চাহিদার অর্ধেক বরাদ্দ দেওয়ায় সার সঙ্কট

জামালপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

চাহিদার অর্ধেক সারের বরাদ্দ দেওয়ায় জামালপুরে কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে সারের সঙ্কট। চাহিদামতো সার না পেয়ে প্রতিদিনই কৃষকরা ক্ষোভ ঝাড়ছেন।

2022-09-07T02:30:11+00:00
2022-09-07T02:30:11+00:00
 
  শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬,
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
সারাদেশ
চাহিদার অর্ধেক বরাদ্দ দেওয়ায় সার সঙ্কট
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ২:৩০ এএম   (ভিজিট : ২৮২)
চাহিদার অর্ধেক সারের বরাদ্দ দেওয়ায় জামালপুরে কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে সারের সঙ্কট। চাহিদামতো সার না পেয়ে প্রতিদিনই কৃষকরা ক্ষোভ ঝাড়ছেন। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। 

সম্প্রতি জ্বালানি তেলসহ কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, ঘনঘন লোডশেডিং ও বৃষ্টিপাত কম হওয়ার প্রভাব পড়েছে চাষাবাদে। এসব কারণে চলতি মৌসুমে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। জেলায় সারের চাহিদার অর্ধেক বরাদ্দ রয়েছে। তাই ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না কৃষকরা। তবে বাড়তি দামে সার মিলছে খুচরা দোকানেÑএমন অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের।

জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো. ছামিউল হক, জাহাঙ্গীর আলম, আলম মিয়া, আব্দুর রহিম জানান, আমন ধান চাষের আগে জমিতে ইউরিয়া, টিএসপি এবং এমপিও সার মিশিয়ে দিতে হয়। সঠিক সময়ে ধানক্ষেতে সার দিতে না পারলে ফলন কম হয়।

স্থানীয় চাষিরা জানান, সার ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে সার বিক্রি করছে। সার ব্যবসায়ীরা প্রতি বস্তা ইউরিয়া ও টিএসপি সার ১২০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকায় এবং এমপিও সার ১৫০০ টাকায় বিক্রি করছেন। ডিলারদের দোকানে সার না পাওয়া গেলেও বাড়তি দামে পাওয়া যায় খুচরা দোকানে, এমনি অভিযোগ কৃষকের। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ জেলায় চলতি সেপ্টেম্বরে ইউরিয়া আট হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন, টিএসপি এক হাজার ৯৩৫ মেট্রিক টন, ডিএপি তিন হাজার ২১৫ মেট্রিক টন,এমপিও তিন হাজার ৭৮৭ মেট্রিক টন সারের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এ চাহিদার বিপরীতে জেলায় কৃষকদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ইউরিয়া চার হাজার ৩৬৫ মেট্রিক টন, টিএসপি ৬৭৫ মেট্রিক টন, ডিএপি এক হাজার ৪২৩ মেট্রিক টন এবং এমপিও এক হাজার ২৭০ মেট্রিক টন। সার বিক্রির জন্য সারা জেলায় সরকার অনুমোদিত ২১৯ জন ডিলার রয়েছে। যারা নিজ নিজ এলাকার কৃষকের কাছে সরকারের নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করবেন।

মেলান্দহ উপজেলার মেঘারবাড়ি এলাকার লুৎফর রহমান জানান, গত বোরো মৌসুমে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সারের মূল্য ছিল ৮০০ টাকা আর এখন এক হাজার ৩০০ টাকা, এমপিও সারের বস্তা ছিল ৭০০ টাকা, এখন তা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০০ টাকা। তিনি বলেন, শ্রমিক, সার সব কিছুর দাম বাড়ছে। আমাদের তো অন্য কোনো উপার্জন নেই। জমি ফেলে রাখলে খাব কী। জমি চাষ করে যে ফসল পাই, সেই উপার্জন দিয়ে জীবন চলা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মেলান্দহ উপজেলার ধানচাষি ইদ্রিস আলী বলেন, ডিলারদের দোকান খোলা থাকে না। তারা সার উত্তোলন করে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেয়। 

নয়ানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ মিয়া বলেন, ‘১২ বিঘা জমিতে ধান লাগাইছি। ধান ছাড়াও সবজির চাষও করছি। ধান ও সবজির ক্ষেতে দেওয়ার জন্য সার দরকার। ডিলাররা সার দেয় না। এক ছটাক সারও পাচ্ছি না। সার না দিলে ধান ও সবজি নষ্ট হয়ে যাবে।’  ন্যায্যমূল্যে খোলাবাজারে সারের বিক্রির দাবি জানান এ ধান চাষি।

মেলান্দহ উপজেলার ভাবকি বাজারের সার ব্যবসায়ী রিফাত জানান, কৃষকের কাছে থেকে রসিদের মাধ্যমে সারের দাম নেওয়া হয়। বাড়তি দামে সার বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফাহাদ আল রাব্বানী বলেন, সারের কোনো সঙ্কট নেই। কৃষকদের সরকারের নির্ধারিত দামে সার দিতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃষি কার্ড ও ভোটার আইডি কার্ডের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে সার দেওয়া হচ্ছে।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জাকিয়া সুলতানা বলেন, চলতি মৌসুমে এক লাখ ৯৭০০ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৯১ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমন ধান চাষের কিছুটা সমস্যা হলেও কৃষকরা সম্পূরক সেচের মাধ্যমে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন। কৃষকদের সব ভোগান্তি দূর করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সব সময় সচেষ্ট থাকবে বলেও তিনি জানান।

/আরএ



Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: