জিলহজের প্রথম দশকে করণীয়

হাসিবুর রহমান

ইসলামের আলো

মুসলমানদের নিকট জিলহজ মাস বিভিন্ন কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। এ মাসে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র হজ এবং কুরবানি। যারা আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম,

2025-05-29T01:59:10+00:00
2025-05-29T01:59:10+00:00
 
  শনিবার, ৬ জুন ২০২৬,
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
জিলহজের প্রথম দশকে করণীয়
হাসিবুর রহমান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ মে, ২০২৫, ১:৫৯ এএম   (ভিজিট : ১৯৮)
প্রতীকী ছবি
মুসলমানদের নিকট জিলহজ মাস বিভিন্ন কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। এ মাসে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র হজ এবং কুরবানি। যারা আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম, তারা হজ পালনের জন্য পবিত্র মক্কা নগরীতে সমবেত হন। আর পৃথিবীর নানা প্রান্তে অবস্থানরত সচ্ছল মুসলমানরা পশু কুরবানি করেন এবং অসহায়-দরিদ্রদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন কুরবানির উপহার। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ মুসলিম উম্মাহ ঈদুল আজহা পালন করে।

ঈদুল আজহার বড় আমল আল্লাহর নামে পশু কুরবানি করা। কুরবানি একটি আর্থিক ইবাদত। ১০ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কারও কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব; যার বিনিময়ে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের অগণিত সওয়াব প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। তাই কারও কারও মনে হতে পারে, এটি শুধু ধনীদের ঈদ। আর্থিকভাবে অসচ্ছলরা তো কুরবানি দেওয়ার সামর্থ্য রাখে না। তারা এই সওয়াব কীভাবে অর্জন করবে? মহান আল্লাহ এতটাই দয়ালু যে তিনি ধনী-গরিব সবার জন্যই কুরবানির সওয়াব লাভের সুব্যবস্থা রেখেছেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার আগ থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। যদি কেউ সে অনুযায়ী আমল করে, তবে সেও কুরবানির পূর্ণ বরকত অর্জন করতে পারবে। তা হলোÑজিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানির আগ পর্যন্ত নিজের নখ, চুল, গোঁফ, নাভির নিচের পশম ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকা। এটি মুস্তাহাব আমল। হজরত উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যদি জিলহজ মাসের চাঁদ দেখতে পাও আর তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন স্বীয় চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৯৭৭)

যারা কুরবানি করতে সক্ষম নয় তারাও এই আমল পালন করতে পারে। অর্থাৎ নিজের চুল, নখ, গোঁফ ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকবে। কেননা কোনো অসচ্ছল লোক যদি এ দিনগুলোতে চুল, নখ, গোঁফ ইত্যাদি না কেটে ঈদের দিন কাটে, তবে তাদের পূর্ণ কুরবানির সওয়াব দেওয়া হবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আমি কুরবানির দিন সম্পর্কে আদিষ্ট হয়েছি (অর্থাৎ এই দিনে কুরবানি করার আদেশ করা হয়েছে।) আল্লাহ তায়ালা তা এ উম্মতের জন্য ঈদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এক ব্যক্তি আরজ করল, হে আল্লাহর রাসুল, যদি আমার কাছে শুধু একটি মানিহা থাকে অর্থাৎ যা শুধু দুধপানের জন্য দেওয়া হয়েছে? আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন, না; বরং সেদিন তুমি তোমার চুল কাটবে, নখ কাটবে, গোঁফ ও নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এটিই আল্লাহর কাছে তোমার পূর্ণ কুরবানি বলে গণ্য হবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৬৫৭৫)

উক্ত হাদিসে রাসুল (সা.) কুরবানি করতে অসক্ষম ব্যক্তিরাও যেন সচ্ছল মুসলমানদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ও খুশি উদযাপনে অংশীদার হতে পারে, সেই রাস্তা বাতলে দিয়েছেন। তারা এই ছোট্ট আমলটির মাধ্যমেও পরিপূর্ণ সওয়াবের অধিকারী হবে। অনুরূপভাবে হাজিদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী হবে। মহান আল্লাহ এতটাই মহান যে তিনি তাঁর কোনো বান্দাকেই নিরাশ করেননি। সব প্রশংসা একমাত্র তাঁরই।


Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: