বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের গুরুত্ব

নিরঞ্জন রায়

সম্পাদকীয়

গত সপ্তাহে দেশের ব্যাংকিং খাতে বেশ ঘটা করে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের ষষ্ঠ প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। বিষয়বস্তুর দিক থেকে না

2024-12-29T00:43:55+00:00
2024-12-29T00:43:55+00:00
 
  শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
সম্পাদকীয়
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের গুরুত্ব
নিরঞ্জন রায়
প্রকাশ: রোববার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১২:৪৩ এএম   (ভিজিট : ৫৩৫)
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের গুরুত্ব
গত সপ্তাহে দেশের ব্যাংকিং খাতে বেশ ঘটা করে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের ষষ্ঠ প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। বিষয়বস্তুর দিক থেকে না হলেও আনুষ্ঠানিকতার দিক থেকে বিষয়টি যে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকারসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার এবং বিএবির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকিং অ্যালমানাকের চেয়ারম্যান, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। প্রকাশনা উৎসবে এতজন বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে গুরুত্বের দিক থেকে এটি ছিল সর্বোচ্চ মাত্রার অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বললেও অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার একটি সত্য কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন যে ব্যাংকিং অ্যালমানাক নামে যে একটি প্রকাশনা আছে তা তিনি আগে জানতেন না। সেদিনই তিনি প্রথম ব্যাংকিং অ্যালমানাক দেখেছেন। এটি মোটেই দোষের কিছু নয়। বরং এটাই স্বাভাবিক। এটাই হওয়ার কথা। তিনি দেশের অর্থনীতির নীতিনির্ধারণী মহলে উচ্চ পদে আসীন আছেন, তাই সেখান থেকে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের মতো গ্রন্থ সম্পর্কে তার জানার কথা নয়। এমনকি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে কর্মরত বিরাট একটি অংশ এই ব্যাংকিং অ্যালমানাক সম্পর্কে জানে কি না সন্দেহ আছে। আমি দেশের বেশ কয়েকজন ব্যাংকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম এই ব্যাংকিং অ্যালমানাক সম্পর্কে জানার জন্য। কিন্তু কেউই আমাকে এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারেনি।

আমি নিজে এক যুগের অধিক সময় দেশের একাধিক ব্যাংকে দায়িত্ব পালন করেছি। বিদেশে অবস্থান করলেও দেশের ব্যাংকিং নিয়ে নিবিড়ভাবেই খোঁজখবর রাখি। ব্যাংকের নানা বিষয় নিয়ে বিগত দেড় যুগ ধরে একাধিক পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখছি। তারপরও আমি নিজে প্রথম শুনলাম এই ব্যাংকিং অ্যালমানাকের নাম, যদিও আমি ব্যাংকিং পেশার শুরু থেকেই ব্যাংকারস অ্যালমানাক নিয়ে কাজ করেছি এবং এখনও করি। ব্যাংকিং অ্যালমানাক এবং ব্যাংকারস অ্যালমানাক যে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটো প্রকাশনা, সেটি বুঝতে আমার মতো মানুষেরও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। সেখানে সাধারণ মানুষ এবং সাধারণ ব্যাংকার কীভাবে বিষয়টি বুঝবে। প্রকাশনা উৎসবের গুরুত্ব দেখে প্রথমে আমার ধারণা হয়েছিল যে আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত যে ব্যাংকারস অ্যালমানাক আছে, তারই একটি শাখা বাংলাদেশে স্থাপিত হয়েছে। এ কারণে আমার আগ্রহটাও অনেক বেশি ছিল। কিন্তু পরে বুঝলাম, বিষয়টি মোটেই তা নয়। ব্যাংকারস অ্যালমানাকের নামের সঙ্গে মিল রেখে দেশের অভ্যন্তরে ব্যাংকিং অ্যালমানাক নামের একটি প্রকাশনা বের করা হয়েছে।

ব্যাংকিং পেশায় যোগদানের পর আমার প্রধান দায়িত্ব ছিল সেই ব্যাংকের তৈরি পোশাক রফতানিকারক গ্রাহকদের এলসি এবং সব ধরনের ঋণ সুবিধার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা। সেসব গ্রাহক এক্সপোর্ট এলসির বিপরীতে তৈরি পোশাক রফতানি করত। রফতানিমুখী গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এক্সপোর্ট এলসি পেত, যার বিপরীতে তারা আবার আমদানি এলসি খুলেছে উৎপাদনের উপকরণ, তথা কাপড় এবং আনুষঙ্গিক জিনিস আমদানি করার জন্য। অধিকাংশ আমদানি এলসি ইস্যু করা হতো চীন, হংকং এবং ভারতের বিভিন্ন ব্যাংকের ওপর। 

আমেরিকা, ইউরোপ, হংকং এবং চীনের যেসব ব্যাংক নিয়ে কাজ করতাম, তাদের ব্যাপারে জানা তো দূরের কথা, তাদের নামও শুনিনি। আজকের দিনের মতো অবারিত ইন্টারনেট সুবিধা ছিল না। সেসব ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করা কতটা নিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ হবে, তা জানা প্রায় অসম্ভব ছিল। তখন অনেক ব্যাংক ব্যাংকারস অ্যালমানাক সংগ্রহে রাখত। আমরা সেখান থেকে এলসি ইস্যু করা ব্যাংকের ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে পারতাম। এর ফলে লেনদেন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজটা বেশ সহজ হতো। সেই থেকে ব্যাংকারস অ্যালমানাকের সঙ্গে আমার পরিচিতি, যা আজও অব্যাহত আছে, তবে ভিন্ন আঙ্গিকে।

বিশ্বের বিখ্যাত এবং নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রকাশনা সংস্থা, লেক্সিস-নেক্সিস রিক্স সল্যুশন গ্রুপ, আরএলইএক্স গ্রুপ পিএলসি এবং এফটিএসই-১০০ তালিকাভুক্ত কোম্পানির যৌথ মালিকানায় ব্যাংকারস অ্যালমানাক প্রকাশিত হয়ে থাকে। এতে সরাসরি সহযোগিতা দিয়ে থাকে ওলফসবার্গ গ্রুপ, দি ব্রিটিশ ব্যাংকারস অ্যাসোসিয়েশন, দি ব্যাংকারস অ্যাসোসিয়েশন ফর ফাইন্যান্স অ্যান্ড ট্রেড, সুইফট এবং দি ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন। ব্যাংকারস অ্যালমানাক ডিরেক্টরি বা বইয়ের হার্ড কপি হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৪৫ সালে। এটি কমলা রঙের বিশাল আকৃতির একটি বই ছিল, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকের মালিকানা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যেমন-কোথায় নিবন্ধিত, বিশ্বব্যাপী কাজের বিস্তৃতি, মূলধন, প্রধান কার্যালয়, ব্যাংকের শাখা ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান, ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিং প্রভৃতি সন্নিবেশিত থাকে।

পক্ষান্তরে ব্যাংকিং অ্যালমানাক হচ্ছে বাংলাদেশের একান্তই নিজস্ব এবং অভ্যন্তরীণ একটি প্রকাশনা, যার যাত্রা শুরু হয় ২০১৬ সালে প্রথম প্রকাশনার মধ্য দিয়ে। বিভিন্ন ব্যাংকের সহযোগিতায় শিক্ষা বিষয়ক সাপ্তাহিক পত্রিকা, ‘শিক্ষাবিচিত্রা’ এর উদ্যোগে এই ব্যাংকিং অ্যালমানাক প্রকাশিত হয়ে থাকে। ইতিপূর্বে এর পাঁচটি সংস্করণ বের হয়েছে।

এ বছর প্রকাশিত হলো এর ষষ্ঠ সংস্করণ। অনেক আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকিং অ্যালমানাক পড়ে দেখার সুযোগ পাইনি। ফলে এখানে বিভিন্ন ব্যাংকের কী ধরনের তথ্য-উপাত্ত সন্নিবেশিত আছে এবং এখান থেকে গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীরা কতটা উপকৃত হতে পারবেন, তা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ সংস্করণ প্রকাশনা উৎসবে উপস্থিত অতিথিরা যা বলেছেন তা থেকে জানা যায় যে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জনবল, শাখা, সেবার/পণ্যের তালিকা এই ব্যাংকিং অ্যালমানাকে সন্নিবেশিত আছে। অতিথিদের আশাবাদ যে এই প্রকাশনা থেকে আমানতকারীরা উপকৃত হবে।

আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকারস অ্যালমানাকের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশে ও অঞ্চলে অবস্থিত ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করার ক্ষেত্রে এই ব্যাংকারস অ্যালমানাক ভালো ভূমিকা রাখে। আমেরিকা বা ইউরোপের একটি ব্যাংকের পক্ষে সেখানে বসে বাংলাদেশ বা চীনের একটি ব্যাংক সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয় না। একইভাবে বাংলাদেশে বসে আমেরিকা বা ইউরোপের একটি ব্যাংক সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানা সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকারস অ্যালমানাক বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যাংক সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে থাকে। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীণ লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকারস অ্যালমানাক বা ব্যাংকিং অ্যালমানাকের সে রকম প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। কেননা নাগরিক হিসেবে নিজের দেশের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সবারই মোটামুটি ভালো ধারণা থাকে। তা ছাড়া বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যথা বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা স্টক এক্সচেঞ্জেও বিভিন্ন ব্যাংকের প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়। 

আমেরিকা, কানাডার বা ইউরোপের একজন নাগরিক খুব ভালোভাবেই তাদের নিজ দেশের ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানে। তাদের কোনো বই বা প্রকাশনার প্রয়োজন হয় না। একইভাবে বাংলাদেশের নাগরিকরা সেখানকার ব্যাংক সম্পর্কে ভালোই খোঁজখবর রাখে এবং এ জন্য তাদের কোনো প্রকাশনার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। আগে ব্যাংকারস অ্যালমানাকের যথেষ্ট গুরুত্ব থাকলেও এখন আর তেমনটা নেই। কারণ এখন অনলাইনের জয়জয়কার। ব্যাংকারস অ্যালমানাকে যে তথ্য থাকে, তার সবকিছুই এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সহজেই পাওয়া যায়।

এ ছাড়া বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যেমন এসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জেও বিভিন্ন ব্যাংকের প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে। তদুপরি প্রত্যেক ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট আছে, যেখান সব তথ্য পাওয়া যায়। বিশ্বে ব্লুমবার্গ, রয়টারসহ অনেক পেশাদার সংস্থা আছে, যারা প্রত্যেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রকাশ করে থাকে। এসব কারণে এখন ব্যাংকারস অ্যালমানাক আর সেভাবে ব্যবহৃত হয় না। তারপরও এর প্রকাশনা অব্যাহত আছে, তবে সেটি অনলাইন সুবিধা। এখন আর কোনো হার্ড কপি প্রকাশ হয় না এবং অনেকেই এর অনলাইন সার্ভিস নিয়ে থাকে।

আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে যেখানে ব্যাংকারস অ্যালমানাকের ব্যবহার হ্রাস পেয়েছে, সেখানে আমাদের দেশে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের গুরুত্ব বেড়ে গেছে এবং নতুন সংস্করণের প্রকাশনাও দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বেশ ঘটা করেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের দেশের ব্যাংকিং খাতে এই অ্যালমানাকের গুরুত্ব হয়তো আছে। কিন্তু এই মুহূর্তে দেশের ব্যাংকিং খাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যেগুলোর অগ্রাধিকার অনেক বেশি। দেশের বেশ কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা খুবই নাজুক বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো ঠিক করা প্রয়োজন। 

তারল্য সংকটের কারণে অনেক ব্যাংক গ্রাহকদের চাহিদা মাফিক অর্থ ফেরত দিতে পারছে না, সেটি ঠিক করতে হবে। খেলাপি ঋণ, সুশাসন নিশ্চিত করা, ব্যাংকগুলোকে সম্পূর্ণরূপে প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা এবং কমপ্লায়েন্সের মান উন্নত করে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সুবিধা নেওয়ার মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে যা জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করা দরকার। ব্যাংকিং খাতের এসব সমস্যার সমাধানে সর্বমহল থেকে ভূমিকা রাখার প্রয়োজন আছে। সঙ্গে এই খাতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করলে গ্রাহক, মালিকপক্ষ, ব্যাংকার, ব্যবসায়ীসহ সবাই উপকৃত হবে।

অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং বিশেষজ্ঞ

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
সম্পাদকীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: