পোশাক শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ১৭৫৬৮ টাকার প্রস্তাব সিপিডির

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সপ্তম গ্রেডে ১৭ হাজার ৫৬৮ টাকা করার প্রস্তাব করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর

2023-10-08T23:08:26+00:00
2023-10-09T00:11:13+00:00
 
  শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬,
৮ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
অর্থনীতি
পোশাক শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ১৭৫৬৮ টাকার প্রস্তাব সিপিডির
সিপিডির প্রস্তাব
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৮ অক্টোবর, ২০২৩, ১১:০৮ পিএম  আপডেট: ০৯.১০.২০২৩ ১২:১১ এএম
তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি  সপ্তম গ্রেডে ১৭ হাজার ৫৬৮ টাকা করার প্রস্তাব করেছে  বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। এ ছাড়া আগে ৭টি গ্রেড থেকে কমিয়ে ৬টি করার প্রস্তাব করা। এতে ৫ ও ৬ গ্রেডকে একটি গ্রেড করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

রোববার ( ৮ অক্টোবর) গার্মেন্টস খাতে ন্যূনতম মজুরি পুনঃনির্ধারণ ও পর্যবেক্ষণ শীর্ষক প্রস্তাবনা অনুষ্ঠানে  সিপিডি এই তথ্য উপস্থাপন করেন।  এতে আরো বলা হয়, বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি প্রতি পোশাকে ৭ সেন্ট বাড়িয়ে দেয়, তাহালে এই  মজুরি দিতে কারখানা মালিকরা চাপে পড়বেন না।
অন্য গ্রেড গুলোর মধ্যে  ৫ নংম্বার গ্রেডে ১৯ হাজার ৩১০, ৪ নংম্বার গ্রেডে ২১ হাজার ৮০৮, ৩ নংম্বার গ্রেডে ২৩ হাজার ৫৩৩, ২ নংম্বার গ্রেডে ৩৪ হাজার ৬০৩ এবং ১ নংম্বার গ্রেডে ৪১ হাজার ৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

এ ছাড়া মূল মজুরি ৫৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, মূল মজুরি ৫০ শতাংশ খাদ্য ভাত, মোট মজুরির ৭ শতাংশ চিকিৎসা ভাতা,  মোট মজুরি ৫ শতাংশ যাতায়াত ভাতা এবং নতুন করে শ্রমিকের শিশুদের জন্য শিশু ভাতা  হিসেবে মোট মজুরির ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সর্বশেষ ২০১৮ সালে নির্ধারণ করা হয়। সে সময় মজুরি নির্ধারিত হয় ৮ হাজার টাকা। মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের আর্থিক নিরাপত্তা বিবেচনায় সিপিডি ৯ হাজার ৫৬৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন এই ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাব দিয়েছে। গত এপ্রিল মাসে নতুন মজুরির জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৬ মাস শেষ হয়েছে। মজুরি প্রস্তাবনা না এলেও তিনটি বৈঠক হয়েছে এই কমিটি।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা ৭৬টি কারখানার ২২৮ জন শ্রমিকের ওপর গবেষণা করে এই প্রস্তাব দিচ্ছে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও সিনিয়র গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদ।

শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি প্রস্তাব করে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও-এর মজুরি নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে সিপিডি মনে করে পোশাক খাতে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৭ হাজার ৫৬৮ টাকা হতে পারে।

তবে জরিপে উঠে এসেছে ২৮ শতাংশ কারখানার মালিকরা মনে করেন ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাদের। কেউ কেউ ২১ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়ার সমর্থ্য রাখেন। আর শ্রমিকরা মনে করেন, কমপক্ষে ১৮ হাজার টাকার নিচে দিলে তাদের জীবন চলে না। এদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর আলোচনায় প্রস্তাবনা রয়েছে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

তৈরি পোশাক কারখানায় হেলপারের পদ উঠিয়ে দেওয়া প্রস্তাব করে তিনি আরও বলেন, নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা পর তা বাস্তবায়নে যেন  সরকার মালিক ও শ্রমিক ত্রিপক্ষীয় কমিটির মাধ্যমে বাস্তবায়ন কমিটি করে আর এই কমিটি তিন মাস পর পর  মজুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা এমন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন দিবেন।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও অনেক কারখানায় গত ৫ বছর ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন হয়নি। মজুরি বাস্তবায়নে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফি) ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন হয়েছে কিন জানতে চেয়ে এমন ৬০ শতাংশ কারখানায় পরিদর্শন করলেও ৪০ শতাংশ কারখানায় গুরুত্ব পায়নি।  

কোভিড মহামারির সময় মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) শ্রমিকদের বিশাল অংশ অন্তভূক্ত হলে বর্তমানে এতে বেশ  আগ্রহ কমেছে। কর্মী এমএফএস-এ আগ্রহী করে তুলতে উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।  

শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরে বলা হয়, ২০১৭ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে এসে পোশাক খাতের রপ্তানি বেড়েছে পণ্য দাম বেড়েছে ৩৭ শতাংশ এসময় ইউনিট খরচও বেড়েছে ২০ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয় এসেছে। কর্মসংস্থান হয়েছে ৪০ লাখ কর্মী কাজ করেন।    

বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সিপিডির দেওয়া তথ্য ও উপাত্ত নিয়ে আমাদের দ্বিমত রয়েছে। এসব তথ্য উপস্থাপনের আগে মালিকপক্ষের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে নিলে আজকের এই আলোচনা আরো কার্যকর হতো।  সিপিডির জরিপের যে সেম্পল সাইজ দেওয়া হয়েছে সেটা নিয়েও আমাদের প্রশ্ন রয়েছে।

তবে আমরা শ্রমিকদের ভালো মজুরি দিতে চাই। সেটা সিপিডির প্রস্তাবের চেয়েও বেশি দেওয়ার আগ্রহ রয়েছে। এজন্য মালিকদের সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। এ ছাড়া নভেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। 
 
অনুষ্ঠানে শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, নতুন মজুরি কাঠামো নিয়ে আমরা একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছি। তবে সিপিডি’র প্রস্তাবনার সঙ্গেও আমাদের কিছু কিছু ঐক্যমত রয়েছে। এ ছাড়া আমরা এবার গুরুত্ব দিতে চায় শ্রমিক অঞ্চলে মজুরি বাড়লেই বাড়ি ভাড়া বেড়ে যায়। এজন্য সরকার ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা যেন নজরদারি করে হঠাৎ করেই না  বাড়ে। আর পোশাক শ্রমিকদের রেশিংয়ের আওতায় আনার দাবি জানান।

সময়ের আলো/এম
Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: