পাঁচ প্রকার নামাজ আদায়কারী

মুহাম্মদ তোহা হুসাইন

ইসলামের আলো

ইসলামের অন্যতম ভিত্তি নামাজ। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তির নামাজ ঠিক হয়ে গেল, তার পুরো জীবন ঠিক হয়ে গেল। প্রতিদিন

2022-09-13T03:39:22+00:00
2022-09-13T03:39:22+00:00
 
  বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
পাঁচ প্রকার নামাজ আদায়কারী
মুহাম্মদ তোহা হুসাইন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৩:৩৯ এএম   (ভিজিট : ৭৫৫)
ইসলামের অন্যতম ভিত্তি নামাজ। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তির নামাজ ঠিক হয়ে গেল, তার পুরো জীবন ঠিক হয়ে গেল। প্রতিদিন পাঁচ বেলা সঠিক পদ্ধতিতে খুশু-খুজুর সঙ্গে নামাজ পড়লে দুনিয়া-আখেরাত হবে সুখময়। নামাজ ছেড়ে দেওয়া কুফরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আর নামাজে অবহেলাকে বলা হয়েছে মুনাফিকের আলামত। তাই নামাজ আদায়ে খুব সতর্ক থাকা চাই। মানুষের নামাজের স্তর ও প্রকার সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এসব হাদিস একত্র করে বিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা ইবনুল কাইয়ুম জাওজিয়া (রহ.) নামাজিদের পাঁচটি স্তর উল্লেখ করেছেন।

প্রথম স্তর : প্রথম শ্রেণির নামাজি হচ্ছে ‘মুহাকাব’, অর্থাৎ অনিয়মিত নামাজ আদায়কারী। সুযোগ হলে নামাজ পড়ে, কিংবা নামাজ ছেড়ে দেয়। কখনও জুমার নামাজে বা বিভিন্ন ওয়াক্তিয়া নামাজে তাদের উপস্থিতির দেখা মেলে। আবার নামাজের সময় বাইরে ঘোরাফেরা করতেও দেখা যায়। এদের অন্তরে নামাজের গুরুত্ব নেই। এরা নামাজ আদায়ের কারণে পরকালে কিছু শাস্তি থেকে অব্যাহতি পেলেও জাহান্নামে প্রবেশ করতে হবে। অবশ্য ঈমান এনে থাকলে নির্ধারিত শাস্তি শেষ করে একসময় তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে।

দ্বিতীয় স্তর : এ প্রকার মুসল্লি হলো ‘মুহাসাব’, অর্থাৎ নিয়মিত নামাজ পড়ে ঠিকই, কিন্তু নামাজে কোনো মনোযোগ থাকে না। মনোযোগ আনার চেষ্টাও করে না। শুধু নামাজ শুরু করে আর শেষ করে। নামাজের মাঝখানে কী পড়েছে আর কী করেছে তার কিছুই জানে না। দৈনিক পাঁচবার শুধু নামাজের সময় অঙ্গসঞ্চালন করে, বাহ্যিক রোকন ও হক আদায় করে বটে; নফসকে আয়ত্তে এনে তার ওয়াসওয়াসা দূর করতে অবহেলা করে। বলা যায়, এই শ্রেণির নামাজির শরীর নামাজ পড়ে, অন্তর নামাজ পড়ে না। এরা নামাজের প্রতি উদাসীনতার জন্য জবাবদিহির শিকার হবে। দুঃখজনকভাবে সমাজে এই শ্রেণির মুসল্লিই সবচেয়ে বেশি।

তৃতীয় স্তর : এরা হচ্ছেন ‘মুফাফফার আনহু’, অর্থাৎ, এ প্রকারের মুসল্লিরা সব সুন্নত ও রুকন ঠিকঠাক আদায় করেন, অন্তরের ওয়াসওয়াসা ও নফসের কুমন্ত্রণা দূর করতেও চেষ্টা করেন। এ শ্রেণির মুসল্লিরা সব রুকন ও শর্ত আদায়ের পাশাপাশি মনোযোগ ধরে রাখার প্রাণান্ত চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু শতভাগ মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হতে পারেন না। কখনও মনোযোগ আসে, কখনও গাফেল হয়ে যান। এরা হলেন সেই শ্রেণির মুসল্লি, যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা নামাজের উসিলায় তাদের গুনাহ মাফ করে দেন। এই শ্রেণির নামাজি নামাজের মাধ্যমে দায়মুক্ত হবেন।

চতুর্থ স্তর : এই শ্রেণি হচ্ছে ‘মুসাব’, অর্থাৎ যারা নামাজের সব হক, রুকন ও সুন্নত আদায় করেন, অন্তরকেও তার সুরক্ষা ও হক আদায়ে লিপ্ত রাখেন। যেন সামান্য সওয়াবও নষ্ট না হয়। যথাযথভাবে নামাজ আদায়ে চেষ্টার সেরাটা ব্যয় করেন। এসব মুসল্লি নামাজের পুরো সময়টাতে খুশু-খুজু ও রবের ইবাদতে মগ্ন থাকেন। তার নামাজ আদায় করা আল্লাহ দেখছেন এটি বারবার মনে জাগ্রত করেন। এই শ্রেণি নামাজের বিনিময়ে যথোপযুক্ত সওয়াব পাবে।

পঞ্চম স্তর : এটা হচ্ছে নামাজিদের সর্বোচ্চ স্তর। এদেরকে বলা হয় ‘মুকাররাব’, অর্থাৎ বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্ত। নবীজি যেমন বলেছেন, ‘নামাজ আমার চোখের শীতলতা’। এ প্রকারের মুসল্লিরা অন্তরের সুখ-তৃপ্তি ও আনন্দ নামাজের মাধ্যমে পূর্ণ করেন। নামাজের মাধ্যমেই আল্লাহর কাছ থেকে পার্থিব ও অপার্থিব সব চাহিদা পূরণ করেন। যারা নামাজকে নিজের চোখের শীতলতা বানিয়েছেন। আর বলাই বাহুল্য, দুনিয়ায় যার চোখ নামাজের দ্বারা শীতল হবে আখিরাতে তার চোখ রবের নৈকট্য পেয়ে শীতল হবে। (আল-ওয়াবিলুস সাইয়িব)

/ডিএফ



Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: