মসজিদের বরকত

মুফতি হিদায়াতুল্লাহ রাহমানী

ইসলামের আলো

অশান্ত পৃথিবীতে শান্তির স্থান হলো মসজিদ। মসজিদ এই পৃথিবীতে বায়তুল্লাহ তথা আল্লাহর ঘর। যেখানে সদা বর্ষিত হয় রহমত ও বরকতের

2023-08-18T03:26:04+00:00
2023-08-18T03:26:04+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬,
১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
মসজিদের বরকত
মুফতি হিদায়াতুল্লাহ রাহমানী
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৩, ৩:২৬ এএম 
অশান্ত পৃথিবীতে শান্তির স্থান হলো মসজিদ। মসজিদ এই পৃথিবীতে বায়তুল্লাহ তথা আল্লাহর ঘর। যেখানে সদা বর্ষিত হয় রহমত ও বরকতের ধারা। মসজিদ মুসলিম কমিউনিটির আনুষ্ঠানিক ইবাদতখানা।

ইবাদত-বন্দেগির পবিত্র স্থান। সমাজের বৈষম্যহীন একমাত্র জায়গা, যেখানে ধনী-গরিব, বর্ণ-বংশে কোনো ভেদাভেদ নেই। সেখানে সবসময় কল্যাণ বর্ষিত হয়। পৃথিবীতে কী পরিমাণ মসজিদ আছে তার সঠিক পরিসংখ্যান আল্লাহই ভালো জানেন। পৃথিবীর সব মসজিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মসজিদ হচ্ছে ‘মসজিদে হারাম’ তথা কাবাঘর। এরপর শ্রেষ্ঠত্বের দ্বিতীয়তম স্থানে রয়েছে মদিনার মসজিদে নববী। পৃথিবীর তৃতীয় শ্রেষ্ঠতম মসজিদ হচ্ছে ‘মসজিদুল আকসা’ তথা ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস। কাবাঘর পৃথিবীর বুকে সর্বপ্রথম ঘর। এই ঘরকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর মুসলমানরা হজ-ওমরাহ সম্পাদন করে থাকেন। এই ঘর বরকতময়। এই পবিত্র ঘর প্রথম দেখে দোয়া করলে কবুল হয়। এই কাবা ঘরের ভেতরে এবং মুলতাজিমের কাছে (অর্থাৎ বায়তুল্লাহর দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী জায়গাসহ) বিভিন্ন জায়গায় দোয়া কবুল হয়। এই ঘরের আরেকটি বরকতময় স্থান মাকামে ইবরাহিম। সেখানেও দোয়া কবুল হয়।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের কল্যাণে নির্ধারিত হয়েছে, যা বাক্কায় (মক্কায়) অবস্থিত; যা সারা জাহানের মানুষের জন্য হেদায়াত ও বরকতময়। তাতে প্রকাশ্য নিদর্শনগুলো বিদ্যমান; তার মধ্যে মাকামে ইবরাহিম একটি। আর যে ব্যক্তি উক্ত ঘরে প্রবেশ করে, সে নিরাপদ হয়ে যায়’ (সুরা আলে ইমরান : ৯৬-৯৭)।

মসজিদে আকসার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘পরম পবিত্র সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাতেরবেলা মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত সফর করিয়েছেন। যার চারপাশ আমি বরকতময় করে রেখেছি। যাতে আমি তাকে আমার কুদরতের বিস্ময়কর কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই’ (সুরা ইসরা : ১)। মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহ.) ‘বায়তুল মুকাদ্দাসের চতুর্পাশ বরকতময়’ এর ব্যাখ্যায় বলেন, হজরত সুলাইমান (আ.) বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণ করেন। অনেক নবী-রাসুল এর আশপাশে সমাহিত আছেন। এ জন্য সেই জায়গায় দ্বীনি বরকত। আর সেখানে বহু ফলবান বৃক্ষ, নহর এবং শস্যক্ষেত্রকে পার্থিব বরকত বলা হয়েছে। (বায়ানুল কুরআন)

এ ছাড়া পৃথিবীর সব মসজিদই বরকতময়। সোনালি যুগে মসজিদ থেকেই সমাজের শান্তি-সমৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। এখনও মসজিদগুলোতে ইমামগণ ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি, রহমত-বরকতের প্রার্থনা করে থাকেন। সেই সঙ্গে জুমার বয়ানে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে-পরে, নিয়মিত তাফসিরুল কুরআন প্রোগ্রাম ও অন্যান্য বিশেষ আয়োজনে সেই লক্ষ্য পূরণে জোরালো দিকনির্দেশনা ও তাগিদ দিচ্ছেন সর্বদা। অতএব আল্লাহর ঘর মসজিদ শান্তির জায়গা, বরকতের স্থান। মসজিদের সঙ্গে যার সম্পর্ক ভালো থাকবে, পরকালে সে আল্লাহর আরশের ছায়ায় স্থান লাভ করবে। জান্নাতে সুউচ্চ আসনে সে সমাসীন হবে। মসজিদে যে বেশি বেশি যাতায়াত করবে, মসজিদ আবাদ করবে, মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা করবে, তার জীবনেও বরকত নেমে আসবে। সেও সুখী-সমৃদ্ধ শান্তিময় জীবন উপভোগ করবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মসজিদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার তওফিক দান করুন।


সময়ের আলো/আরএস/ 





Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: