গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান

অভিরাজ নাথ

সম্পাদকীয়

বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের দেশে জনসংখ্যার অধিক চাপে পড়ে বেশিরভাগই ফসলি জমি উজাড় করে তৈরি করা হচ্ছে ঘরবাড়ি। প্রতিনিয়ত কাটা হচ্ছে

2021-08-23T13:01:29+00:00
2021-08-23T13:21:07+00:00
 
  সোমবার, ৮ জুন ২০২৬,
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
সম্পাদকীয়
গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান
অভিরাজ নাথ
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১, ১:০১ পিএম  আপডেট: ২৩.০৮.২০২১ ১:২১ পিএম  (ভিজিট : ১২২৮০)
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের দেশে জনসংখ্যার অধিক চাপে পড়ে বেশিরভাগই ফসলি জমি উজাড় করে তৈরি করা হচ্ছে ঘরবাড়ি। প্রতিনিয়ত কাটা হচ্ছে গাছপালা। মানছে না কেউ বন বিভাগের নিয়মনীতি। তাই পরিবেশ আজ হুমকির মুখে। এভাবে ব্যাপকহারে গাছপালা ও ফসলি জমি বিলীন হতে থাকলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শুধু তাই নয়, খাদ্য সমস্যাও একসময় প্রকট আকার ধারণ করবে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। আগের দিনে চারদিকে যে গাছপালা দেখা যেত, তার তিন ভাগের একভাগও এখন দেখা যায় না। এমন চলতে থাকলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে। এমনিতে বর্ষা মৌসুমে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলই পানিতে প্লাবিত হয়।

সবুজ-শ্যামল এ দেশটা আগের মতো আর নেই। যেসব গুণের কারণে আমাদের এ দেশকে সবুজ-শ্যামল বলা হতো তার বেশিরভাগেই ছিল চারদিকে ঘন গাছপালা আর সবুজের সমারোহ। এখন সেই সবুজ-শ্যামল রূপ খুব কমই চোখে পড়ে। গাছপালা ও ফসলি জমি ধ্বংসের কারণে পাখপাখালিও আগের মতো আর তেমন দেখা যায় না। গাছপালা কাটার ফলে পাখিদের আশ্রয়স্থলও কমে যাচ্ছে। অতিথি পাখির আগমনও সমীচীন হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়তই এভাবে গাছপালা কেটে উজাড় করতে থাকলে পাখিদের বংশ বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বেপরোয়াভাবে কেউ গাছ কাটলে আগের মতো তেমন কোনো প্রতিবাদও হয় না এখন। ফলে নির্বিচার বৃক্ষনিধনের মিছিলে নেমে পড়ছে ভূমিখেকো চক্র। তাই পরিবেশগত সমস্যা দৈনন্দিন বেড়েই চলেছে। ‘গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান’– এই হোক আমাদের প্রাণের স্লোগান। ফসলি জমি রক্ষা করতে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমাদের ছোট দেশটিতে এভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে ফসলি জমি ধ্বংস করে সবাই ঘরবাড়ি নির্মাণ করবে এটাই স্বাভাবিক।

ফসলি জমি ও গাছপালা বিনষ্ট করে দালানকোঠা নির্মাণ করার ফলে একসময় দেশে ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। তা ছাড়া এভাবে গাছপালা কমতে থাকলে মানুষ প্রাকৃতিক অক্সিজেনের চাহিদায় ভুগবে। বিশুদ্ধ বাতাসের অভাবে আমাদের শরীরে বিভিন্ন রোগের সূত্রপাত হবে। তাই আমাদের সবার উচিত জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা। এর ফলে গাছপালা কাটা বন্ধ হবে, দেশ আবার পূর্বের রূপে সবুজ-শ্যামল হয়ে উঠবে।

আগের দিনগুলোতে গাছে গাছে যে পরিমাণ ফল পাওয়া যেত, এখন আর সে পরিমাণ ফল পাওয়া যায় না। তখন গ্রামাঞ্চলে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারা, সফেদা, লেবু, সুপারি, নারিকেলসহ নানা প্রজাতির ফল উৎপাদিত হতো। এখন যে পরিমাণ ফল উৎপাদন হয়, তা দিয়ে মানুষের চাহিদাই পূরণ হয় না। কেননা এসব গাছ এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। ফলবান বৃক্ষনিধন করে মানুষ বসতি গড়ে তুলছে।

আজকের দিনে লক্ষ করলে দেখা যায় শিশু-কিশোরদের কাছে আগের দিনের ফল-ফলাদির কথা বললে তারা কেন জানি বিশ্বাসই করতে চায় না। সেই দিন আবার আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন অধিক হারে বৃক্ষরোপণ। তবেই পূর্বের মতো গাছে গাছে, ফুলে-ফলে ভরে উঠবে আমাদের বাড়ির আঙিনা। শিক্ষপ্রতিষ্ঠানে, বাড়ির আঙিনায়, রাস্তার পাশে গাছ লাগানোর কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে। বৃক্ষনিধনের কর্মযজ্ঞ এরূপ চলমান থাকলে মানবজীবন এক দিন ঠিকই হুমকির মুখে পড়বে, পরিবেশের বিপর্যয় ঘটবে, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, পৃথিবী ধ্বংসের মুখোমুখি হবে। তাই অধিক হারে গাছ লাগিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

লেখক : শিক্ষার্থী, তৃতীয় বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ
ওমর গনি এমইএস কলেজ, চট্টগ্রাম

/এসএ/


Loading...
Loading...
সম্পাদকীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: