চলার পথে মানুষ শত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। সময় করে সেসব পরিস্থিতি আবার কাটিয়েও উঠে। ভালো-মন্দ ঘিরে থাকাই দুনিয়ার নিয়ম। স্বাভাবিকভাবে মানুষকে সুখের ছায়া দেখার পূর্বে দুঃখ বা কষ্টের সঙ্গে মোলাকাত করতে হয়। আর এটাই সাফল্যের অন্যতম রীতি। যেমনটি পবিত্র কোরআনে বিবৃত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে সুখ।’ (সুরা ইনশিরাহ : ৫-৬)। মানুষ কখনও সুখের সঙ্গে মোলাকাত করবে, আবার কখনও দুঃখের সঙ্গে। কখনও তুচ্ছ কিছুর ফলে পরীক্ষিত হবে আবার কখনও বড় ক্ষতির মাধ্যমে। কারণ পৃথিবীতে আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করবেন বিভিন্ন উপায়ে। কিন্তু ধৈর্য এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অধৈর্যের ফলে অধিকাংশ মানুষই রবের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না। এ জন্য আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর মানুষ খুবই অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা বনি ইসরাঈল : ৬৭)
তাই রবের প্রতি সর্বদা কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। রবের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার একটি মাধ্যম হলো যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর কথা স্মরণ করা। প্রতিটি মুহূর্তে এই মাধ্যমটি যদি অনুসরণ করা যায়, তা হলে রবের প্রতি অকৃতজ্ঞ হতে হবে না। যেমন পথ দিয়ে চলার সময় হোঁচট খেলে আল্লাহর কথা স্মরণ করা। গাছের ডাল ভেঙে সামনে বা পেছনে পড়লে আল্লাহর কথা স্মরণ করা। কেননা সে ডাল হতে পারত ক্ষতির কারণ, আল্লাহ রক্ষা করেছেন। অসুস্থ হলেও আল্লাহর কথা স্মরণ করা। কারণ ওই অসুস্থতা হয়তো গুনাহ মোচনের একটি মাধ্যম। কিংবা যদি ওই অসুস্থতা মৃত্যুর কারণ হয়, তা হলে সেটা তওবা করার একটি সুবর্ণ সুযোগ।
সাময়িক অভাবের মধ্য দিয়ে চলার অবস্থা তৈরি হলেও আল্লাহর কথা স্মরণ করা। কারণ রব হয়তো পরীক্ষা নিচ্ছেন। কোনো অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার সম্মুখীন হলেও আল্লাহর কথা স্মরণ করা। হয়তো এতে কল্যাণ নিহীত আছে যা কল্পনার অতীত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর জেনে রাখো, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি তো এক পরীক্ষা। আর নিশ্চয় আল্লাহ, তাঁরই কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার।’ (সুরা আনফাল : ২৮)
কোনো প্রতিবন্ধীর প্রতি চোখ পড়লে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। কারণ আপনি তার চেয়েও উত্তম অবস্থানে আছেন। কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখলে শুকরিয়া আদায় করা। কেননা আপনি এখনও সুস্থ আছেন। কোনো দুঃসংবাদ শুনলেও শুকরিয়া আদায় করুন। কারণ দুঃসংবাদটা আপনার হয়নি। নামাজ, জাকাত, রোজা, হজ ও কোরবানি করে থাকলেও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। কারণ আল্লাহ আপনাকে দ্বীনের কাজ করার তওফিক দিয়েছেন।
যত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন না কেন, ভেবে নিন সেগুলো হচ্ছে আপনার জন্য পরীক্ষা। হয়তো আল্লাহ তায়ালা আপনাকে তুচ্ছ কিছু দিয়ে পরীক্ষায় ফেলছেন। উপরিউক্ত পরিস্থিতিগুলো তৈরির মাধ্যমে হয়তো আল্লাহ আপনাকে পরীক্ষা করছেন। কারণ তিনি চান যে, আপনি শুকরিয়া আদায় করেন কি না, আল্লাহর কথা স্মরণ করেন কি না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর আমার শোকর আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ (সুরা বাকারা : ১৫২)। আসলে সর্বাবস্থায় রবের শুকরিয়া আদায় করা বান্দার একান্ত অপরিহার্য। আর শুকরিয়া আদায়ের জন্য একটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যেকোনো পরিস্থিতির শিকার হলে আল্লাহর কথা স্মরণ করা। আল্লাহ বোঝার ও আমল করার তওফিক দান করুন।