গণতন্ত্র চর্চায় তরুণসমাজকে উদ্বুদ্ধ করা দরকার

প্রসেনজিৎ কুমার রোহিত

সম্পাদকীয়

শত ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও এখনও প্রকৃত স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। স্বাধীনতার দীর্ঘদিনেও

2021-09-21T08:50:35+00:00
2021-09-21T08:50:35+00:00
 
  বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬,
৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
সম্পাদকীয়
গণতন্ত্র চর্চায় তরুণসমাজকে উদ্বুদ্ধ করা দরকার
প্রসেনজিৎ কুমার রোহিত
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৮:৫০ এএম   (ভিজিট : ৭৫৬)
শত ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও এখনও প্রকৃত স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। স্বাধীনতার দীর্ঘদিনেও আমরা গণতন্ত্রের স্বাদ পাইনি। আমাদের দেশের গণতন্ত্র মূলত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দিন দিন ভেঙে পড়ছে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার বিদ্বেষ মূলত এই অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থা তৈরি করতে হবে। রাজনীতিকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার না করে সমগ্র জাতির কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে।

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সমুজ্জ্বল সম্ভাবনাময় একটি রাষ্ট্র বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এদেশের সফলতা ও ব্যর্থতা দুটোই বেশ আলোচিত। রাষ্ট্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রাজনীতি। বলা যায়, রাষ্ট্রের ছোট থেকে বড় সব বিষয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তরুণপ্রজন্মই পারে আধুনিক চিন্তা ও মননশক্তি দিয়ে কাজের প্রসার ঘটানো, বেকারত্ব ও গোঁড়ামিমুক্ত স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে। আর তাই প্রয়োজন তরুণপ্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা। ইতিহাস বলে, অসাম্প্রদায়িক বাঙালির মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন হয়েছিল মূর্খতা ও রাজনৈতিক অসচেতনতা থেকে।

তারুণ্যের প্রতি বঙ্গবন্ধুর বিশ্বাস ছিল অবিচল। বঙ্গবন্ধু প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামেই ছাত্র-তরুণ-যুবকদের সম্পৃক্ত করেছেন। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলন, ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪ পর্যন্ত জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ, ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৬ সালের সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসন, ১৯৬৪ সালে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িকতা, ছেষট্টিতে ৬ দফা, উনসত্তরে গণ অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা- সবই বঙ্গবন্ধু তরুণ ও যুবক থাকা অবস্থায়ই করেছেন। আমাদের দেশের বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। আমরা এখনও আমাদের শিশুদের সেভাবে গড়ে ওঠার শিক্ষা দিতে পারিনি। অনেকটাই পরিবারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে শিশুদের বেড়ে ওঠা। ধনী পরিবারের শিশুরা পুষ্টি এবং আনন্দময় শৈশবকাল যতটা পেয়ে থাকে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র কিংবা প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের সেটি হওয়া বা পাওয়ার কোনো বাস্তবতাই নেই।

তারপরও আমাদের দেশ স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ধীরে হলেও দারিদ্র্যের ব্যাপক প্রভাব থেকে অনেকটাই বের হয়ে আসতে শুরু করেছে। এখন আমরা একটি মধ্যম আয়ের দেশে পদার্পণ করেছি। অদূর ভবিষ্যতে আমরা উন্নত দেশে পদার্পণ করতে যাচ্ছি। কিন্তু এই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির বিষয়গুলো একেবারেই আপনা-আপনি ঘটবে না। এটি ঘটবে আমাদের তরুণপ্রজন্মকে আমরা যদি মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। দেশের মোট জনসংখ্যার একটা বড় অংশ তরুণসমাজ। যারা দেশ, সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে নতুন চিন্তা করে, সমাজকে সুখী-সমৃদ্ধ-বৈষম্যহীন করে গড়ে তুলতে চায়। যেখানে দুর্নীতি, অপসংস্কৃতির বদলে সৎ এবং ঝঞ্ঝামুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠবে। উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এক দুরন্ত সময় পার করছে, সেই সময়কে আরও এগিয়ে নিতে সবক্ষেত্রে সবধরনের মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ খুবই জরুরি, সেখানে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারে তরুণরাই।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় যে ভিতের ওপর হয়েছিল, যেই সংস্কৃতির চর্চাকে প্রতিষ্ঠিত করতে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সেই চর্চা থেকে যোজন যোজন দূরে গিয়ে ব্যক্তি তথা গোষ্ঠী স্বার্থ বড় হয়ে ওঠায় রাষ্ট্রের উন্নয়নের গতি শ্লথ হয়েছে, সেই সঙ্গে বারবার থমকে গিয়েছে গণতন্ত্র চর্চার পথ। সবার অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের চর্চা ব্যাহত হয়ে, অগণতান্ত্রিক গোষ্ঠী রাষ্ট্রক্ষমতা দখল নিতে পারার অন্যতম কারণ তরুণদের সরাসরি রাজনীতিবিমুখতা। আমি নিজেও এই তরুণপ্রজন্মের একজন ক্ষুদ্র প্রতিনিধি। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া রোজ অন্যায়-অবিচারগুলো চিন্তাশক্তিকে টলিয়ে দিয়ে যায়। আমি নিজেকে যখন এই সমাজের একজন দাবি করছি তখন এই সমাজের প্রতি একটা দায়বদ্ধতা অবশ্যই আমার আছে।

আমরা ইদানীং সুযোগ পাচ্ছি বেশ ভালো কিছু করার। আশপাশে আছে অনেক ধরনের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যাদের মাধ্যমে আমরা পৌঁছতে পারি সুবিধাবঞ্চিত বা এমন মানুষদের কাছে যাদের সাহায্য প্রয়োজন। সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণও হতে পারে ভালো কিছু করতে পারার একটা মাধ্যম কারণ ইতিবাচক পরিবর্তনই পারে আমাদের দেশকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীতে পরিচিতি দিতে।

বর্তমানে শিক্ষিত তরুণপ্রজন্মের অধিকাংশ রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার প্রসঙ্গ উঠলেই গা এড়িয়ে চলে। দেশের চলমান বৈরী রাজনৈতিক অবস্থার কারণে তারা নিজেদেরকে যুক্ত করতে চান না। তরুণসমাজকে যেভাবেই হোক তাদের দেশের দায়িত্ব নিতে উৎসাহিত করতে হবে। না হলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের প্রস্তাতে হবে। এর দায়ভার আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিকদের নিতে হবে। কারণ তাদের অধিকাংশই এমন ভালো কোনো দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারেননি, যা দেখে তরুণপ্রজন্ম রাজনীতিচর্চায় উদ্বুদ্ধ হবে। কিন্তু এভাবে আর কত দিন? তরুণদের মধ্য থেকে সৎ ও যোগ্যরা যদি রাজনীতির মূলধারায় যুক্ত হতে না পারে, তবে এই রুগ্ণ পরিস্থিতি থেকে উতরানোর সম্ভাবনা খুব কম। এ ক্ষেত্রে দুয়েকজন রাজনীতিক, যারা সুস্থ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তারা রাজনীতির মঞ্চে সঠিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তরুণপ্রজন্মকে রাজনীতিতে উৎসাহী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমেরও যথেষ্ট শক্তিশালী ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। সর্বোপরি তারুণ্যশক্তি নির্ভর দেশ গড়ে তোলার জন্য এবং তাদের গণতান্ত্রিক চর্চায় সাহায্য করার জন্য সংশ্লিষ্টদের এখন থেকেই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ



Loading...
Loading...
সম্পাদকীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: