মিয়ানমারের রাখাইনে করিডর ও চট্টগ্রামের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম অভিমুখে আগামী ২৭ ও ২৮ জুন রোডমার্চ করবে বাম দলগুলো। ইতোমধ্যে বাম দলগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
এরই প্রেক্ষিতে সোমবার (১৬ জুন) অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা-চট্টগ্রাম রোড মার্চকে সামনে রেখে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার সংগঠনের প্রতিনিধি ও ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা।
বাম দলগুলো বলছে, মিয়ানমারের রাখাইনে করিডর এবং চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের লিজ দেওয়ার তৎপরতার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম আগামী ২৭ ও ২৮ জুন রোড মার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাখাইনে করিডর ও চট্টগ্রামের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জনমতের বিরুদ্ধে। এটি দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। ইতোমধ্যে রোড মার্চ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বাম প্রগতিশীল বিভিন্ন দল ও সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ শুরু হয়েছে।
বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, রাখাইনে করিডর বা প্যাসেজ প্রদান এবং চট্টগ্রামের নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে রোড মার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৭ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে রোড মার্চ শুরু হবে। ২৮ জুন চট্টগ্রামে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হবে। ওই সময় দেশের সব জেলা-উপজেলায়ও সংহতি সমাবেশ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। বাম জোট এই কর্মসূচি ঘোষণা করলেও এতে বাম, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠন অংশ নেবে। কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে গণসংযোগ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা সফর করছেন। তারা বাম জোটের সভা-সমাবেশ ছাড়াও ওই অঞ্চলের বাম গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বিভিন্ন দল ও সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পরিকল্পনায় করিডর দেওয়ার নামে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে। একইভাবে চট্টগ্রাম বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত অব্যাহত রয়েছে। বন্দরের উন্নয়নে বিদেশি বিশেষজ্ঞ রাখা যেতে পারে। কিন্তু বন্দর লিজ দেওয়া যাবে না। এটা দেশের মানুষের সম্মান ও স্বাধীনতার ওপর আঘাত। তাই রোড মার্চ কর্মসূচি সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, জাতীয় সম্পদ, ভোটাধিকারসহ নিজেদের অধিকার রক্ষায় সচেতন দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
এদিকে, গত শনিবার কর্মসূচি সামনে রেখে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সভা অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। বাম জোটের সমন্বয়ক রুহিন হোসেন প্রিন্সের সভাপতিত্বে সভায় অংশ নেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাসদের (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী প্রমুখ।
এ সভায় বলা হয়, সাম্রাজ্যবাদী, আধিপত্যবাদী শক্তি অনির্বাচিত সরকারের ওপর ভর করে তাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রচেষ্টা চালাচ্ছে; যার অংশ হিসেবে রাখাইনে করিডর এবং চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দেশের স্বার্থবিরোধী এই ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াতে হবে। সভায় আরও বলা হয়, আগামী ২৭ ও ২৮ জুনের রোড মার্চ হবে সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক জনগণের রোড মার্চ।
এ সভা থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে সাম্রাজ্যবাদী, আধিপত্যবাদী শক্তির যেকোনো চক্রান্ত সম্পর্কে সজাগ থেকে, রুখে দাঁড়াতে সচেতন দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া আগামী ২৭ ও ২৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা-চট্টগ্রাম রোড মার্চকে সামনে রেখে বুধবার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার সংগঠনের প্রতিনিধি ও ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সময়ের আলো/জেডআই