শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ১২৫০০ টাকা সর্বোচ্চ ১৮৮০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

গত ৭ নভেম্বর দেশের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল। এর ঠিক

2023-11-13T02:17:26+00:00
2023-11-13T02:17:26+00:00
 
  শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অর্থনীতি
খসড়া গেজেট প্রকাশ
শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ১২৫০০ টাকা সর্বোচ্চ ১৮৮০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৩, ২:১৭ এএম 
শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ১২৫০০ টাকা সর্বোচ্চ ১৮৮০০
গত ৭ নভেম্বর দেশের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল। এর ঠিক ৫ দিনের মাথায় গতকাল রোববার খসড়া গেজেট প্রকাশ করল সরকার। এতে সর্বনিম্ন মজুরি সাড়ে ১২ হাজার উল্লেখ করার পাশাপাশি কর্মচারী শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ৮০০ টাকা মজুরি কাঠামো উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য গ্রেডেও মজুরি কত হবে সেটিও উল্লেখ রয়েছে খসড়া গেজেটে।

নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী মোল্লা স্বাক্ষরিত এ খসড়া গেজেটে আরও বলা হয়েছে, এ মজুরি হারের ওপর কারও কোনো সুপারিশ বা আপত্তি থাকলে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে জানাতে হবে। এই সময়সীমার মধ্যে পাওয়া আপত্তি বা সুপারিশ বিবেচনার পর বোর্ড সরকারের কাছে সুপারিশ করবে।

এর আগে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ হয়। গত ৭ নভেম্বর বিকালে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ মজুরির ঘোষণা দেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান।
সে সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করছি। পূর্বের ৮ হাজার টাকা থেকে ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা হবে। এ ছাড়া তাদের জন্য বছরে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট থাকবে।

গেজেটে বলা হয়েছে, ন্যূনতম মজুরি সমন্বয় করে ১ বছর কর্মরত থাকার পর শ্রমিক-কর্মচারীদের মূল মজুরির ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ভিত্তিতে মজুরি বৃদ্ধি পাবে। পরবর্তী বছরে ক্রমবর্ধমান হারে পুনরায় মূল মজুরির ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। সোয়েটারসহ অন্যান্য গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরে ফুরনভিত্তিক মজুরিতে কর্মরত শ্রমিকরাও বার্ষিক ভিত্তিতে মূল মজুরির ৫ শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন।

শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মঘণ্টা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারা ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। শ্রমিক-কর্মচারীরা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারা ও বিধি অনুযায়ী ভাতাদি এবং সুবিধাদি পাবেন।

গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড-১-এর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১৪ হাজার ৭৫০ টাকা। এর মধ্যে মূল মজুরি ৮ হাজার ২০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৪ হাজার ১০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ টাকা এবং খাদ্য ভাতা ১ হাজার ২৫০ টাকা।

গ্রেড-২-এর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১৪ হাজার ১৫০ টাকা। এর মধ্যে মূল মজুরি ৭ হাজার ৮০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৩ হাজার ৯০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ টাকা এবং খাদ্য ভাতা ১ হাজার ২৫০ টাকা।

গ্রেড-৩-এর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১৩ হাজার ৫৫০ টাকা। এর মধ্যে মূল মজুরি ৭ হাজার ৪০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৩ হাজার ৭০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ টাকা এবং খাদ্য ভাতা ১ হাজার ২৫০ টাকা।

গ্রেড-৪-এর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১৩ হাজার ২৫ টাকা। এর মধ্যে মূল মজুরি ৭ হাজার ৫০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৩ হাজার ৫২৫ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ টাকা এবং খাদ্য ভাতা ১ হাজার ২৫০ টাকা।
একইভাবে গ্রেড-৫-এর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১২ হাজার ৫০০ টাকা। এর মধ্যে মূল মজুরি ৬ হাজার ৭০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৩ হাজার ৩৫০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ টাকা এবং খাদ্য ভাতা ১ হাজার ২৫০ টাকা।

এ ছাড়া শিক্ষানবিশ শ্রমিকের মজুরি কাঠামোর বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে-শিক্ষানবিশ কাল হবে ৩ মাসের। এই ৩ মাস শিক্ষানবিশ শ্রমিক সাকুল্যে বেতন পাবে ৯ হাজার ৮৭৫ টাকা। এর মধ্যে মূল মজুরি হবে ৪ হাজার ৯৫০ টাকা, ৫০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া হিসাবে ২ হাজার ৪৭৫ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ টাকা এবং খাদ্য ভাতা হিসাবে পাবে ১ হাজার ২৫০ টাকা।

খসড়া গেজেটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গার্মেন্টস খাতে কর্মরত কর্মচারী শ্রেণিদের মধ্যে গ্রেড-১-এর স্টোর কিপারসহ অন্যরা পাবেন সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ৮৮০ টাকা। তাদের মূল বেতন হবে ১০ হাজার ৯০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৫ হাজার ৪৫০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ টাকা এবং খাদ্য ভাতা পাবেন ১ হাজার ২৫০ টাকা।

কর্মচারী শ্রেণির গ্রেড-২-এ মোট মজুরি ১৫ হাজার ৯৫০ টাকা। এই শ্রেণির মূল মজুরি ৯ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া ৪ হাজার ৫০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ টাকা এবং বাড়ি ভাড়া ১ হাজার ২৫০ টাকা।
গ্রেড-৩-এ মোট মজুরি ১৫ হাজার ২০০ টাকা। মূল মজুরি ৮ হাজার ৫০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৪ হাজার ২৫০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ টাকা এবং খাদ্য ভাতা ১ হাজার ২৫০ টাকা।

সবশেষ গ্রেড-৪-এ মোট মজুরি ১২ হাজার ৮০০ টাকা। এর মধ্যে মূল মজুরি ৬ হাজার ৯০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৩ হাজার ৪৫০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ টাকা এবং খাদ্য ভাতা ১ হাজার ২৫০ টাকা।

আপত্তি জানাবেন মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি

অন্যদিকে খসড়া গেজেট প্রকাশের পর সেটি পর্যালোচনা করে দেখেছেন মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম রনি। এতে তিনি দেখতে পান ৫ গ্রেডে যে হারে বেতন বেড়েছে সেই একই হারে অন্য গ্রেডগুলোতে বাড়েনি বেতন। 

বিষয়টি উল্লেখ করে সিরাজুল ইসলাম রনি রোববার সময়ের আলোকে বলেন, খসড়া গেজেটে আমি বেশ কিছু অসংগতি দেখতে পেয়েছি। বিশেষ করে পঞ্চম গ্রেডে যে হারে বেতন বেড়েছে অন্যান্য গ্রেডে সে হারে বাড়েনি। এ জন্য আমি বিষয়টি উল্লেখ করে মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে আপত্তি জানাব এবং সংশোধনের দাবি জানাব। যদি সংশোধন করে তো ভালো, নতুবা আমি চূড়ান্ত গেজেটে স্বাক্ষর করব না।

সময়ের আলো/আরএস/



Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: