অবৈধ সম্পর্কের ভয়াবহ পরিণতি

আবদুর রশীদ

ইসলামের আলো

ভালোবাসা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। প্রতিটি সৃষ্ট প্রাণীর মধ্যে নানা প্রকৃতির ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে। পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিত-অপরিচিত সবার মাঝে

2022-05-16T05:02:38+00:00
2022-05-16T05:02:38+00:00
 
  বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
অবৈধ সম্পর্কের ভয়াবহ পরিণতি
আবদুর রশীদ
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মে, ২০২২, ৫:০২ এএম   (ভিজিট : ২৮৩৫)
ভালোবাসা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। প্রতিটি সৃষ্ট প্রাণীর মধ্যে নানা প্রকৃতির ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে। পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিত-অপরিচিত সবার মাঝে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা এক মহা প্রাকৃতিক নিয়ম। ভিন্ন পরিস্থিতিতে ভিন্ন রকম ভালোবাসার সূচনা হয়। অসহায়, মজলুম, বিপদগ্রস্ত, বন্ধু, আত্মীয়, প্রতিবেশী, পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু সব ভালোবাসার সৃষ্টি কেবল হালালের জন্য। আল্লাহ তায়ালা যেমন ভালোবাসা সৃষ্টি করেছেন, তেমনই তার ব্যবহারের বিধানও দিয়েছেন। যখন সঠিক স্থানে প্রয়োগের পরিবর্তে অনুপযুক্ত স্থানে প্রয়োগ হয়, তখন বিপর্যয় ঘটে।

সর্বপ্রকার ভালোবাসার মধ্যে একটি হলো নারী-পুরুষের পরস্পর ভালোবাসা। দুর্ভাগ্যবশত তা কেবল অন্যায় পথেই বেশি ব্যবহৃত হয়। ভালোবাসা হালাল, যদি স্ত্রীর সঙ্গে হয়। অপরদিকে ভালোবাসা হারাম যদি পর-নারী বা পরপুরুষের সঙ্গে হয়। বর্তমান নারী-পুরুষের বিবাহবহির্ভূত ভালোবাসার সম্পর্ক একটি মারাত্মক অবৈধ সম্পর্কের মিলনমেলা, যার আড়ালে বিদ্যমান নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনা। এই অবৈধ সম্পর্ক কেবল একটি অপরাধে সীমাবদ্ধ রাখে না, বরং হাজার অপরাধের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটায়। অবৈধ সম্পর্ক পরিবার ধ্বংসের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে একটি। কখনও কখনও বিয়ে বিচ্ছেদ পর্যন্ত ঘটায় এসব সম্পর্ক।
 
এসব প্রেম-ভালোবাসা থেকে মুক্ত থাকতে হবে। নারী-পুরুষ উভয়কে আল্লাহভীরু হতে হবে। পরকালে এই অপরাধের জন্য কী শাস্তি হবে, তা সর্বদা মাথায় রাখতে হবে। বিশেষ করে নিজের চোখ-কান এবং মুখ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘মুমিন পুরুষদেরকে বলো, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত। আর মুমিন নারীদেরকে বলো, যেন তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে না। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজেদের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীরা, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে, অধীনস্থ যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারও কাছে নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজেদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ (সুরা নূর : ৩০-৩১)।

আল্লাহ তায়ালা অন্যত্রে ইরশাদ করেন, ‘আর তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেও না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।’ (সুরা বনি ইসরাঈল: ৩২)। যারা এসব অপরাধে জড়ায় তাদের বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের প্রত্যেককে একশটি করে বেত্রাঘাত করো। আর যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাক তবে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে পেয়ে না বসে। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।’ (সুরা নূর : ২)। একবার যদি কেউ এমন শাস্তির সম্মুখীন হয়, তাহলে দ্বিতীয়বার কারও এমন অবৈধ পথে পা রাখার সাহস হবে না। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, মুসলিম তরুণ-তরুণী ভাই ও বোনদের দ্বীন বোঝার এবং ঘৃণ্য এই অবৈধ সম্পর্ক থেকে বেঁচে থাকার তওফিক দান করেন।




Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: