কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেছেন, ১৯৭১ সালের এইদিনে একটি মূল্যবোধকে সামনে রেখে আমরা এদেশ স্বাধীন করেছি। স্বাধীনতার যে মূল্যবোধ সেটিকে নিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সে মূল্যবোধ যেন দেশকে টিকিয়ে রাখে, গণতন্ত্রকে সুসংহত হয়, দেশের উন্নতি যেন আরো প্রসারিত করতে পারে সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাহলেই এদেশের স্বাধীনতা তার পরিপূর্ণতা পাবে।
শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় তিনি বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধ স্বচক্ষে দেখেছি, সেসময় আমি দেখেছি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কিভাবে এদেশের মানুষকে হত্যা করেছে। এদেশের মানুষকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। ১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি।
উপাচার্য আরো বলেন, যখন এদেশ স্বাধীন হয়েছে রাজাকারেরাই অস্ত্র হাতে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছে। পাকিস্তানি বাহিনীর চেয়ে বাংলাদেশের বেশী ক্ষতি করেছে রাজকার, আল বদর, আল শামসরা। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও মাথাছাড়া দিয়ে উঠছে এসব গোষ্ঠী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যারা চায়নি তারা আরো বেশী তৎপর। আর যেসব বিদেশীরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কথা বলছে তারাই ৭১ সালে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল। বিদেশীরা এখন জাতীয় নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এদিন সকালে উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মঈনের নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা। পরে বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শাখা ছাত্রলীগ, কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদ, বিভিন্ন আবাসিক হল, বিভাগ, সাংস্কৃতিক সংগঠন, কুবিসাস, বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন পুষ্পার্ঘ্যের মধ্যে দিয়ে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 
শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ৩০ লক্ষ মানুষ হাসিমুখে বিদায়ের পরিবর্তে আজ স্বাধীন বাংলাদেশ। বাংলার মানুষ বাঁশ লাঠি নিয়ে রাইফেলের, আগ্নেয়াস্ত্রের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আজ আমরা তাদের আত্মত্যাগ ভুলে যাচ্ছে। আমরা দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ভুলে যাচ্ছি। সময় এসেছে আজ বিভেদ ভুলে ঐক্য হওয়ার।
এসময় বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান ফটক ও বিভিন্ন ভবনে আলোকসজ্জা এবং দুপুরে আবাসিক হলে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় একটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন রয়েছে।
সময়ের আলো/আরআই