
কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫.৬ মাত্রায় অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পের ফলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি আবাসিক হলসহ বিভিন্ন ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। শনিবার (২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ নামক স্থান থেকে উৎপত্তিলাভ করে ভূমিকম্পটি। ভূমিকম্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে এবং নিচে নেমে আসে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পাঁচতলার দক্ষিণ পাশের ব্লকের ৫০৪ নম্বর রুমের সামনের করিডরের মেঝের দু’টি টাইলস উঠে গেছে। একই তলায় নতুন ও পুরাতন ব্লকের সংযোগস্থলের করিডরে ফাটল দেখা গেছে। পাশাপাশি দক্ষিণ ২০৪ ও ২০৫ নং রুমের মাঝের সংযোগস্থলে পুরো পাঁচতলায় ফাটল তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া ২০৯নং রুমেও ফাটল দেখা যায়।
কাজী নজরুল ইসলাম হলের দ্বিতীয় তলার ২০৭ নম্বর রুমেে দেয়ালে, টিভি রুমের সামনের পিলারের সংযোগস্থলে ফাটল দেখা দিয়েছে। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের পাচঁ তলার ৫০০১ নং রুমের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।
নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী হলের পাঁচতলার ৫১১ নম্বর রুমে, ৫০৩ নম্বর রুমে ফাটল ও চারতলার ৪০৩ নম্বর রুমের সামনের করিডরে ফাটল দেখা গেছে।
এছাড়া শেখ হাসিনা হল, ক্যাফেটেরিয়াসহ বিভিন্ন হলের দেয়ালের রঙের আস্তরণ উঠে গেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্পের পরও দেয়ালে ফাটল সৃষ্টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে ভবন নির্মাণের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন হলের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলো তৈরি করা হয় দীর্ঘমেয়াদি প্লান নিয়ে, যেটি দীর্ঘসময় সার্ভিস দিবে। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোর বয়স ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে হওয়া সত্ত্বেও এত দ্রুত ফাটল সৃষ্টি হয় কিভাবে। ভূমিকম্প যদি আরও তীব্র আকার ধারণ করে তাহলে ভবনগুলো ভেঙ্গে পড়তে পারে অনেকের আশঙ্কা। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভবনের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা গেছে শিক্ষার্থী। অনেকে আবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টিতে নজর দেয়ার আহ্বায়ন জানিয়েছেন।
এদিকে হল পর্যবেক্ষণ করার কথা জানিয়েছেন আবাসিক হলের প্রভোস্টরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট তোফায়েল হোসেন মজুমদার জানান, তিনি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতরে কথা বলবেন বিষয়টি দেখার জন্য।
প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ঘটনার পর প্রকৌশলীদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রকৌশলীরা ঘুরে ঘুরে দেয়ালগুলো দেখেছেন। তারা জানিয়েছেন এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কিছু নয়। শুধু দেওয়ালের জয়েন্টগুলোতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এরপরও তারা পর্যবেক্ষণে রাখছে ফাটল হওয়া স্থানগুলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী এসএম শহিদুল হাসান বলেন, ভূমিকম্পে যেসব ভবনে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কারণ এই ভবনগুলোর দেয়াল এমনভাবে তৈরি করা হয়ছে, যেখানে ভূমিকম্প হলে মূল কাঠামোতে সরাসরি প্রভাব পড়ার আগেই দেয়ালে প্রভাব পড়বে এবং ঝাঁকুনিটা দেয়ালেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আজকের ভূমিকম্পে মূল কাঠামোতে ঝাঁকুনি লাগেনি, ফলে ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে আমাদের টিম পর্যবেক্ষণ করেছে।
সময়ের আলো/জেডআই