জুলাই ঘোষণাপত্র : ছাত্রদের তাড়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর ‘না’

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র ঘিরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের তাড়াহুড়ো থাকলেও রয়েসয়ে করার পক্ষে রাজনৈতিক দলগুলো। জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে জাতীয় ঐক্যে পৌঁছাতে গতকাল সর্বদলীয়

2025-01-16T22:57:14+00:00
2025-01-16T22:57:14+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
★বিএনপি চায় দীর্ঘ আন্দোলনের মূল্যায়ন ★স্বাধীনতার পূর্বাপর ইতিহাহের সন্নিবেশ চায় জামায়াত ★হেফাজতের দাবি ঘোষণাপত্রে থাকতে হবে ‘শাপলা চত্বর’ ★যেনতেন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যাবে না: সাকি ★গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে দলিলের বিকল্প নেই: নাগরিক কমিটির পাটোয়ারী
জুলাই ঘোষণাপত্র : ছাত্রদের তাড়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর ‘না’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫, ১০:৫৭ পিএম 
জুলাই ঘোষণাপত্র : ছাত্রদের তাড়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর ‘না’
অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র ঘিরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের তাড়াহুড়ো থাকলেও রয়েসয়ে করার পক্ষে রাজনৈতিক দলগুলো। জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে জাতীয় ঐক্যে পৌঁছাতে গতকাল সর্বদলীয় বৈঠক করে অন্তর্বর্তী সরকার। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ঘোষণাপত্রে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং তার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার দাবি জানান। এটাকে কেন্দ্র করে যাতে ঐক্যে ফাটল না ধরে সেই সর্তকবার্তাও জানান কেউ কেউ। আর হেফাজতের ইসলামের দাবি ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের গণহত্যাকেও যাতে ঘোষণাপত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) ফরেস সার্ভিস একাডেমিতে সর্বদলীয় সভা শেষে রাজনৈতিক দলের নেতারা এমন অভিমতই ব্যক্ত করেন। বৈঠকটি বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে। যেখানে কয়েকটি পরিচিত দল অংশ নেয়নি এবং কয়েকটি দল দাওয়াত না পাওয়ার অভিযোগ করেন।

বৈঠকে অংশগ্রহণ নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিদ্ধান্তহীনতায় বিএনপি শেষ পর্যন্ত অংশ নেয়৷ দলটির একমাত্র প্রতিনিধি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘোষণাপত্রকে কেন্দ্র করে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে, সেখানে যেনো কোনো ফাটল সৃষ্টি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ঐক্য ধরে রেখে যাতে জাতিকে এগিয়ে নিতে পারি, এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, আমাদেরকে প্রধান উপদেষ্টা আহ্বান করেছিলেন আমরা বৈঠকে আমাদের মতামত, পরামর্শ দিয়েছি। ঘোষণাপত্র নিয়ে কোন পরামর্শ ছিল কি না জানতে চাইলে বিএনপির এই নেতা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান  নিয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে। সব রাজনৈতিক দলের নেতারা বিভিন্ন পরামর্শমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা প্রশ্ন করেছি? আজকে সাড়ে ৫ মাস পরে জুলাই ঘোষণাপত্রের প্রয়োজন ছিল কিনা? যদি থেকে থাকে সেটার রাজনৈতিক গুরুত্ব ঐতিহাসিক গুরুত্ব কি সেগুলো নির্ধারণ করতে হবে। যদি কোনো রাজনৈতিক দলিল ঐতিহাসিক দলিলে পরিনত হয় তাহলে সেটা অবশ্যই আমরা সম্মান করি। সেটা প্রণয়ণ করতে গিয়ে যাতে সংশ্লিষ্ট সকলকে অর্ন্তভুক্ত করা হয় এবং তাদের পরামর্শ নেওয়া হয়।

সম্প্রতি বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াতের ভিন্নসুর পাওয়া গেলেও ঘোষণাপত্র নিয়ে অনেকটা একমত দুইদল। জামায়াতের সেক্রেটারির জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আলোচনায় প্রত্যেক দলের এবং বিশিষ্টজনের মতামত চাওয়া হয়েছে। তবে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। প্রত্যেকটি দল ঘোষণাপত্র হওয়া প্রয়োজন সেটা অনুভব করেছে। তবে তাড়াহুড়ো করলে ভুলভ্রান্তি হতে পারে। সময় নিতে হবে। রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সাথে মতবিনিময় করতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে, অভ্যুত্থানের ইতিহাস, সংগ্রামের ইতিহাস, স্বাধীনতার পূর্বাপর ইতিহাসসহ সবকিছু মিলিয়ে একটা সুলিখিত ঘোষণাপত্র কিভাবে তৈরি করা যায় সেই আলোচনা হয়েছে। আমরা আলাদাভাবে প্রস্তাবনা দিব। পরবর্তীতে সবগুলোকে একত্র করে একটি সুন্দর ঘোষণাপত্রে রুপান্তরিত করা হবে।

তিনি বলেন, তবে খুব বিলম্ব না করে এই উদ্যোগ দ্রুত শুরু করা উচিত। সরকারের একজন উপদেষ্টা দায়িত্ব নিয়ে বলেছেন, উনারা আমাদের মতামতগুলো পর্যালোচনা করবেন। একটা হোমওয়ার্ক করার পরে আমাদের সাথে দ্বিতীয় ধাপে আমাদের সাথে আবার বসবেন।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ঘোষণাপত্র তৈরিতে তাড়াহুড়া বা যেনতেন প্রক্রিয়া যেন না করা হয়।এর পদ্ধতিগত দিক কী হবে? দলিলটা কীভাবে তৈরি হবে? এই বিষয়ে আমরা আমাদের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেছি। আশা করি সেই অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্মপন্থা তৈরি করবে।  

বৈঠকে অংশ নিয়ে হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, ঘোষণাপত্রের জন্য আমরা একটা কথা বলে এসেছি। অনেকগুলো বিষয় যেহেতু এখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই জায়গায় ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের গণহত্যাকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ঘোষণাপত্র তৈরিতে সংবিধান সংস্কার কমিশন বা অন্য কোনো কমিটি বা কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ফুয়াদ।

আমার বাংলাদেশ (এবি) দলটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, শব্দে শব্দে সব দলের একমত হওয়া কঠিন বা দরকারও নেই। আমাদের প্রক্রিয়ায় একমত হওয়া দরকার। কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গণঅভ্যুত্থানের ফরমান লিখিত হবে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশের ঘোষণা দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। গত ২৯ ডিসেম্বর ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আনে তারা। বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর ওই ঘোষণাপত্র প্রকাশের কর্মসূচিও দেয় তারা। প্রথমে সরকার এর সঙ্গে যুক্ত না হলেও পরে এ প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানায়। তখন গত ৩১ ডিসেম্বর ঘোষণাপত্র প্রকাশের কর্মসূচি বদল করে সরকার পতনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পরে সরকার ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্যোগ নেয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির দাবি ছিল ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করার। কিন্তু সেটি হয়নি। শুরু থেকেই ছাত্রনেতাদের মধ্যে ঘোষণাপত্র নিয়ে তাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি দ্রুত প্রনয়ণ ও ঘোষণার দাবিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় লিফলেট বিলিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে তারা।

সর্বদলীয় বৈঠক থেকে বেরিয়ে ঘোষণাপত্র নিয়ে সব রাজনৈতিক দল ঐক্যমত বলে জানান জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে কিছু পর্যালোচনাসহ তা প্রকাশ হবে। এরমধ্যে কিছু দৃষ্টিভঙ্গিগত ও শাব্দিক চয়নে সকলের আলোচনার প্রয়োজন। সেটার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রধান উপদেষ্টার কাছে সময় চেয়েছেন। তিনি দলগুলোর সময়ক্ষেপণের বিষয়ে লক্ষ রাখতে বলেছেন। একটা মাঝামাঝি সময়ে ঐক্যমতে পৌঁছে সুন্দর একটি জিনিস প্রকাশ করতে পারি সে বিষয়ে সবাই জোর দিয়েছেন। বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক পথে নিয়ে যেতে এ দলিলের বিকল্প নেই বলে মনে করেন পাটোয়ারী।

ঘোষণাপত্র নিয়ে আলটিমেটাম দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা সকলেই একটা পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে রয়েছি। আলটিমেটামের কথা এসেছিল কিন্তু নির্দিষ্ট করে আলটিমেটাম হয় নি। তবে এটা সম্মত হয়েছি দেরিও নয়, আবার তাড়াহুড়ো নয়, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তা প্রকাশ করা হবে।

আর ঘোষণাপত্র কারা লিখেছে জানতে চেয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। দলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য শুনে হতাশ হয়েছি। ৩৬ দিনের আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতন হয়নি। এর পেছনে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন হয়েছে। সেসব আন্দোলন ঘোষণাপত্রে সংযুক্ত করতে বলেছি। যে ঘোষণাপত্র দেখানো হয়েছে তা কারা লিখেছে, সে জিজ্ঞাসার কোনো সদুত্তর পাইনি।

ইসলামি আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব কাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ছাত্রদের কেন জুলাই বিপ্লব ও ৫ আগস্টের জন্য ঘোষণাপত্রের জন্য আল্টিমেটাম দিতে হয়। সে প্রশ্ন প্রধান উপদেষ্টাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কেন দূরত্ব তৈরি হচ্ছে বর্তমান সরকারের? তার কারণ খুঁজে বের করে দূরত্ব কমিয়ে আনতে বলেছি।

সময়ের আলো/জেডআই


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: