বর), ভাষা (২৫ নম্বরের মধ্যে বাংলায় ১৩ ও ইংরেজিতে ১২ নম্বর) এবং আইসিটি
(২৫ নম্বর) বিষয়ে পরীক্ষা হবে। আর বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ভাষা (২০
নম্বরের মধ্যে বাংলায় ১০ ও ইংরেজিতে ১০ নম্বর), রসায়ন (২০ নম্বর), পদার্থ
(২০ নম্বর) এবং আইসিটি, গণিত ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। এর
মধ্যে আইসিটি, গণিত ও জীববিজ্ঞানের মধ্যে যেকোনো দুটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে
হবে। যার প্রতিটির নম্বর হবে ২০ করে।
যেভাবে পছন্দের বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি
গুচ্ছ
পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পছন্দের
বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে প্রথমেই গুচ্ছ পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এই
পদ্ধতিতে পছন্দের বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে প্রথমেই একটি সমন্বিত
পরীক্ষায় (গুচ্ছ পদ্ধতিতে) অংশ নিতে হবে। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের
০-১০০-এর মধ্যে একটি নম্বর দেওয়া হবে। এই নম্বর পাওয়ার পর, প্রত্যেকটি
বিশ^বিদ্যালয় আলাদাভাবে নিজস্ব নিয়ম, বৈশিষ্ট্য এবং শর্ত উল্লেখ করে ভর্তির
বিজ্ঞপ্তি দেবে।
জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ে শুধু ২০১৯-২০ সালে যারা এইচএসসি
পাস করেছে তাদেরকেই ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে
যারা পাস করেছে তাদের সুযোগ দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীকে দেখতে হবে যে
ভর্তি বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী কোন বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য যোগ্য, তা
দেখে তাকে সংশ্লিষ্ট বিশ^বিদ্যালয়ে আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে
বিশ^বিদ্যালয়গুলো অবশ্যই তাদের শর্তগুলো পূরণ হচ্ছে কি না, সেটি খেয়াল
রাখবে। গুচ্ছ পরীক্ষার নম্বর এবং এসএসসি ও এইচএসসির স্কোর মিলে যারা এগিয়ে
থাকবেন, ভর্তির ক্ষেত্রে তারাই অগ্রাধিকার পাবেন। তবে সব শর্ত মেনে একই
বিভাগে বা বিষয়ে আসন সংখ্যার তুলনায় বেশি আবেদন জমা পড়লে সে ক্ষেত্রে একটি
মেধা তালিকা তৈরি করা হবে। এ ক্ষেত্রে আলাদা করে আর পরীক্ষা নেওয়া হবে না।
বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে মেধা তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে গুচ্ছ পদ্ধতির নম্বর,
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার নম্বর এবং বিভিন্ন বিষয়ে কি পরিমাণ নম্বর ওই
শিক্ষার্থী পেয়েছে, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। এভাবে তৈরি করা মেধা
তালিকায় যারা শুরুর দিকে থাকবেন, তারাই সংশ্লিষ্ট ওই বিশ^বিদ্যালয়ের
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন। গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষায় পাওয়া স্কোর
এবং বিভিন্ন শর্ত দিয়ে বিশ^বিদ্যালয়গুলোর দেওয়া ভর্তি বিজ্ঞাপন বিবেচনায়
নিয়ে শিক্ষার্থীরা যেকোনো বিশ^বিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারবেন। একজন
শিক্ষার্থী চাইলে এবং তার স্কোর ভালো থাকলে সে যেকোনো বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির
আবেদন করতে পারবে। আর স্কোর কম থাকলে পারবে না। একজন শিক্ষার্থী একই সঙ্গে
একাধিক বিশ^বিদ্যালয়েও আবেদন করতে পারবেন।
ষ