বাংলাদেশসহ সমগ্র পৃথিবীতে বায়ু দূষণের ফলে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। এ কারণে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন সময়ে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও খড়াসহ ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ছে। জলবায়ুর এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ ইটভাটার কালো ধোঁয়া। বাংলাদেশের বায়ু দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ ইটখোলার ধোঁয়া।
ইটের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশকে বাঁচাতে দেশে প্রথম শরীয়তপুর জেলার পর নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার হাজীগঞ্জে অটোমেটিক মেশিনের মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব (ইকো ব্লক) ইট তৈরি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) নীলফামারীর ডালপট্টিতে ইকো হোম সল্যুশন লিমিটেড ইকো ব্লক তৈরির কোম্পানি তাদের অফিসে ইকো ব্লকের ব্যবহার বৃদ্ধি ও এর প্রয়োজনীয়তা এবং এর উদ্বোধনী ও অবহিতকরন সভার আয়োজন করে।
উক্ত সভায় ইকো হোম সল্যুশন লিমিটেডের সিইও জেরাল্ড হল্টভেলুয়ার (বেলজিয়াম) বলেন, এই ইট তৈরিতে মাটি, বলি এবং সিমেন্টের মিশ্রণকে একটি আধুনিক মেশিনে অধিক উচ্চচাপ প্রদানের মাধ্যমে ব্লক তৈরি করা হয়। এই ইটের বৈশিষ্ট্য হলো- এটি দেখতে সুন্দর। এই ইট দিয়ে বাড়ি বানালে দেয়াল আর প্লাস্টার করার প্রয়োজন পড়ে না। তাপমাত্রা ধরে রেখে ঘর শীতকালে গরমে এবং গ্রীষ্মকালে ঠাণ্ডা রাখে এই ইট। এটি তৈরি করতে আগুন পোড়ানোর প্রয়োজন হয় না তাই পরিবেশ দূষিত হয় না।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে, ইকো হোম সল্যুশন লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইউলিয়াম গিজ জানান, আমাদের ইকো ব্লক আকারে পোড়া ইটের তুলনায় ১.৭ গুণ বড়। এই ব্লকের দেয়াল প্লাস্টার করার প্রয়োজন হয় না। প্রতি ১০০ বর্গফুট দেয়াল নির্মাণে অনেক কম ব্লকের দরকার হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নীলফামারী চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লি. সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সফিকুল আলম ডাবলু বলেন, আমি জানতে পেরেছি, বাংলাদেশ সরকার ২০২৪ সালের মধ্যে কয়লায় পোড়ানো ইটভাটা সীমিত আকারে চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার মতে (ইকো ব্লক) ইট ব্যাপক ভাবে চালু হলে বাংলাদেশে পরিবেশ বিপর্যয় অনেকাংশে কমে যাবে।
/ডিএফ