শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে এবং নিজেদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধি করতে ক্রীড়ার উন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ, ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবলসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন, সেরা খেলোয়াড়দের ‘ভাইস চ্যান্সেলর স্পোর্টস স্কলারশিপ’ প্রদানসহ নানা উদ্যোগ নিতে গেছে। এ ছাড়াও ছেলেদের পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীরাও খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। এর মাধ্যমে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হতে চায় বিশ্ববিদ্যালয়টি।
শারীরিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন আন্তঃবিভাগ প্রতিযোগিতার আয়োজন শুরু হয়। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতায় আইন বিভাগকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। শেখ কামাল কাপ আন্তঃবিভাগ ভলিবল (ছাত্রছাত্রী) প্রতিযোগিতা।
এতে ছাত্র ক্যাটাগরিতে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ এবং ছাত্রী ক্যাটাগরিতে বাংলা বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়। বর্তমানে চলছে আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। এ ছাড়াও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আন্তঃবিভাগ ব্যাডমিন্টন (ছাত্রছাত্রী) প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। ফেব্রুয়ারিতে কুবি আয়োজন করবে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় হকি প্রতিযোগিতা। এর আগে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় আন্তঃহল (ছাত্রী) ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। এতে শেখ হাসিনা হল ও নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের ছাত্রীরা অংশ নেয়।
এদিকে প্রথমবারের মতো ভাইস চ্যান্সেলর স্কলারশিপের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে খেলোয়াড়দের। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন ও হকি ইভেন্টে চারজন নারী শিক্ষার্থীসহ মোট ১৯ জনকে ‘ভাইস চ্যান্সেলর স্পোর্টস স্কলারশিপ’ প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া খেলাধুলার উন্নয়নে আরও কয়েকটি উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে স্থায়ী ভলিবল ও হ্যান্ডবল মাঠ এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে গ্যালারি নির্মাণের পরিকল্পনা। চলমান আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফলাফল দেখা যাচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যম ক্রিকহিরোজে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে বসানো হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের স্কোরবোর্ড। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিপিএলের দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানমুখী উদ্যোগে খুশি খেলোয়াড়রা। ভাইস চ্যান্সেলর স্পোর্টস স্কলারশিপ (ক্রিকেট) পাওয়া আবদুল্লাহ আল সিফাত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে স্পোর্টস স্কলারশিপ প্রতিটি খেলোয়াড়েরই স্বপ্ন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগে স্পোর্টস স্কলারশিপ ছিল না।
বর্তমান উপাচার্য স্যারই প্রথম খেলোয়াড়দের জন্য স্পোর্টস স্কলারশিপ চালু করেছেন। এ ধরনের উদ্যোগ ক্রীড়াপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করবে। উপাচার্য স্যার শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি খেলাধুলাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। এতে একটি আদর্শ উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। খেলাধুলার মাধ্যমে এ সুস্থ বিনোদনের ধারা অব্যাহত থাকুক। স্কলারশিপ পাওয়া নারী ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় সোনিয়া সুলতানা জানান, স্পোর্টস স্কলারশিপ নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এটা শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহ দেয়, অনুপ্রেরণা জোগায়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।
আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় অমিত সরকার জানান, খেলাধুলা মানসিক ও শারীরিক বিকাশের অন্যতম মাধ্যম। আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত তাদের সবারই সবসময় এমন কিছু চাওয়া ছিল। এই স্পোর্টস স্কলারশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত হবে। আমরা আশা করি ভিসি স্যারের স্পোর্টস ভিশনকে সফল করার জন্য কুবি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় যেকোনো ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান বলেন, সুস্থ দেহ ও সতেজ মন ধরে রাখতে খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। আশার কথা হলো, সরকার ক্রিকেট ও ফুটবলের পাশাপাশি সব ধরনের খেলাধুলার প্রসারে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, তারই অংশ হিসেবে আমরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করছি। এ ছাড়া আমাদের আরও একটি উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় যোগ্যতার প্রমাণ করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পড়াশোনা, গবেষণায় নয়, ক্রীড়া ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাবে। আমি ক্রীড়া ক্ষেত্রে বৃত্তি চালু করেছি, স্পোর্টস কমপ্লেক্স করেছি, মেয়েদেরও খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছি। এখন থেকে সারা বছর খেলাধুলার আয়োজন করা হবে। কারণ আমি হলিস্টিক এডুকেশনে বিশ্বাস করি।
আমার শিক্ষার্থীদের ভালো রেজাল্ট করতে হলে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। আমরা এসব উদ্যোগ নিয়েছি কারণ আমাদের লক্ষ্য আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় যেকোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নিয়ে আসতে চাই। সামনে আরও বিভিন্ন উদ্যোগ দেখতে পাবে তোমরা।
তিনি আরও বলেন, আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি লিডিং বিশ্ববিদ্যালয় করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যেখানে লিডার হিসেবে আমাদের শিক্ষার্থীরাই লিড দেবে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে।
সময়ের আলো/জেডআই