মুসলমান মাত্রই প্রতিটি ভালো কাজ আল্লাহর নামে শুরু করেন। এ ক্ষেত্রে আরবিতে ব্যবহৃত হয় ‘বিসমিল্লাহ’ বা ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’। এটি বরকত ও প্রবৃদ্ধিরও উৎস। মানুষ মাত্রই বরকতময় জীবনের প্রত্যাশী। একে অপরের জন্য বরকতের দোয়া করে সবাই।
হাদিসে এসেছে-রাসুল (সা.) বলেছেন, বিসমিল্লাহ ছাড়া কোনো ভালো কাজ শুরু করলে তা অপূর্ণ ও বরকতশূন্য থাকে। তাই আমরা ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দ্বারা কাজ শুরু করি। কোনো কিছু লেখার শুরুতেও বিসমিল্লাহ লিখি। বিশেষ করে চিঠি, দরখাস্ত ইত্যাদির শুরুতে বিসমিল্লাহ লেখা সুন্নত। হজরত সুলাইমান (আ.) চিঠির শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ লিখেছিলেন (সুরা নামল : ৩০)। রাসুল (সা.) বিভিন্ন অমুসলিম দেশে যে দাওয়াতি চিঠি পাঠিয়েছিলেন তাতেও এটি লিখেছেন। হুদাইবিয়ার সন্ধিপত্রেও এটি লিখিত ছিল। এ কারণে আমরাও বিভিন্ন লেখার শুরুতে এটি লিখে থাকি। তবে প্রয়োজন পূর্ণ সতর্কতার। কারণ এটি কুরআনের একটি আয়াত। বরকতের আশায় যেন আয়াতের অবমাননা না হয়।
১. একটি দোকানের নাম ‘বিসমিল্লাহ বস্ত্রালয়’। খুব ভালো বেচাকেনা হয়। এই নামেই শপিং ব্যাগ বানানো। ক্যাশ মেমোও এ নামেই করা। দোকানিরা সে ব্যাগেই পণ্য সরবরাহ করছে। গ্রাহককে মেমো দিচ্ছে। আর কাস্টমার প্রয়োজন শেষ হলে তা যত্রতত্র ফেলে দিচ্ছে। কখনো পায়ের নিচে, কখনো ময়লা ডাস্টবিনে পড়ছে। বিষয়টি খুবই কষ্টদায়ক। তাই যাদের দোকানের এমন নাম আছে বিনীত নিবেদন থাকবে আল্লাহর কালামের সম্মানে নামটা পরিবর্তন করুন।
২. নির্বাচনি পোস্টারে বিসমিল্লাহর অবমাননা একটু বেশি হয়। হ্যান্ডবিলের ছড়াছড়ি। যেখানে সেখানে পড়ে থাকে। এক নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রেসে গেলাম। নিবেদন করলাম, ভাই পোস্টারগুলোতে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম না লিখলে হয় না? এগুলো তো রাস্তায় পড়ে, পায়ের নিচে পড়ে। উত্তর দিলেন, আসলে আমাদের আপত্তি নেই তবে তারা বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম আগে দিতে বলে। আবার ধর্মীয় মাহফিলের পোস্টারেও দেখা যায় বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম লেখা। সব পোস্টারগুলো যথাযথ সংরক্ষণ থাকে না। এ ছাড়াও ভিজিটিং কার্ড, ভাউচার ইত্যাদিতে অনেকেই বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম লিখেন। এগুলো লিখবেন না। মুফতি সাহেবরা বলেন, যেসব জিনিস সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না এমন জিনিসের শুরুতে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম লিখা উচিত নয়, বরং মুখে পড়ে নেওয়াই যথেষ্ট।
৩. বিভিন্ন কোম্পানির ক্যালেন্ডারে আয়াত ক্যালিগ্রাফি করা থাকে। এগুলো দিয়ে অনেক সময় আমরা বাচ্চাদের বই মোড়াই। এটাও ঠিক নয়। কারণ ওজু ছাড়া কুরআনের আয়াত স্পর্শ করা নাজায়েজ।
৪. তাজিব, আংটি ইত্যাতিদে আল্লাহর নাম, কালেমা তাইয়্যিবা, নবীর নাম খোদাই করা থাকে। এগুলোও পরিহার করা চাই। বিশেষত এসব খোদাইকৃত বস্তু নিয়ে কখনো টয়লেটে যাবেন না।
৫. বিভিন্ন মসজিদে খাটিয়ার ওপর দেওয়ার জন্য কুরআনের আয়াত লিখিত চাদর ব্যবহার করা হয়। এটাও পরিহার করা চাই।
৬. আমরা স্কুল, মাদরাসার ধর্মীয় পুরোনো বই বিক্রি করি। যাতে কুরআনের আয়াত-হাদিস লেখা থাকে। এগুলো আবার বাদাম, ঝালমুড়ি বিক্রেতারা আমাদের হাতে পরিবেশন করেন। পড়ে থাকে পায়ের নিচে যা স্পষ্ট অবমাননা। সুতরাং এগুলো বিক্রির সময় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
সময়ের আলো/আরএস/