কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাসে বহিরাগতদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লা নগরীর টমচম ব্রীজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১০জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারী মো: রাকিব (২২) নামের এক যুবককে ধরে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় তাকে পুলিশের হাতে সোর্পদা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পূর্ব ঘটনার জের ধরে নগরী থেকে ক্যাম্পাসে ফিরতি নীল বাস টমচম ব্রীজ এলাকায় আসলে ৪০-৫০ জন হামলাকারী রড, এসএস পাইপ, লাঠি, গ্যাস পাইপ নিয়ে বাস চালক ও হেলপারের উপর হামলা করে। এসময় শিক্ষার্থীরা বাধা দিলে বাসে এলোপাতাড়ি আঘাত করে হামলাকারীরা। পরে শিক্ষার্থীরা বাস থেকে নেমে আসলে হামলাকারী পালিয়ে যায়। এসময় বাস চালক, হেলপারসহ অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। তারা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। এসময় হামলাকারীরা গাড়িতে থাকা নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষা গালি দেয়।
খোজঁ নিয়ে জানা যায়, এর আগে গত ২৮ মে রাত ৮ টায় নগরী থেকে ছেড়ে আসা নীল বাস টমছম ব্রীজ সংলগ্ন ইউটার্ন পার হওয়ার সময় বাস হেলপার এক অটোরিক্সাকে সাইড দিতে বলায় ক্ষিপ্ত হয় দুই যাত্রী। এসময় বাস চালক ও হেলপারের সাথে তাদের বাকবিতণ্ড হয়। বাকতিতণ্ডার এক পর্যায়ে বাস হেলপারকে মারতে আসলে শিক্ষার্থীরা নেমে হামলাকারীদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। এরই জের ধরে আজ পুণরায় হামলা করেন ৪০-৫০ জনের একটি গ্রুপ। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
হামলার সময় বাস চালক ও হেলপারকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাকিল আহম্মেদ, অর্থনীতি ১৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শেখ মাসুম, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ১৫ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জুবায়ের মাহমুদ সাকিব, আব্দুল বাসেদ , ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ১৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আদনান হোসেন শাহেদ, রিফাতুল ইসলাম, মো. আতিক রহমান ও বাস চালক সুমন দাশ ও হেলপার জহিরুল ইসলাম।
আহত জুবায়ের মাহমুদ সাকিব বলেন, টমছম ব্রীজে ইউটার্ন নেওয়ার সময় ২৫-৩০ জন লোক আমাদের বাসে অতর্কিত হামলা করে। এতে আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তাদের হাতে লাঠি-শোঠা, স্টেইলেস স্টিল / এস এস পাইপ এবং বাঁশ ছিল। হামলার পর আমরা কয়েকজন মিলে তাদের দৌঁড়ে ধরার চেষ্টা করি। আমি যখন ওদের ধরতে যাই, তখন এস এস পাইপ দিয়ে আমার ডান হাতে আঘাত করে। এতে আমার ডান হাতের কনুই মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
আরেক আহত শিক্ষার্থী আদনান হোসাইন শাহেদ বলেন, আমি বাসে জানালার ডান পাশেই বসছিলাম, তারা ওই দিক দিয়েই আঘাত করে। তখন আমি হাতের কনুইর মধ্যে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
আহত বাস হেলপার জহিরুল ইসলাম বলেন, গতরাতে টমচম ব্রীজে ইউটার্ন নিতে গেলে এক অটোরিক্সাকে সাইড দিতে বলি। এসময় অটোরিক্সায় থাকা দুই যাত্রী আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারতে আসে। পরে বাসে থাকা মামারা তাদের ধাওয়া দেয়। তার জের ধরে তারা আজকে আবার হামলা করে। এসময় বাস চালকসহ আমাকে এবং ছাত্রদের মারধর করে। আমরা এখন হাসপাতাল থেকে থানায় যাচ্ছি। স্যারেরা বলেছেন মামলা করবেন। তবে আমরা প্রতিদিন শহরে বাস নিয়ে যাব, এতে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আটককৃত হামলাকারী রাকিব বলেন, বাসের সাথে আমার বন্ধু শিহাব ও সৈকতের ঝামেলা হয়েছে। আজকে আমরা সেটার জন্য এসেছিলাম। এসময় শিহাব আর সৈকত পালিয়ে গেলেও আমারে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে।
এ বিষয়ে কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস এম আরিফুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খবর পেয়ে আমরা এসেছি। শিক্ষার্থীরা এক ছেলেকে ধরে নিয়ে এসেছে। যেহেতু সে এ ঘটনায় জড়িত তাকে আমাদের হেফাজতে নিচ্ছি। আর যারা আঘাতপ্রাপ্ত তাদের নাম ঠিকানা নিছি। তারা যদি মামলা করে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, শহরে বহিরাগতরা আমাদের শিক্ষার্থী বাসে হামলা করে। তারই প্রেক্ষিতে আমাদের শিক্ষার্থীরা একজনকে ধরে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে। পরে আমরা প্রক্টরিয়াল বডি পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে প্রক্টরিয়াল অফিসে নিয়ে আসি। পরে হামলাকারী আটককৃত যুবককে পুলিশের হাতে সোর্পদা করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।