অবৈধ পথে বেশি যাওয়ায় বৈধ পথে আগ্রহ কম

এসএম আলমগীর

ব্যবসা-বাণিজ্য

বেনাপোল স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বিশ্বাস ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নুরুল আমীন বিশ^াস দীর্ঘদিন ভারতে ইলিশসহ বিভন্ন পণ্য রফতানি করেন। এবারও ৪০ টন

2021-10-04T08:10:19+00:00
2021-10-04T08:10:19+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্যবসা-বাণিজ্য
অবৈধ পথে বেশি যাওয়ায় বৈধ পথে আগ্রহ কম
ভারতে ইলিশ রফতানি
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: সোমবার, ৪ অক্টোবর, ২০২১, ৮:১০ এএম 
বেনাপোল স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বিশ্বাস ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নুরুল আমীন বিশ^াস দীর্ঘদিন  ভারতে ইলিশসহ বিভন্ন পণ্য রফতানি করেন। এবারও ৪০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি পেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু গতকাল শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ভারতে ইলিশ রফতানি করেছেন অর্ধেক, অর্থাৎ মাত্র ২০ টন। তার মতো যে ১১৫ জন রফতানিকারক অনুমতি পেয়েছিলেন তাদের সবার একই অবস্থা। অর্থাৎ এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম ইলিশ রফতানি করেছেন রফতানিকারকরা। কিন্তু এবার এ অবস্থা হলো কেন, জানতে চাইলে নুরুল আমীন সময়ের আলোকে বলেন, সরকার যখন ইলিশ রফতানির অনুমতি দেয়, তার আগে থেকেই অবৈধ পথে ভারতে প্রচুর ইলিশ গেছে। এ জন্য ভারতে এবার ইলিশের চাহিদা কম, এমনকি বাংলাদেশের চেয়ে দামও কম। 

সরকার প্রথম দফায় ২ হাজার ৮০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দেয়। পরে আরও ২ হাজার ৫২০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দুই দফায় ভারতে মোট ৪ হাজার ৬০০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এসব ইলিশ রফতানির জন্য দুই দফায় ১১৫ প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়।

রোববার রাত ১২টা পর্যন্ত ছিল ইলিশ রফতানির শেষ দিন। আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর এবং মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত ভারতে মোট ইলিশ রফতানি হয়েছে ১ হাজার ১৩৭ টন। অর্থাৎ রফতানির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ইলিশ রফতানি কম হয়েছে ৩ হাজার ৪৬৩ টন। মৎস্য অধিদফতরের ফিশারিজ ইন্সপেকশন অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগের পিএসও মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ সময়ের আলোকে এসব তথ্য জানান। তবে যেহেতু রাত ১২টা পর্যন্ত সময়, সে ক্ষেত্রে আরও কয়েক টন রফতানি হতে পারে। 

এদিকে বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শেষ দিন এই বন্দর দিয়ে ভারতে গেছে আরও ১৬৭ মেট্রিক টন ইলিশ।

রোববার রাত ১২টা পর্যন্ত ১৬৭ মেট্রিক টন ইলিশ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে প্রবেশের জন্য গেট পাস নিয়েছে ২০টি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান। এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর ১০৩, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০৯, ২৫ সেপ্টেম্বর ১৮৬, ২৭ সেপ্টেম্বর ২৭৮, ২৮ সেপ্টেম্বর ৮০, ২৯ সেপ্টেম্বর ৯৬, ৩০ সেপ্টেম্বর ১৮ ও শেষ চালানে গতকাল ১৬৭ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে গেল। রফতানি নিষিদ্ধ হলেও দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার ৪০ মেট্রিক টন করে ১১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রফতানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ২০ সেপ্টেম্বর ৫২টি প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার ৮০ এবং ২৩ সেপ্টেম্বর ৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সব ইলিশ রফতানির নির্দেশনা ছিল। কিন্তু সরকারি নির্দেশনায় আজ ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর দেশে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ফলে রফতানিকারকরা দেশের বাজারে বা মোকামে ইলিশ পাবে না। এ কারণে গতকালই ইলিশ রফতানি শেষ হয়। 

বিশ^াস ট্রেডার্সের মালিক নূরুল আমিন বিশ^াস এ বিষয়ে আরও বলেন, এবার ভারতে ৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইলিশ রফতানি করার কথা ছিল। কিন্তু বাজারে ইলিশ সঙ্কট থাকায় আপাতত বন্ধ থাকছে। ইলিশ মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষে সরকারের কাছে আবার আবেদন করা হবে। অনুমতি পেলে বাকি ইলিশ ভারতে রফতানি করব।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রতিকেজি ইলিশের রফতানিমূল্য ১০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৫০ টাকা। ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশের কাস্টমস থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলিশের এই চালান ছাড় করানো হচ্ছে।

  বিষয়:   ভারতে ইলিশ রফতানি  ইলিশ 


Advertisement
Loading...
Loading...
ব্যবসা-বাণিজ্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: