কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ১৯টি বিভাগের ৪০৬ জন শিক্ষার্থীকে তৃতীয়বারের মত ‘ভাইস চ্যান্সেলর স্কলারশিপ’ দেয়া হয়েছে। মেধা, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, ক্রীড়াসহ মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে এসব স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৮ হাজার ৫০০ টাকার বৃত্তির চেক বিতরণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন।
অনুষ্ঠানে ‘ভাইস চ্যান্সেলর স্কলারশিপ’ প্রদান কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুহ. আমিনুল ইসলাম আকন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান, বিএনসিসির ময়নামতি রেজিমেন্ট কমান্ডার লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. কামরুল ইসলাম, কুমিল্লা স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান এবং কুবি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এনএম রবিউল আউয়াল চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুবি উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মঈন বলেন, একাডেমিক জীবনে শিক্ষার্থীদের সাফল্য, অধ্যবসায়ের স্বীকৃতিস্বরূপ এই তৃতীয়বারের মত স্কলারশিপ দেয়া হচ্ছে। গতবছর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম নতুন বছরে আরো বড় পরিসরে বৃত্তি দিবো, আমি সে কথা রেখেছি। ভর্তি পরীক্ষার আয়ের ৮০ শতাংশ তহবিল ফান্ড করে এই বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমরা মেধার স্বীকৃতি এবং অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির জন্য ভর্তি পরীক্ষার অর্থে তহবিল গঠন করেছি। আমরা গতবছর কথা দিয়েছিলাম খেলাধুলায় বৃত্তি দিবো, এবার সেটাও অন্তর্ভুক্ত করেছি। এটি একাডেমিক পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা প্রদানে ভূমিকা রাখবে।
উপাচার্য আরো বলেন, শিক্ষা হওয়া উচিৎ গঠনমূলক, অর্থপূর্ণ, প্রকৃত ও বাস্তবতা নির্ভর। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রায়োগিক, অভিজ্ঞতামূলক ও সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতা বিকাশ করতে আমরা কাজ করি এবং উৎসাহিত করি। আমরা বিশ্বাস করি এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের সাথে অভিযোজন করতে পারবে এবং নিজেদেরকে নেতৃত্বস্থানীয় পদে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে জাতীয় ও বৈশ্বিক উন্নয়নে অবদান রাখবে। স্কলারশিপ প্রোগ্রাম গতবছর শুরু করেছিলাম এবং এটি এখানে শেষ নয়। একাডেমিক সাপোর্ট ও স্বীকৃতি দিতে এই প্রোগ্রাম চলমান থাকবে।
উল্লেখ্য, এরআগে ২০২২ সালে দুইবার মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবার স্কলারশিপ প্রাপ্ত ৩৯১ জন শিক্ষার্থীকে পাবেন জন প্রতি ৮ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৩৩ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ টাকার বৃত্তি দেয়া হয়েছে। এছাড়া কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অর্থায়নে নিজ বিভাগের ১৫ জন শিক্ষার্থীকে অর্থাৎ এসএসএম মেমোরিয়াল ফান্ড থেকে ৩ জন এবং উত্তর ক্যারোলিনা, ইউএসএ ভিত্তিক স্কলারশিপ প্রোগ্রাম-শোপান থেকে ১২ জনসহ মোট ১৫ জন শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে দেয়া হবে।
সময়ের আলো/আরআই