কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে সালমানপুর এলাকার ফরহাদ খন্দকার নামের এক বহিরাগত যুবককে আটক করেছে শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনসার ক্যাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী কোটবাড়ি থেকে মেসে যাচ্ছিলেন। এসময় ওই শিক্ষার্থী আনসার ক্যাম্প এলাকায় আসলে পথরোধ করে মদ্যপায়ী অভিযুক্ত যুবক। এসময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের উদ্দেশ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি দেখায় ও গালাগালি করতে থাকে। তখন শিক্ষার্থী ওই যুবকের কাছে গালাগালির কারণ জানতে চায়লে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করে। পরে ভুক্তভোগী ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং সহপাঠীদের খবর দেয়। খবর পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা অভিযুক্ত যুবককে ধরে ফেলে এবং ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি পুলিশকে সোর্পদা করেন।
ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী জানান, আমি যখন কুটবাড়ি থেকে মেসে ফিরছিলাম তখন রাস্তার মধ্যে এক যুবক আমাকে দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের ও আমাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে। তখন ভয় পেয়ে আমি স্থানীয় এক মুরব্বিকে আমার মেস পর্যন্ত এগিয়ে দিতে বলি। তখন নেশাগ্রস্ত যুবক আমাকে বলে এই আপু আমার সাথে কথা বলেন। এরপর একটি লাঠি হাতে আমার দিকে তেড়ে আসতে থাকলে আমি ভয়ে পেয়ে সেখান থেকে চলে আসি। এরপর আমার বিভাগের জুনিয়রদের কল দিয়ে সাহায্য চাই। তখন তারা এসে ওই যুবককে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে।
তিনি আরও বলেন, এখানে অনেক নারী শিক্ষার্থী থাকে। এরকম যদি কেউ সবসময় ইভটিজিং করে তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়। আমি নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। মামলার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমার বিভাগের পরামর্শক্রমে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে যাবো।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ভুক্তভোগীর প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা অপরাধীকে পুলিশের কাছে সোপর্দা করেছি। ইভটিজিং মামলার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মামলা করার নিয়ম নেই। তাই আপাতত পুলিশের হেফাজতেই থাকবে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী যদি মামলা করে তখন পুলিশ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে। আর ভুক্তভোগী যদি মামলা না করে তাহলে আমরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে বসে পরবর্তী ব্যবস্থা নিবো।
এ বিষয়ে কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক আফসার উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা অপরাধীকে আপাতত নিজেদের হেফাজতে নিয়েছি। ভুক্তভোগী যদি মামলা করে আমরা সে অনুযায়ী পরবর্তী আইননুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
সময়ের আলো/এম