পৃথিবীতে মানুষের প্রধান দায়িত্ব আল্লাহর ইবাদত করা। আবশ্যকীয় ইবাদতের পাশাপাশি যাপিত জীবনের ছোট ছোট বিধানের ভেতর দিয়ে সংগ্রহ করা যায় পরকালের পাথেয়। আবার সাধারণ কিছু ভুলে পরিণাম হয় অনেক ভয়াবহ। পরকালে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। বান্দার কর্তব্য, সব বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকা।
ইস্তেঞ্জায় অসতর্কতা : প্রস্রাব-পায়খানার চাপ থেকে মুক্ত হওয়াকে বলা হয় ‘ইস্তেঞ্জা’। ইসলাম পবিত্রতার ধর্ম। পবিত্রতার ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান লক্ষ রাখা খুবই জরুরি। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘একদিন রাসুল (সা.) দুটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তখন তিনি বললেন, এদের আজাব দেওয়া হচ্ছে। তবে সে আজাব কঠিন কোনো কারণে হচ্ছে না। (অর্থাৎ যা থেকে বিরত থাকা ওদের জন্য কঠিন ছিল) এদের একজন প্রস্রাব থেকে সতর্ক থাকত না। অন্যজন চোগলখোরি করে বেড়াত।’ (বুখারি : ২১৬)।প্রস্রাব-পায়খানার ক্ষেত্রে পবিত্রতার মূল বিষয় হলো নাপাকি দূর করা। নাপাকি দূর হয় পানির মাধ্যমে। তবে সর্বোত্তম হলো পানি ব্যবহারের পূর্বে টিস্যু ব্যবহার করা।
নামাজে অবহেলা : ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ। কোরআন ও হাদিসে নামাজ তরককারীর প্রতি কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন বান্দা ও শিরকের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ বর্জন করা। অতএব যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করল, সে অবশ্যই শিরক করল।’ (ইবনে মাজা : ১০৮০)। কোরআনে এসেছে, পরকালে জাহান্নামিদের জিজ্ঞাসা করা হবে, ‘তোমাদেরকে কোন জিনিস জাহান্নামে দাখিল করেছে?’ তারা বলবে, ‘আমরা নামাজ আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।’ (সুরা মুদ্দাসসির : ৪১-৪৬)
হজ পালনে বিলম্ব করা : হজ একটি আর্থিক ও শারীরিক ইবাদত। এ দুটোর সমন্বয় হলে বিলম্ব করা অনুচিত। সুযোগ সত্ত্বেও পরিত্যাগ করা কবিরা গুনাহ। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘মানুষের মধ্যে যারা সেখানে (বায়তুল্লাহ) পৌঁছার সামর্থ্য রাখে তাদের ওপর আল্লাহর উদ্দেশে এ গৃহে হজ করা আবশ্যক। আর কেউ যদি অস্বীকার করে তাহলে তোমাদের জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি মুখাপেক্ষী নন।’ (সুরা আলে ইমরান : ৯৭)। হজ করার শক্তি-সামর্থ্য ও অর্থবিত্ত থাকার পরও যে ব্যক্তি হজ করে না তার সম্পর্কে হাদিস শরিফে কঠোর হুমকি প্রদান করা হয়েছে। বলা হয়েছেÑ ‘যে ব্যক্তি হজ করার সামর্থ্য রাখে, তবুও হজ করে না সে ইহুদি হয়ে মৃত্যুবরণ করল কি খ্রিস্টান হয়ে, তার কোনো পরোয়া আল্লাহর নেই।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির : ১/৫৭৮)
জাকাত আদায়ে গড়িমসি : জাকাত ইসলামের এমন এক অকাট্য বিধান, যে বিষয়ে দলিল-প্রমাণের আলোচনা নিষ্প্রয়োজন। যাদের ওপর জাকাত ফরজ তারা তা আদায় না করলে কবিরা গুনাহগার হিসেবে সাব্যস্ত হবে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তিকে আল্লাহ ধনসম্পদ দান করেছেন আর সে ধনসম্পদের জাকাত আদায় করেনি সেই সম্পদ কেয়ামতের দিন মাথায় টাক পড়া সাপে পরিণত হবে। এ সাপের দুচোখের ওপর দুটি কালো দাগ থাকবে (অর্থাৎ খুবই বিষধর সাপ)। এরপর এ সাপ গলায় বেড়ি হয়ে সেই ব্যক্তির দুই চোয়াল আঁকড়ে ধরে দংশন করবে আর বলবে, আমি তোমার মাল আমি তোমার সঞ্চিত সম্পদ!’ (বুখারি : ১৪০৩)। জাকাত সারা বছরের আমল। রমজানের জন্য নির্দিষ্ট নয়। তাই যখন নেসাব পূর্ণ হয়, তখনই দিয়ে দেওয়া কর্তব্য।
/এসকে