একটি ছোট বিমান দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন পাঁচ আরোহী, তবে তাদের সামনে ছিল মৃত্যুর ঝুঁকি। কারণ দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি এমন এক জলাভূমিতে জরুরি অবতরণ করে যেখানে শুধু কুমির আর কুমির। চারদিকে কুমির, মাঝখানে ডুবে যাওয়া বিমানের উপর দাঁড়িয়ে ৩৬ ঘণ্টা সময় অতিবাহিত করেছেন তারা। জীবন যেন হাতের মুঠোয় ছিল এই পাঁচ আরোহী।
পরে সস্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে খবর পেয়ে একটি হেলিকপ্টার পাঠিয়ে পাঁচ আরোহীকে উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটে বলিভিয়ার আমাজনা অঞ্চলে।
দুর্ঘটনাকবলিত এক নারী জানান, তিন নারী, এক শিশু এবং তার ছেলেসহ পাঁচজন ছিলেন। তারা সবাই সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন।
উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের পাইলট জানান, বলিভিয়ার বেনি অঞ্চল থেকে বিমানটির খোঁজ পেয়েছেন তারা। আলোচিত এই ঘটনায় পাঁচজন বিমান আরোহীর চিকিৎসা নিশ্চিতের জন্য খুশি অঞ্চলটির স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, এই ঘটনা নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা হয়েছিল। আমি সত্যিই খুশি, কারণ শেষ পর্যন্ত সব প্রতিষ্ঠান এক হয়ে নিখোঁজদের খুঁজে বের করেছেন এবং তাদের জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। আমরা এখন তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টা তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। সবাই আরোহীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল।
বিমানটির পাইলট ভেলার্দে স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, বিমানটিতে হটাৎ ত্রুটি দেখা দিলে তিনি একটি ছোট হ্রদের পাশে অবতরণ করাতে বাধ্য হন। বিমানের চারপাশে তিন মিটারের মধ্যেই বহু কুমির ঘোরাফেরা করছিল, যার ফলে যাত্রীরা বিমান থেকে নামতে পারেননি।
তিনি ধারণা করছেন, বিমানের পেট্রোল লিক হওয়ায় কুমির কাছে আসতে পারেনি। এ সময় পানিতে একটি বিশাল অ্যানাকোন্ডাও দেখতে পান তারা।
উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকাকালীন যাত্রীরা আটা খেয়ে বেঁচে ছিলেন। জল পানের ব্যবস্থা না থাকায় এবং চারপাশে কুমিরের কারণে তারা কোনো দিকেই যেতে পারেননি। চারদিকে কুমির, মাঝখানে ডুবে যাওয়া বিমানের ওপর দাঁড়িয়ে টানা ৩৬ ঘণ্টা পাঁচ আরোহীর বেছে ফেরা সত্যিই অলৌকিক।