৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, জাতীয় চার নেতাকে হত্যা, ২১ শে আগস্ট ২০০৪ সালে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার চেষ্টা- প্রতিটি ঘটনায় ইন্ধন ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইন্ধন দিচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং যুদ্ধাপরাধীদের স্থান দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে মানবাধিকারের প্রতি তাদের আদৌ কোনো ভক্তি-শ্রদ্ধা নেই।
রোববার (১০ ডিসেম্বর) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ‘বিশ্ব মানবতার পক্ষে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং যুদ্ধাপরাধীদের স্থান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মানবাধিকার সনদের ১৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যারা অপরাধ করেছে তাদের কোনো দেশ আশ্রয় দেবে না, কিন্তু তারা আশ্রয় দিয়ে প্রমাণ করেছে মানবাধিকারের প্রতি তাদের আদৌ কোনো ভক্তি-শ্রদ্ধা নেই।
তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসের জন্য, বাংলাদেশকে ধ্বংসের জন্য বঙ্গবন্ধু হত্যায় সবচেয়ে বড় নারদের ভূমিকা রেখেছিল খুনি জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান শতশত মানুষকে হত্যা করেছে, মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে। তার পাকিস্তানী-চীনা মনিবদের আদেশক্রমে যারাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল তাদেরই খুনি জিয়া হত্যা করেছে।
বিচারপতি মানিক বলেন, খালেদা জিয়া একই ধারা অনুসরণ করে গেছে। ২০০২ সালে এই খুনি খালেদা জিয়া অপারেশন ক্লিনহার্ট নামে তার পুলিশ বাহিনীকে আদেশ দিয়েছিল- আমি যাদের কথা বলব তাদেরকে তোমরা বিনা বিচারে হত্যা করবে, গুম করবে এবং নির্যাতন করবে, গ্রেফতার করবে। সে থেকেই বিনা বিচারে হত্যা গুমের শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। সেগুলোর বিরুদ্ধে ভারত ছাড়া আর কাউকে আমরা কথা বলতে শুনিনি। আজ খুনি জিয়ার খুনি ছেলের নির্দেশে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা তেরো-চৌদ্দ-আঠারোতে জ্বালাও পোড়াও মাধ্যমে মানুষ হত্যা করেছে, সম্পদ বিনষ্ট করেছে।
সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, একাত্তর সালে আমাদের বাংলাদেশে যে এতজন বুদ্ধিজীবীসহ এত মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল তখন বিশ্ব মানবতা কোথায় ছিল? ৭১ এর যুদ্ধের পরে ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে ইন্ধন ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, পরবর্তীকালে আমাদের চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল, ২১ শে আগস্ট ২০০৪ সালে আমাদের নেত্রীকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রতিটা ইন্ধনেই ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইন্ধন দিচ্ছে, ২০১৩ ও ১৪ সালে অগ্নি সন্ত্রাসদেরকেও তারা ইন্ধন দিয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে পীযূষ বন্দোপাধ্যয় বলেন, বিশ্ব মানবতা আজ বারবার বিপন্ন হচ্ছে। বিপন্ন হচ্ছে বর্বরোচিত আক্রমণ, অমানবিক আচরণের ফলে। ১৯৭১ এর শিক্ষা থেকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে যা আমাদের পররাষ্ট্র নীতিতে আছে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সাথে শত্রুতা নয়। বাংলাদেশের মানুষ বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ায়। বিপন্ন মানবতার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে আসে তখন শেখ হাসিনা তাদের আশ্রয় দেন। ফিলিস্তিনের মানুষেরা তাদের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করে তখনও কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ, সরকার তাদের পাশে দাঁড়ায়।
সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহবায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় সভাপতিত্বে ও ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ সদস্য সাইফ আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন গৌরব-৭১ এর সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন, মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চের রেভারেন্ড মার্টিন অধিকারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, চারুশিল্পী সংসদের সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সম্প্রীতি বাংলাদেশের যুগ্ম আহবায়ক উত্তম বড়ুয়া প্রমুখ।
সময়ের আলো/আরআই