মুসাফাহা ইসলামের একটি সামাজিক আমল। মানুষ অন্য কারও সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সালাম বিনিময়ের পর পরস্পরে মুসাফাহা করে বা হাত মেলায়। এটিকে ইংরেজিতে হ্যান্ডশেক, আরবিতে মুসাফাহা কিংবা বাংলায় করমর্দন বা হাত মেলানো বলা হয়। মুসাফাহা করতে হয় হাতের তালুর সাদা অংশ বা ভেতরের অংশ মিলিত করে। হাতের পিঠের অংশ মিলিয়ে মুসাফাহা নয়। অথবা এক হাতের তালুর অংশ অন্য হাতের পিঠের অংশের সঙ্গে মিলিয়ে মুসাফাহা নয়।
মুসাফাহার মাধ্যমে দুজন মানুষের ভেতর হৃদ্যতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইসলামে মুসাফাহার রয়েছে আলাদা গুরুত্ব। এর মাধ্যমে ঘৃণা দূর হয়, ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা একে অপরের সঙ্গে মুসাফাহা করো, এতে তোমাদের অন্তরে বিদ্যমান প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষ দূর হয়ে যাবে। একে অন্যকে হাদিয়া প্রদান করো, এতে হৃদ্যতা সৃষ্টি হবে এবং শত্রুতা ও ঘৃণা দূরীভূত হবে।’ (আবু দাউদ : ৫২১২)। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, ‘দুজন মুসলমান যখন সাক্ষাতে মুসাফাহা করে, তাদের হাতের বন্ধন মুক্ত হওয়ার আগেই দুজনের গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হয়।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৩/১৪২)
আল্লাহর রাসুল (সা.) এবং সাহাবায়ে-কেরাম নিয়মিত মোসাফাহা করতেন। হজরত আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর কাছে কেউ এলে তিনি তার সঙ্গে মুসাফাহা করতেন। (তিরমিজি)। অন্য বর্ণনায় এসেছে রাসুল (সা.) বলেন, ‘দুজন মুমিন পরস্পরে সাক্ষাৎ হলে, যদি সালাম বিনিময়ের পর মুসাফাহা করে তা হলে গাছের পাতা যেভাবে ঝরে পড়ে সেভাবে তাদের হাতের গুনাহগুলো ঝরে পড়ে।’ (তাবরানি)। বিখ্যাত তাবেয়ি কাতাদাহ (রহ.) বলেন, আমি আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, সাহাবাদের আমলে কি তাদের মধ্যে মুসাফাহার প্রচলন ছিল? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ। (বুখারি : ৬২৬৩)। মুসাফাহা করতে হয় দুই হাতে। ইমাম বুখারি (রহ.) তার সহিহুল বুখারিতে ‘অনুমতি গ্রহণের অধ্যায়ে’ একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) নিজের দুই হাতের মধ্যে আমার হাতকে ধারণ করে আমাকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিয়েছেন। (বুখারি : ২/৯২৬)।
কারও সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রথমে সালাম দেওয়া। তারপর সুযোগ হলে হাত মিলিয়ে মুসাফাহার মাধ্যমে সালামকে পরিপূর্ণ করা। হজরত আব্দুুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সালামের পরিপূর্ণতা হলো মুসাফাহা।’ (তিরমিজি : ২৭৩০)। মুসাফাহার আদব সম্পর্কে হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, ‘রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভ্যাস ছিল, কোনো ব্যক্তি এগিয়ে এলে তিনি মুসাফাহা করতেন। সে ব্যক্তি হাত না সরানো পর্যন্ত তিনি নিজের হাত সরাতেন না এবং চেহারা না ফেরানো পর্যন্ত তিনি মুখ ফেরাতেন না। সঙ্গে উপবিষ্ট লোকদের সামনে দুই হাঁটু ছড়িয়ে বসতেন না।’ (তিরমিজি : ২৭২৭)। মুসাফাহা করার সময় ঝাঁকি নয় বরং স্বাভাবিকভাবে উভয়ের ডান হাত মেলানো। (আবু দাউদ : ৫২১২)। এর বাইরে ঝাঁকি দেওয়া বাড়াবাড়ি বৈ কিছু নয়। মুসাফাহা করার সময় নির্ধারিত কোনো দোয়া পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে হাদিসে আল্লাহর প্রশংসা ও ইসতিগফার করার কথা বলা হয়েছে।