কালো জাদু : বিশ্বাস ও বিভ্রান্তি

ফাহিম ফয়সাল

ইসলামের আলো

মানুষ স্বভাবতই অতিপ্রাকৃত ও অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি কৌতূহলী। চিন্তাসীমার বাইরে গিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করতে কেউ পছন্দ করে, আবার কেউ

2025-06-23T06:00:30+00:00
2025-06-23T06:00:30+00:00
 
  শনিবার, ৬ জুন ২০২৬,
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
কালো জাদু : বিশ্বাস ও বিভ্রান্তি
ফাহিম ফয়সাল
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫, ৬:০০ এএম   (ভিজিট : ৩৬১)
সংগৃহীত ছবি
মানুষ স্বভাবতই অতিপ্রাকৃত ও অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি কৌতূহলী। চিন্তাসীমার বাইরে গিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করতে কেউ পছন্দ করে, আবার কেউ ভয় পায়। যুগ যুগ ধরে এই কৌতূহল ও ভীতির মধ্যে সত্যের সঙ্গে মিশ্রিত হয়েছে কুসংস্কার, ভণ্ডামি ও প্রতারণা। তেমনই এক রহস্যময় শাখা হলো কালো জাদু। যাকে কেউ বলে ব্ল্যাক ম্যাজিক, কেউ বলে তন্ত্রমন্ত্র, বান মারা, আবার কেউ বলে দুষ্ট জিনের খেলা। কিছু ক্ষেত্রে এই কালো জাদুর সত্যতা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি স্রেফ ভোজবাজি ছাড়া কিছু নয়।

আমাদের সমাজে কালো জাদুর বিস্তৃতি ব্যাপক। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এর প্রকোপ অনেক বেশি। কালো জাদু নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর কল্পকাহিনি প্রচলিত আছে। ছোটবেলায় রাতে বাড়ির উঠানে বসে দাদা বা নানার মুখে এসব গল্প শোনেনি এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। তখন থেকেই মনের মাঝে বাসা বাঁধে এক অদৃশ্য জুজুর ভয়। 

অতিপ্রাকৃত কোনো ঘটনা ঘটলেই সেটা টেনে নেওয়া হয় জাদু কিংবা জিনের কর্মকাণ্ডে। অথচ এর পেছনে কোনো যৌক্তিক বা বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা আছে কি না তা কেউ যাচাই করে দেখে না। এর ফলে কুসংস্কারের ভিত্তি শক্ত হয় এবং মানব মনে ভয়ের সঞ্চার হয়। এরই সুযোগ নেয় এক শ্রেণির প্রতারক চক্র। 

তারা কুফরি কালাম কিংবা তাবিজ-কবজের নাম দিয়ে লোকজনের অবচেতন মন নিয়ে খেলা করে এবং হাতিয়ে নেয় বিশাল 
অঙ্কের টাকা।

মানুষ বিশ্বাস করে কালো জাদুর মাধ্যমে কারও সংসার ভাঙা যায়, ব্যবসায় উন্নতি করা যায়, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা যায় ইত্যাদি। এর কিছু বিষয় বাস্তবসম্মত হলেও অধিকাংশই ভুয়া। এখনও এ দেশের বিভিন্ন অলিগলিতে, হাট-বাজারে, বাসে-ট্রেনে দেখা যায় নানা তান্ত্রিক কিংবা গুরুর পোস্টার। সেখানে দেওয়া থাকে বিভিন্ন চটকদার বিজ্ঞাপন। কিন্তু তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার কোনো সুযোগ থাকে না। ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তারা সরলমনা মানুষের আবেগকে পুঁজি করে হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের টাকা। কিন্তু অর্থ ব্যয় করেও কোনো সফলতার মুখ দেখেন না অর্থব্যয়কারী। উল্টো তিনি এরূপ কুফরি বিশ্বাসের মাধ্যমে নিজের ঈমানকে ঝুঁকির মুখে ফেলেন।

ইসলাম জাদুর অস্তিত্ব অস্বীকার করেনি। বরং জাদু সত্য রাসুল (সা.)-এর নিজের জাদুগ্রস্ত হওয়াও তা প্রমাণ করে। কুরআন ও হাদিসে জাদু বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হজরত সুলাইমান (আ.)-এর যুগে আল্লাহ যখন মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য হারুত-মারুত নামের দুজন জাদু শিক্ষক ফেরেশতাকে পাঠালেন, তখন কিছু মানুষ অসৎ উদ্দেশ্যে তাদের কাছে জাদু শেখার আবেদন জানায়। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘তবু এ দুজন থেকে তারা এমন বিষয় শিখত, যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১০২)। এই আয়াতের প্রেক্ষাপটে হারুত ও মারুত নামক দুই ফেরেশতার ঘটনা আলোচিত হয়, যারা মানুষের পরীক্ষার জন্য জাদুবিষয়ক জ্ঞান দিলেও শর্তসাপেক্ষে তা করেছিলেন যাতে মানুষ বুঝতে পারে, এই জ্ঞান ক্ষতিকর এবং এর ব্যবহার নিষিদ্ধ।

আবার রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে বলেন, ‘সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাকো।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, এর মধ্যে দ্বিতীয়টি হচ্ছে জাদু করা। জাদু কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটি মানুষকে কুফরির চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। জাদু মূলত কুফরির মাধ্যমে শয়তানের আস্থাভাজন হওয়া। এর প্রতিদানস্বরূপ শয়তান জাদুকরের কিছু ইচ্ছা পূরণ করে থাকে। শয়তানের উদ্দেশ্যই হলো মানুষকে ইসলামের পথ থেকে বিচ্যুত করে কুফরির দিকে ধাবিত করা। কেউ যদি তার এ আহ্বানে সাড়া দেয়, তবে শয়তানও তাকে কিছু প্রতিদান দেয়, যা সাময়িক লাভজনক মনে হলেও পরে তা সীমাহীন ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষের মানসিক সমস্যা ও দুর্বলতার দায় চাপিয়ে দেওয়া হয় জাদুর ওপর। অথচ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবা পেলে সে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু তা না করে মানুষ বিভিন্ন প্রতারক তান্ত্রিক, ওঝার কাছে গিয়ে ধরনা দেয়। এর ফলে রোগ তো সারেই না, বরং দিনে দিনে বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে কেউ যদি প্রকৃত অর্থে জাদুগ্রস্ত হয়, তবে তার চিকিৎসাও কুরআন ও সুন্নাহতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। তাই তান্ত্রিক ও ওঝার কাছে না গিয়ে একজন ভালো আলেমের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এতে যেমন রোগী সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তেমনি ঈমান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দূর হয়। 

সময়ের আলো/এমএইচ


Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: