ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)।
জানা গেছে, দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (এনআইএ)-এর মুম্বাই শাখায় ইমেল করে প্রধানমন্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আর মোদিকে হত্যা করতে বিপুল পরিমাণে আরডিএক্স মজুদ আছে বলেও দাবি করা হয়েছে ওই মেলটিতে।
জানানো হয়েছে, দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরেই নাকি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করা হতে পারে বলে খবর। যে ব্যক্তি ইমেল মারফত প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ আরও কয়েক লাখ মানুষকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। পাশাপাশি মোদিকে হত্যার পরই নিজেও আত্মহত্যা করবেন বলে জানিয়েছেন। যাতে এই ঘটনার পিছনে কারা জড়িত বা খুনের মোটিভ আর কেউ জানতে না পারেন। কোনভাবেই তা সামনে না আসে।
ওই ইমেলে তিনি লেখেন আমি যত দ্রুত সমম্ভব মোদিকে হত্যা করতে চাই এবং বোমা মেরে এই প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করতে চাই, তিনি আমার জীবনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমি কাউকে ছাড়বো না, বিশ মিলিয়নের বেশি মানুষকে আমি হত্যা করবো। ইমেলে আরও দাবি করা হয়, মোদিকে হত্যার জন্য ২০ জনের একটি স্লিপার সেলকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ওই স্লিপার সেলের কাছেই মজুদ রাখা হয়েছে প্রায় ২০ কিলোগ্রাম আরডিএক্স।
সেখানে লেখা হয়, আমি কয়েকজন সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি, তারা আরডিএক্স দিয়ে সহায়তা করেছে। আমি খুশি যে খুব সহজেই আমার হাতে অনেক বোমা চলে এসেছে। এখন আমি যে কোনো জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটাতে পারি...। আমি পরিকল্পনা নিয়ে ফেলেছি... ২০টা স্লিপার সেলকে সক্রিয় করা হবে এবং কয়েক লাখ মানুষকে হত্যা করা হবে।
সেখানে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়া হয়, আপনি যদি আমাকে থামাতে চান তবে চেষ্টা করে দেখুন। আমি সব জায়গাতেই হামলার পরিকল্পনা নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রীর মতো একজন হাইপ্রোফাইল ভিভিআইপিকে হত্যার হুমকি দিয়ে এই ইমেল সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। মেলের বিষয়বস্তু দেখে গোয়েন্দাদের অনুমান মোদির ওপর মাত্রারিক্ত বিদ্বেষের কারণেই ওই হুমকির মেলটি করা হয়েছে। যদিও এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে রাজি নয় তারা। ইতিমধ্যেই ওই মেলটি দেশটির অন্য তদন্তকারী এজেন্সিগুলির কাছেও পাঠিয়ে দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। সাইবার এক্সপার্টদের পরামর্শ নিয়ে ওই ইমেল কোথা এসেছে সেই আইপি ঠিকানাটি সন্ধানের চেষ্টা চলছে। এর পিছনে কোন জঙ্গি সংগঠন জড়িত আছে না-কি নিছকই একটি মজা- তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে গোয়েন্দারা।
এবিষয়ে মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিলীপ ওয়ালস পাতিল জানান, কেউ যদি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দেয়, তবে সেটা ঠিক নয়। মহারাষ্ট্র থেকে ওই হুমকি মেল পাঠানো হলে তার যথাযথ তদন্ত করে দেখারও আশ্বাস দেন তিনি।
/আরএ