চলতি বোরো মৌসুমে নেত্রকোনা জেলায় ধান সংগ্রহ অভিযানের সময়সীমা শেষ হলেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ। ফলে খাঁখাঁ করছে সরকারি ধানের সব গুদাম। বিভিন্ন অজুহাতে গুদামে ধান বিক্রি করতে যায়নি কৃষকরা। এদিকে খাদ্য বিভাগ বলছে, বাজারদর আর সরকারি দর একই থাকায় কৃষকরা গুদামে আসেনি। এতে আপদকালে দেশে খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।
জানা যায়, ধান উৎপাদনের জেলা নেত্রকোনায় প্রতি বছরের মতো এবারও ইরি-বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। প্রতি বছরই কৃষকরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে গুদামে ধান বিক্রি করলেও এ বছর হয়েছে তার উল্টো। জেলায় সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ ধান। এর আগে কোনোদিন ঘটনা হয়নি।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলা সদরে এক মেট্রিক টন, বারহাট্টা সদরে ২৬২ মেট্রিক টন, মোহনগঞ্জে ১৫৩ মেট্রিক টন, মদনে ৮০ মেট্রিক টন, এবং খালিয়াজুরী সদরে ৭৭৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। সরকারিভাবে জেলায় ২৪ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে মাত্র এক হাজার ২৬৯ মেট্রিক টন। যা শতকরা হিসেবে মাত্র ৫ শতাংশ। এ ছাড়া সরকারের কাছে কোনো ধান বিক্রি করেনি জেলার ঠাকুরাকোনা, বাউসী, পূর্বধলা সদর, জারিয়া, আটপাড়া, কলমাকান্দা, লেপসিয়া, কেন্দুয়া ও বিরিশিরির কৃষকরা।
এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মিজানুর রহমান বলেন, জেলায় এ বছর ধান সংগ্রহ অভিযানের সময়সীমা ছিল ২৮ এপ্রিল থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। পুরো ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধান সংগ্রহ হয়েছে নেত্রকোনায়। এ ছাড়াও মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্নভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে। তারপরও কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে রাজি হয়নি। এতে কর্মকর্তাদের কিছুই করার নেই বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, মৌসুমের শুরুতে ধানের দাম একটু কম থাকে। তখন লাভের আশায় সরকারি মূল্যে গুদামে ধান বিক্রি করতে আগ্রহী হয় কৃষকরা। কিন্তু এবার আর্দ্রতা না থাকা, রং ভালো না হওয়া ও সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন অজুহাতে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারেনি তারা। বাধ্য হয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে তাদের। এতে বাড়তি খরচও বহন করতে হয়েছে তাদের। এ ছাড়াও বাজারে এবং সরকারিভাবে ধানের মূল্য একই ছিল। তাই এ বছর গুদামে ধান বিক্রি করতে যায়নি তারা।
এ বিষয়ে জেলা সুজনের সভাপতি শ্যামলেন্দু পাল বলেন, সিন্ডিকেটসহ নানা কারণে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে এ বছর অনীহা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। ফলে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। তবে ধান সংগ্রহে কৃষকরদের আরও সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে আপদকালে দেশে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
/এসকে