স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই বিতরণ শুরু হয়েছে গতকাল। বছরের শুরুতে শিশুর কাছে নতুন বইয়ের গন্ধ সুখবার্তা বয়ে নিয়ে আসে। শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের মাঝে লেখাপড়ায় নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝে সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। প্রতি বছর শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই দেশের প্রতিটি স্কুলে শিশুদের বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়।
রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ কার্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন শ্রেণির বই তুলে দিয়েছেন। এ সময় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নতুন বইয়ের ঘ্রাণ, নতুন বই পড়ে দেখা, এতে মলাট লাগানো এসবের আনন্দই আলাদা, বই পড়বে এবং বইয়ের যত্ন নেবে। বহুমুখী শিক্ষা দিয়ে আমরা জাতিকে গড়ে তুলতে চাই। আমাদের লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা। দ্বাদশ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের আপত্তির কারণে এবার কেন্দ্রীয়ভাবে বই উৎসব হয়নি। তবে ঢাকায় মিরপুরে ন্যাশনাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রাথমিকের বই উৎসব হবে। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও এবং ডিসিরা উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেবেন। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড জানিয়েছে, এ বছর ৩ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৭ কপি নতুন বই বিতরণ করা হবে। এতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত সরকার সারা দেশে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৬৪ কোটি ৭৮ লাখ ২৯ হাজার ৮৮৩ কপি বই বিনামূল্যে বিতরণ করেছে।
২০১৭ সাল থেকে সরকার সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় অধ্যয়নের জন্য চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো এবং সাদরি ভাষার বই বিতরণের পাশাপাশি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ব্রেইল পদ্ধতির বই বিতরণ করছে।
চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন করে দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে চালু হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রম। গত বছর প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে এই নতুন শিক্ষাক্রম শুরু হয়। নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী নবম ও দশম শ্রেণির বই পৃথক। এতদিন নবম ও দশম শ্রেণির বই একই ছিল।
নতুন বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দেওয়া একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। শিশু-কিশোরদের মাঝে বছরের শুরুতেই শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে তা শিক্ষামনস্ক শিক্ষার্থী হওয়ার সুযোগ তৈরি করে। শিক্ষার মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ঘটানোর মতো পাঠ্যক্রম সন্নিবেশিত করে শিক্ষকের মাধ্যমে পাঠদান নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে জীবনের শুরুতেই একজন মানুষ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। সুশিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত মানবিক মূল্যবোধ দ্বারাই গড়ে তোলা সম্ভব বৈষম্যহীন, বসবাসযোগ্য আলোকিত পৃথিবী। আজকের শিশু আগামী দিনে সুনাগরিক হয়ে দেশ ও দশের সেবায় যাতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে- সেই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে শিক্ষাজীবন থেকে। এ ধরনের একটি শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রম গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
সময়ের আলো/জেডআই