ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ দেখেছে সার্বিয়া। সরকারবিরোধী এক বিক্ষোভে দেশটির রাজধানী বেলগ্রেডে একত্রিত হয়েছেন ৩ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ।
সম্প্রতি দেশটির একটি রেলস্টেশন ধসে ১৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার (১৫ মার্চ) লাখ লাখ মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
সরকার দাবি, বেলগ্রেডজুড়ে মোট ১ লাখ ৭ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। তবে স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থা পাবলিক মিটিং আর্কাইভের মতে, এ সংখ্যা ৩ লাখ ২৫ হাজারের বেশি হতে পারে, যা সার্বিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জনসমাগম। আজ রোববার (১৬ মার্চ) সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
গত বছরের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরে স্টেশনের ছাদ ধসের ঘটনায় তীব্র জনরোষ তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকারের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুচিচের দল প্রগ্রেসিভ পার্টির এক দশকের শাসনের প্রতিফলন হিসেবে তারা এই ঘটনাকে দেখছেন। ভুচিচ নিজেই ২০২২ সালে স্টেশনটির সংস্কার উদ্বোধন করেছিলেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ‘১৫ জনের জন্য ১৫তম’ শিরোনামে শনিবার বিশাল সমাবেশের আয়োজন করেন বেলগ্রেডের চারটি মূল মিলনস্থলে। এদিন ঐতিহ্যবাহী রিপাবলিক স্কয়ার রীতিমতো জনসমুদ্র পরিণত হয়, প্রিন্স মিহাইলো ওব্রেনোভিচের ভাস্কর্যের ওপর উঠে দাঁড়ান অনেকেই। ন্যাশনাল মিউজিয়ামের সামনের রাস্তা থেকে স্টুডেন্ট স্কয়ার পর্যন্ত মানুষ ভিড় জমায়।
বিক্ষোভে আইনজীবী, কৃষক ও ট্যাক্সিচালকদের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্যরাও যোগ দেন। বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে মোটরসাইকেল আরোহীরা সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন, অন্যদিকে ট্রাক্টর নিয়ে কৃষকরা সেখানে জড়ো হন।
তাদের দাবি, স্টেশন সংস্কারের সব নথিপত্র প্রকাশ করা হোক এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হোক। যদিও কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে সাবেক নির্মাণমন্ত্রী গোরান ভেসিকসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। তবে, মামলাগুলো এখনও বিচারের মুখোমুখি হয়নি।
এদিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুচিচ পুলিশ বাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, আমরা শান্তি বজায় রাখতে পেরেছি, এতে আমি গর্বিত। বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের যৌক্তিকতা রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। বলেন, আমাদের নিজেদের পরিবর্তন আনতে হবে।
তবে, পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, আমি ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতি স্বীকার করবো না। আমি এই দেশকে একটি ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে দেবো না।
প্রধানমন্ত্রী মিলোশ ভুচেভিচ জানুয়ারির শেষদিকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও সেটি এখনো জাতীয় পরিষদে অনুমোদিত হয়নি। ফলে তিনি এখনো দায়িত্বে রয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হলেও পরে বিভিন্ন পেশার মানুষ এতে যোগ দেন। তারা বলছেন, প্রকৃত দোষীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।