নারীদের নামাজে বিশেষ আমল

নাজমা আয়মান

ইসলামের আলো

তাওহিদ, রিসালাত ও আখেরাতের আলোচনার পর কুরআনে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নামাজের প্রতি। আসলে শরিয়তে ঈমানের পরই নামাজের স্থান এবং

2023-12-19T01:47:32+00:00
2023-12-19T01:47:32+00:00
 
  শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬,
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
নারীদের নামাজে বিশেষ আমল
নাজমা আয়মান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৩, ১:৪৭ এএম   (ভিজিট : ৭৭৮)
নারীদের নামাজে বিশেষ আমল
তাওহিদ, রিসালাত ও আখেরাতের আলোচনার পর কুরআনে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নামাজের প্রতি। আসলে শরিয়তে ঈমানের পরই নামাজের স্থান এবং নামাজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ। এক হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সব কিছুর মূল হলো ইসলাম আর নামাজ হলো এর প্রধান খুঁটি’ (তিরমিজি : ২৬১৬)। নামাজ ঈমানের পরিচয় বহন করে। যে নামাজ পড়ে না হাদিস শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী সে মুসলমান থাকে না। 

কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার নামাজের হিসাব গ্রহণ করা হবে। মেরাজের পবিত্র রাতে রাব্বে কারিমের পক্ষ থেকে মহানবী (সা.) উম্মতের জন্য নামাজের হাদিয়া নিয়ে এসেছেন। 

ইসলামে যতগুলো আচরণীয় বিধান রয়েছে সেগুলোর মধ্যে প্রধানতম হচ্ছে নামাজ। পুরুষ-নারী উভয়ের জন্যই এ বিধান সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের নামাজের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এর মূল কারণ হলো পুরুষের চেয়ে নারীর সতরের পরিমাণ বেশি। তাই তাদের সতর বেশি রক্ষা করা উচিত। 
বিশিষ্ট তাবেয়ি ইয়াযিদ ইবনে আবি হাবিব (রহ.) বলেন, ‘একবার রাসুল (সা.) নামাজরত অবস্থায় দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাদের সংশোধনের উদ্দেশে বললেন, যখন সেজদা করবে তখন শরীর জমিনের সঙ্গে মিলিয়ে দেবে। কেননা নারীরা এক্ষেত্রে পুরুষের মতো নয়।’ (কিতাবুল মারাসিল, ইমাম আবু দাউদ : ৮০)। অন্য এক হাদিসে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নারী যখন নামাজে বসবে তখন যেন ডান ঊরু অপর ঊরুর ওপর রাখে। 

আর যখন সেজদা করবে তখন যেন পেট ঊরুর সঙ্গে মিলিয়ে রাখে, যা তার সতরের জন্য অধিক উপযোগী। আল্লাহ তাকে দেখে ফেরেশতাদের সম্বোধন করে বলেন, ওহে আমার ফেরেশতারা! তোমরা সাক্ষী থাকো, আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম।’ (বায়হাকি : ২/২২৩)

হাদিসের বক্তব্য থেকে এ কথা সুস্প ষ্ট হয় যে, নারীর নামাজ আদায়ের শরিয়ত নির্ধারিত ভিন্ন এই পদ্ধতির মধ্যে ওই দিকটিই বিবেচনায় রাখা হয়েছে, যা তার সতর ও পর্দার ক্ষেত্রে সর্বাধিক উপযোগী। উল্লেখ্য, নামাজের মধ্যে নারীদের যে অঙ্গগুলো ঢেকে রাখা ফরজ যদি তার এক-চতুর্থাংশ বিবস্ত্র হয়ে যায় তা হলে তার নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। অতএব, মহিলাদের মাথার চুলও একটি স্বতন্ত্র অঙ্গ। একটি চুলেরও যদি এক-চতুর্থাংশ উন্মুক্ত হয়ে যায় তবুও নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। নিচে নারীদের নামাজের ব্যতিক্রম দিকগুলো তুলে ধরা হলো :

তাকবিরে তাহরিমা ও দাঁড়ানো অবস্থায় ব্যতিক্রম- ১. নারীরা তাকবিরে তাহরিমা বলার সময় উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাবে। ২. চাদর, ওড়না ইত্যাদির ভেতর হতে হাত বের করবে না। ৩. বুকের ওপর হাত বাঁধবে। ৪. মহিলাগণ শুধু ডান হাতের পাতা বাম হাতের পিঠের ওপর রাখবে। পুরুষের মতো করে কব্জি ধরবে না এবং হালকাও (গোলাকৃতি) বানাবে না। ৫. দুই পা মিলিয়ে রাখবে। পুরুষের মতো দুই পায়ের মাঝখানে ফাঁকা রাখবে না।

রুকুতে ব্যতিক্রম- ১. রুকুর মধ্যে সামান্য ঝুকবে। ২. রুকুর মধ্যে উভয় হাতের আঙুলগুলো মিলিয়ে হাঁটুর ওপর রাখবে। ৩. রুকু অবস্থায় উভয় হাতের কনুই পাজরের সঙ্গে মিলিয়ে রাখবে।

সেজদায় ব্যতিক্রম- ১. নারীরা যথাসম্ভব চাপিয়ে এবং মাটির সঙ্গে মিশিয়ে সেজদা করবে। ২. পেট রানের সঙ্গে মিলিয়ে রাখবে। ৩. দুই বাজু পাজরের সঙ্গে মিলিয়ে রাখবে। ৪. উভয় হাতের কনুই মাটির সঙ্গে মিলিয়ে রাখবে। ৫. সেজদার মধ্যে হাত পায়ের আঙুলগুলো কেবলার দিকে রাখবে, কিন্তু পা খাড়া করবে না; বরং ডান দিকে বের করে দেবে। 

বৈঠকে ব্যতিক্রম- ১. বসার সময় বাম দিকে বসবে। ২. উভয় পা ডান দিকে বের করে রাখবে। ৩. আত্তাহিয়াতু এবং অন্যান্য বসার মধ্যে হাতের আঙুলগুলো মিলিয়ে রাখবে। নারীদেরকে নামাজে অবশ্যই উপরিউক্ত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রেখে নামাজ আদায় করতে হবে।

সময়ের আলো/জেডআই



Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: