নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য শরীর, কাপড় ও নামাজের স্থান পাক-পবিত্র হওয়া আবশ্যক। তবে অনেক সময় নাপাক লেগে যায়। নাপাকের একটি পরিমাণ আছে। অর্থাৎ কিছু পরিমাণ নাপাক লাগলে নামাজ হয়ে যাবে। ফুকাহায়ে কেরাম নাপাককে দুই ভাগে ভাগ করেন। ১. নাজাসাতে গলিজা অর্থাৎ ভারি নাপাক ও ২. নাজাসাতে খফিফা অর্থাৎ হালকা নাপাক। রক্ত, গোবর ও মানুষের প্রস্রাব নাজাসাতে গলিজার অন্তর্ভুক্ত। নাজাসাতে গলিজা যদি কাপড়ে বা শরীরে লাগে এবং তা তরল হয় (যেমন, প্রস্রাব) তা হলে সেক্ষেত্রে তা যদি দিরহামের আয়তন (অর্থাৎ হাতের তালুর গভীরতা সমপরিমাণ)-এর কম হয় অথবা নাপাকি শক্ত হলে যেমনÑ গোবর তা যদি দিরহামের ওজন (বর্তমান মেট্রিক হিসাবে যা ৩.০১৬৮ গ্রাম)-এর চেয়ে কম হয় তা হলে তা না ধুয়ে নামাজ পড়লে নামাজ সহিহ হয়ে যাবে। তবে এ পরিমাণ অল্প নাপাকিও ধুয়ে নেওয়া ভালো। তাই সাধারণ অবস্থায় এ পরিমাণ নাপাকি নিয়ে নামাজ পড়া অনুত্তম।
আর যদি নাপাকি দিরহামের সমপরিমাণ হয় তা হলে তা ধুয়ে ফেলা ওয়াজিব। এ অবস্থায় নামাজ পড়া মাকরুহ তাহরিমি। তাই কেউ এ অবস্থায় নামাজ পড়লে সে নামাজ আবার পড়ে নেওয়া ওয়াজিব হবে। ইবরাহিম নাখায়ী (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রক্ত-প্রস্রাব ইত্যাদি নাপাকি যদি দিরহাম পরিমাণ হয় তা হলে তোমার নামাজ পুনরায় পড়ে নাও। আর যদি দিরহামের কম হয় (এবং তুমি নামাজে থাকো) তা হলে ওই অবস্থায়ই তোমার নামাজ পূর্ণ করো। (কিতাবুল আসার, ইমাম মুহাম্মাদ : ১৪৬)। সায়িদ ইবনে মুসাইয়িব, হাম্মাদ, যুহরি (রহ.) প্রমুখ তাবেয়ি থেকেও এমনটি বর্ণিত আছে। (মুসান্নাফ ইবনে আবি
শাইবা : ৩৯৭৮)। আর যদি নাপাকি দিরহামের চেয়ে বেশি হয় তা হলে সে নাপাকি ধুয়ে ফেলা আবশ্যক। এ পরিমাণ নাপাকি নিয়ে নামাজ পড়লে নামাজ হবে না। (ইলাউস সুনান : ১/৪০৫; আলবাহরুর রায়েক : ১/২২৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া : ১/৮৭)