মিয়ানমারে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত অঞ্চলে চীনা ত্রাণ সহায়তা বহনকারী গাড়িবহর লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছে দেশটির জান্তা সৈন্যরা। গুলিতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এদিকে এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৬ জনে।
মঙ্গলবার রাতে চীনা রেড ক্রসের গাড়িবহর লক্ষ্য করে এই গুলি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বেইজিং।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা মিয়ানমারে ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে বিদ্রোহীদের তৎপরতার কারণে দেশটির সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২০ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে। ওই নির্বাচনে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) বিপুল ভোটে জয়লাভ করলেও জান্তা সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে।
অভ্যুত্থানের পর থেকে জান্তা বাহিনী বিরোধীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান চালিয়ে আসছে। অং সান সু চিকে গৃহবন্দি করা হয়, যার পর থেকে দেশজুড়ে জান্তা বিরোধী বিক্ষোভ চলমান। গৃহযুদ্ধের ফলে মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও ওষুধের চাহিদা পূরণ করতেও ব্যর্থ হচ্ছে সরকার।
গত শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে দেশটিতে ভয়াবহ এক ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮৮৬ মানুষের প্রাণহানি ও হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
বুধবার মিয়ানমারের জান্তা সরকারের মুখপাত্র জ্য মিন তুন বলেন, চীনা রেড ক্রস সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিল, তবে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। গাড়িবহরে স্থানীয় কিছু যানবাহনও ছিল, যা দেখে নিরাপত্তা বাহিনী আকাশে ফাঁকা গুলি ছুড়ে সতর্ক করে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মিয়ানমারের জান্তা সৈন্যদের গুলির পরও সহায়তাবাহী দল নিরাপদে ত্রাণ সরবরাহ করেছে।