সন্তানের ওপর মা-বাবার সন্তুষ্টি জরুরি

মুফতি তাকি উসমানী

ইসলামের আলো

সন্তানের জন্য মা-বাবার ছায়া আল্লাহর বিশেষ রহমত। সন্তান যদি মা-বাবার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করে তাহলে সন্তানের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে

2022-08-17T04:48:02+00:00
2022-08-17T04:48:02+00:00
 
  শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
সন্তানের ওপর মা-বাবার সন্তুষ্টি জরুরি
মুফতি তাকি উসমানী
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২, ৪:৪৮ এএম   (ভিজিট : ১১৬৬)
সন্তানের জন্য মা-বাবার ছায়া আল্লাহর বিশেষ রহমত। সন্তান যদি মা-বাবার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করে তাহলে সন্তানের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে সৌভাগ্য আবির্ভূত হবে। অন্যথায় আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন। কেননা, হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘মা-বাবার সন্তুষ্টিতেই আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং মা-বাবার অসন্তুষ্টিতেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি।’ (তিরমিজি : ২/১২)। আমাদের মা-বাবা আমাদের ওপর সন্তুষ্ট আছেন কি?- এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি নয় কি?

মা-বাবার সেবার গুরুত্ব
মা-বাবার সেবা-যত্ন ও তাদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার অনেক মর্যাদাপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠতম পুণ্যের কাজ। হাদিসে এসেছে, ‘এক সাহাবি নবীজি (সা.)-এর কাছে এসে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে নবীজি (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, মা-বাবা জীবিত আছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবীজি বললেন, তাদের সেবা-যত্নের জিহাদে নিজেকে নিয়োজিত করো।’ (বুখারি : ৩০০৪)।
 
বিখ্যাত তাবেয়ি হজরত উয়াইস কারনি। নবীজি (সা.) তাকে শ্রেষ্ঠ তাবেয়ি উপাধি দিয়েছেন এবং হজরত ওমর (রা.)-কে অসিয়ত করেছেন- তোমার কাছে ইয়েমেন থেকে উয়াইস নামের এক ব্যক্তি আসবে, তাকে দিয়ে দোয়া ও ইসতেগফার করাবে। (মুসলিম : ২৫৪২)। হজরত ওমর (রা.)-এর মতো একজন মর্যাদাবান সাহাবি, যাবে নবীজি জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, তাকে দোয়া চাইতে বলেছেন ইয়েমেনের উয়াইস (র.)-এর কাছে, এমন মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী তিনি কীভাবে হলেন? এর কারণ হচ্ছে- নবীজি (সা.) জীবিত থাকা অবস্থায়ই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সাহাবি হওয়ার গৌরবকে কোরবান করেন শুধু মায়ের খেদমতের কারণে। তিনি ছাড়া তার মায়ের খেদমত করার মতো আর কেউ ছিল না। নবীজির নির্দেশে তিনি মায়ের কাছে থেকে যান। মদিনায় আসেননি। নবীজি (সা.)-কেও দেখতে পারেননি। সাহাবির গৌরব অর্জত করতে পারেননি। তিনি তা বিসর্জন দিয়েছেন শুধু মায়ের সেবায় ব্যত্যয় ঘটবে বলে। এ কারণেই তিনি এত মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন।
 
ইবাদতের পরই মা-বাবার অধিকার 
আল্লাহ তায়ালা সুরা বনি ইসরাইলে ইরশাদ করেছেন- ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাকে ছাড়া কারও ইবাদত করবে না।’ আল্লাহর ইবাদতের নির্দেশের পরপরই তিনি বলছেন- ‘মা-বাবার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করবে।’ এর দ্বারাই বোঝা যায়, মা-বাবার সঙ্গে  সদাচরণের গুরুত্ব কত! এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালার ইবাদতের পরই মা-বাবার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ; তারপর এটাকেই আরও খুলে বলছেন- ‘তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমাদের জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে কখনও ‘উফ’ পর্যন্ত বলো না, তাদেরকে ধমকও দিয়ো না। বরং তাদের সঙ্গে কথা বলো কোমলভাবে। তাদের প্রতি মমতাপূর্ণ আচরণের সঙ্গে তাদের সামনে নিজেকে বিনয়াবনত করো এবং দোয়া করো- হে আমার রব! তারা যেভাবে আমার শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন, তেমনি আপনিও তাদের প্রতি রহমতের আচরণ করুন।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৩-২৪)

মা-বাবার মৃত্যুর পর
হাদিসে এসেছে, কোনো মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে তার আমলনামা বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি কাজ এমন আছে, মৃত্যুর আগে যা করে যেতে পারলে কবরে শুয়ে থেকেও আমলনামায় সওয়াব যোগ হতে থাকবে- ১. ইলম, যা থেকে মানুষ অবিরত উপকৃত হতে থাকবে। ২. সদকায়ে জারিয়া। ৩. নেক সন্তান রেখে যাওয়া, যারা তার জন্য দোয়া করবে। (মুসলিম : ১৬৩১; আবু দাউদ : ২৮৮০)। মা-বাবার জীবদ্দশায় যেমন খুব বেশি বেশি খেদমত ও উত্তম ব্যবহার করা কাম্য, তেমনি তাদের মৃত্যুর পরও কবরে ইসালে সাওয়াব করা; নেক আমল পাঠানো, দোয়া করা, কোরআন খতম করা, নফল সদকা ইত্যাদি আমলের মাধ্যমে নেক সন্তানের পরিচয় দেওয়া। আল্লাহ তো এতে খুশি হবেনই, হাশরের ময়দানে মা-বাবাও অত্যন্ত আনন্দিত হবেন, যা সন্তানের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনতে পারে।
 
আপনজনের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার
মা-বাবার ইন্তেকালের পর দোয়া ও ইসালে সওয়াবের সঙ্গে তৃতীয় আরেকটি কাজের কথা হাদিসে এসেছে। তা হচ্ছে, মা-বাবার প্রিয়জন; ভাই-বোন ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। তাদের সম্মান ও শ্রদ্ধা করা, সাধ্যমতো তাদের খেদমত করে দোয়া নেওয়া। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সদ্ব্যবহার হলো বাবার অবর্তমানে তার বন্ধুদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা।’ (মুসলিম : ২৫৫২; তিরমিজি : ১৯০৩)। আরেকটি হাদিসে এসেছে, এক সাহাবি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার এমন কোনো উপায় আছে কী, যা আমি অনুসরণ করতে পারি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন- হ্যাঁ, চারটি উপায় আছে। তা হচ্ছে-  ১. তাদের জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা। ২. তাদের কৃত ওয়াদা পূরণ করা। ৩. তাদের বন্ধু ও অন্তরঙ্গ ব্যক্তিদের সম্মান করা এবং ৪. তাদের মাধ্যমে তোমার সঙ্গে আত্মীয়তার যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তা অক্ষুণ্ন রাখা।’ (আবু দাউদ : ৫১৪২)। এতে মা-বাবার স্বজন ও বন্ধুদের হৃদয়ের উৎসারিত দোয়া লাভ হয়, তারা কবরে শুয়েও শান্তিতে ও সুখে থাকেন। তাই আমাদের কর্তব্য হচ্ছে, মা-বাবা জীবিত থাকলে খুব বেশি পরিমাণে তাদের খেদমত করা ও দোয়া অর্জন করা আর মৃত্যুবরণ করলে কবরে ইসালে সওয়াব করা। আল্লাহ সবাইকে তওফিক দান করুন।
অনুবাদ : শিহাব সাকিব



  বিষয়:   সন্তান  মা-বাবা 


Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: