জ্বালানির দাম অভ্যন্তরীণ কারণেই বেড়েছে: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী

ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে নয় অভ্যন্তরীণ কারণেই দেশে জ্বালানি দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সিপিডি বলছে, আন্তর্জাতিক

2023-03-23T21:35:32+00:00
2023-03-23T21:35:32+00:00
 
  বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,
৫ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানী
জ্বালানির দাম অভ্যন্তরীণ কারণেই বেড়েছে: সিপিডি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৩, ৯:৩৫ পিএম 
ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে নয় অভ্যন্তরীণ কারণেই দেশে জ্বালানি দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সিপিডি বলছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) শর্ত দিয়েছে, ভর্তুকি কমাতে হবে। তাই বিদ্যুৎ খাতের সব ভর্তুকি ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতির খসড়া নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি এসব কথা বলে। ধানমন্ডির সিপিডি কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ আইন বাতিল করার পক্ষে মত দিয়েছে সিপিডি। এই আইনের মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। 
সিপিডির বক্তব্য হলো, এ ধরনের আইনের প্রয়োজনীয়তা ২০০৯ সালে ছিল। বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য সরকারকে এখন বিপুল বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে। কোনো বিশেষ শ্রেণিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এটি করা হতে পারে। এতে দুর্নীতির সংশ্লেষ থাকতে পারে।

সিপিডি আরও বলছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) শর্ত দিয়েছে, ভর্তুকি কমাতে হবে। তাই বিদ্যুৎ খাতের সব ভর্তুকি ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ক্যাপাসিটি চার্জসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকার যে ভর্তুকি দেয়, তা নিয়ে তাদের কোনো উদ্যোগ নেই।

এ বিষয়ে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভোক্তা পর্যায়ে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য শুধু ইউক্রেন যুদ্ধ দায়ী নয়। তিনি আরও বলেন, সরকার ভারত থেকে বিদ্যুৎ কিনছে। প্রতি ইউনিটের দাম পড়ছে প্রায় ১৫ টাকা। বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন দরপত্র উন্মুক্ত করা উচিত। ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা উচিত।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক আরও বলেন, বর্তমানে জীবাশ্ম জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে নানা ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হয়। এ ধরনের প্রণোদনা বন্ধ করে দিলেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণ হবে। বিদ্যমান নিয়মকানুন ও প্রণোদনা দিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের লক্ষ্য অর্জন করা যাবে না।

পারমাণবিক জ্বালানি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ক্লিন এনার্জি (পরিবেশবান্ধব) বলা হচ্ছে। কিন্তু এটি এখনো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি নয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য হয়।

সিপিডি সুপারিশ করেছে, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (শ্রেডা) সংস্কার প্রয়োজন। তাদের ক্ষমতা বাড়ানো উচিত। বড় ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নতুন পলিসিতে বায়ু, বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস এনার্জি, ওয়েস্ট টু ইলেকট্রিকাল এনার্জি, হাইড্রো এনার্জি বিষয়ে মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তির মধ্যে রয়েছে- জিওথার্মাল এনার্জি, টাইডাল এনার্জি, ওয়েভ এনার্জি, রিভার কারেন্ট, হাইড্রোজেন এনার্জি ইত্যাদি। এছাড়া পলিসির প্রথম দফায় ২০২৫ সালে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ২৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা সামগ্রিক উৎপাদনের ১০ শতাংশ। এছাড়া ২০২৬-২০৪১ সালে ৬৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, যা উৎপাদনের ২০ শতাংশ এবং ২০৩১-২০৪১ সালে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, যা উৎপাদনের ৪০ শতাংশ। কিন্তু ২০০৮ সালে গৃহীত পলিসির আওতায় সামগ্রিক উৎপাদনের ৮ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এটা পলিসির ব্যর্থতা।
Advertisement
Loading...
Loading...
রাজধানী- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: