রেকর্ড উৎপাদনের পরও লবণ আমদানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

দেশের চাহিদা বিবেচনায় ১ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ২৬৪টি প্রতিষ্ঠান এই লবণ আমদানি করবে বলে জানিয়েছেন

2023-11-08T04:06:56+00:00
2023-11-08T04:06:56+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
রেকর্ড উৎপাদনের পরও লবণ আমদানি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৩, ৪:০৬ এএম 
রেকর্ড উৎপাদনের পরও লবণ আমদানি
দেশের চাহিদা বিবেচনায় ১ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ২৬৪টি প্রতিষ্ঠান এই লবণ আমদানি করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশে লবণের চাহিদা ২০ লাখ টন। ২৬৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এবার রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ২২ লাখ টন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমদানি করতে হচ্ছে। এ জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সচিব বলেন, ভারত থেকে ৬১ হাজার ৯৫০ পিস ডিম আমদানি করা হয়েছে। দেরির কারণ বার্ড ফ্লু পরীক্ষা। সেই সমস্যা মিটেছে। এখন ডিম আসতে থাকবে। সব মিলিয়ে ২০ কোটি পিস আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রাকৃতিক কারণে লবণের উৎপাদন মৌসুম বিলম্বিত হচ্ছে। বাজারে যাতে কোনো ঘাটতি না হয় সে জন্য এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান সিনিয়র সচিব।

তিনি বলেন, গত ১৫ দিন আগে থেকেই এটার সৃজন (উৎপাদন) শুরু হওয়ার কথা, তো এটা একটু পিছিয়ে গেছে বলেই শিল্প মন্ত্রণালয় হয়তো মনে করেছে যে কিছু লবণ আমদানি দিয়ে রাখলে পূর্ব সতর্কতা হিসেবে যাতে লবণের কোনো ঘাটতি না হয়, সে জন্য এটা (অনুমতি) দিয়েছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত বছর সর্বোচ্চ লবণ উৎপাদন হয়েছিল বলেই কিন্তু কুরবানির ঈদের সময়ও আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়নি, যথেষ্ট লবণ ছিল। কিন্তু যেহেতু এই উৎপাদন মৌসুমে প্রাকৃতিক কারণে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ততায় বিলম্বিত হচ্ছে, লবণ আসতে সে জন্যই এটা একটা পূর্ব সতর্কতা হিসেবে দেওয়া হয়েছে, যাতে বাজারে কোনো ঘাটতি না হয়।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য কমাতে আমরা চেষ্টা করছি। তবে নতুন উৎপাদিত পণ্য বাজারে এলে ডিসেম্বরের শেষের দিকে নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক হতে পারে। বাজার মনিটরিংয়ের কারণেই দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, না হলে আরও বেশি দাম বাড়ত।
 আমদানির কারণে ডিম ও আলুর দাম কমছে। ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন উৎপাদিত পণ্য বাজারে এলে দাম কমবে। এর আগে চাপের মধ্যে থাকতে হবে।

সচিব বলেন, মৌসুমটা এমন যে বছরের শেষ পর্যায়ে, তখন বাজারে স্টক থাকে না। কৃষকের চেয়ে মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে এই সময় পণ্য থাকে। এ কারণে এই সময়ে দাম বাড়ে। এ বছর ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। এরপরও যে রফতানি মূল্য ভারত নির্ধারণ করেছে তাতে কেজি প্রতি ১৩০ টাকা ওপরে। দামের বিষয়ে ডিসির নেতৃত্বে স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংসহ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সিনিয়র এ সচিব বলেন, ‘এটা ঠিক যে মূল্যস্ফীতির যে হিসাব করা হয় সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় যে পণ্যগুলো, সেগুলোর কিন্তু ওয়েটেজটা বেশি। যেহেতু এখানে ওয়েটেজ বেশি সেহেতু অক্টোবরে কয়েকটা পণ্যের দাম বেশি হয়ে গেছে, বিশেষ করে পেঁয়াজ, আলু ও ডিম। এটা শুধু আমাদের কারণে নয়। যেমন পেঁয়াজ কিন্তু রফতানি বন্ধের কারণে, ইন্ডিয়া থেকে আসছে না সেভাবে। আলুটা যেমন আমদানি বন্ধ ছিল, এখন আমরা ওপেন (আমদানি) করে দিয়েছি। তো অনেক বিষয় এখানে সম্পৃক্ত।’

তিনি বলেন, আশা করি এটা আগামী মাস থেকে কমে আসবে। তবে ডিসেম্বরের শেষে ভালো ফল পাওয়া যাবে আমি আশা করি। আগামী এক মাস হয়তো আমাদের একটু চাপের মধ্যে থাকতে হবে, যেহেতু কৃষিপণ্য এটাকে জোর করে উৎপাদন করার সুযোগ নেই। হয় উৎপাদন না হয় বিদেশ থেকে আমদানি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে কৃষিপণ্যের বেলায় একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, যেমন আলু কেউ যদি মজুদ করে রাখে সেটা যদি সে পচিয়ে ফেলে তা হলে ব্যবসায়ীর কোনো লাভ আছে? লাভ তো নেই। সুতরাং আমার যেটি মনে হয় এই ধরনের পচনশীল পণ্য যেগুলো যখন দাম বাড়ে আমাদের দেখতে হবে যে সাপ্লাইয়ে সমস্যা আছে কি না অথবা হঠাৎ কোনো কারণে চাহিদা কিন্তু বেড়ে যেতে পারে।

সিনিয়র সচিব বলেন, আমাদের অবশ্যই মনিটরিং আছে। অবশ্যই এরপরও আমাদের কিন্তু ভরসা করতে হয় যারা বিক্রেতা, যারা বড় ব্যবসায়ী তাদের ওপরেই। কারণ প্রত্যেকটা দোকানে-দোকানে গিয়ে কিন্তু প্রতিনিয়ত আপনি পাহারা দিতে পারবেন না। সুতরাং আমরা সবাইকে, জেলা প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করেছি।

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: