কর্ণফুলী নদী সারা দেশ থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে আলাদা করেছে। প্রায় ৯১ বছর আগে এই নদীর ওপর প্রথম কালুরঘাট রেলসেতু নির্মাণ করা হয়েছিল।
এই সেতু থেকে ৭ কিলোমিটার ভাটিতে ১৯৮৯ সালে প্রথম সড়ক সেতু নির্মাণ করা হয়। নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় ২০১০ সালে একই স্থানে কর্ণফুলী তৃতীয় শাহ আমানত সেতু নির্মাণ করা হয়। শাহ আমানত সেতু থেকে নদীর মোহনা পর্যন্ত নতুন করে সেতু নির্মাণের সুযোগ নেই। কেননা, সেতু হলে নদীতে পলি জমে চট্টগ্রাম বন্দর অচল হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই এই সেতুর ২১ কিলোমিটার ভাটিতে কর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে নদীর তলদেশে নির্মাণ করা হয়েছে টানেল।
রোববার সময়ের আলো থেকে জানা যায়, ২৮ অক্টোবর শনিবার বাংলাদেশের প্রথম বহুলেন সড়ক টানেল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল উদ্বোধন উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক নোট ছাড়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু টানেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই স্মারক নোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করেন।
বিশ্বে বিভিন্ন নদীর তলদেশে ২০০টির মতো টানেল রয়েছে। যুক্তরাজ্যের টেমস নদীর তলদেশে ১৮৪৩ সালে এই টানেল চালু হয় টেমস টানেল, যা নদীর তলদেশে বিশ্বের প্রথম টানেল। গত এপ্রিলে ভারতের হুগলী নদীর তলদেশে ৫২০ মিটার লম্বা রেল টানেল পরীক্ষামূলক চালু হয়। সড়ক টানেল হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় সে অর্থে নদীর তলদেশ দিয়ে যানবাহন চলাচলকারী প্রথম টানেল এটি।
টানেলের তাৎক্ষণিক সুফলের চেয়ে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাই বড় করে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তারা। ২০২৬ সালে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের টার্মিনাল চালু হলে সারা দেশের পণ্য এই টানেল ব্যবহার করে আনা-নেওয়া সহজ হয়ে যাবে।
বাড়তি বিনিয়োগ ছাড়াই শিল্পকারখানা চালুর জন্য গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো সুবিধা দেওয়া যাবে এই অঞ্চলে। আড়াই হাজার মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও রয়েছে এ অঞ্চলে। এই উপকূলে মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে যার পাশে গুচ্ছ গুচ্ছ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা যাবে। কাছাকাছি বন্দর সুবিধা থাকায় ব্যবসার খরচ কমবে। আবার সুপরিকল্পিতভাবে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা যাবে।
বঙ্গবন্ধু টানেল দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সাগর উপকূল ধরে বিশাল এলাকা শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও পর্যটনের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। আবার বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থাৎ বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডোরের সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই টানেল।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, টানেলটি দেশের ভেতরে ও বাইরে শিল্পায়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ প্রবাহ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সময়ের আলো/জেডআই