ইসলামের দৃষ্টিতে জ্যোতিষবিদ্যা

মাওলানা দৌলত আলী খান

ইসলামের আলো

মানব সমাজে জ্যোতিষী প্রথার প্রচলন আদিকাল থেকে। এর মাধ্যমে মানুষের বর্তমান বা ভবিষ্যৎ অবস্থানকে নির্ণয় করার চেষ্টা করে। কিন্তু ইসলামি

2025-07-12T01:14:11+00:00
2025-07-12T01:14:11+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
ইসলামের দৃষ্টিতে জ্যোতিষবিদ্যা
মাওলানা দৌলত আলী খান
প্রকাশ: শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫, ১:১৪ এএম   (ভিজিট : ১৪৩)
সংগৃহীত ছবি
মানব সমাজে জ্যোতিষী প্রথার প্রচলন আদিকাল থেকে। এর মাধ্যমে মানুষের বর্তমান বা ভবিষ্যৎ অবস্থানকে নির্ণয় করার চেষ্টা করে। কিন্তু ইসলামি শরিয়তে এর বৈধতা আছে কি না তা যাচাই করে দেখা হয় না। অথচ একজন মুসলমানকে পার্থিব জীবনে প্রতিটি বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা জরুরি। আমাদের সমাজে কিছু কিছু মুসলিম ভাই-বোনকে জ্যোতিষদের কাছে যেতে দেখা যায়। এমনকি এর প্রশিক্ষণও গ্রহণ করে থাকে। অথচ জ্যোতিষ প্রথা ইসলাম ধর্মে হারাম। জ্যোতিষী মানে শরীরের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কিংবা দাগ-চিহ্ন দেখে গণনা করা তথা কারও ভালো-মন্দ ইত্যাদি বলে দেওয়া। এটিকে ইসলামি পরিভাষায় ‘কাহানা’ বলে। শরিয়তের দৃষ্টিতে জ্যোতিষ-গণকের কথা বা মন্তব্য বিশ্বাস করা হারাম। কারণ এটাতে জ্যোতিষদের গায়েব জানার অধিকারী মনে করা হয়। এটা স্পষ্ট শিরক। প্রত্যেক মুসলমানকে বিশ্বাস করতে হবে যে, কোনো মানুষ বা জিন গায়েব জানে না। সুতরাং সব মোমিনকে জ্যোতিষদের কাছে যাওয়া এবং তাদের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করাÑউভয়টি থেকে নিজেকে সর্বদা বিরত রাখতে হবে। 

জ্যোতিষের কাছে যাওয়া নিষেধ : মানুষকে জীবন নির্বাহ করার জন্য নিজেকে যেকোনো একটি কর্মের সঙ্গে নিয়োজিত রাখতে হয়। এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে রিজিক দেয়। তবে এ রিজিক বা ভাগ্যকে নির্ণয় করার জন্য কোনো জ্যোতিষের কাছে যাওয়া হারাম। এ ছাড়াও পার্থিব জীবনের কোনো বিষয়ের রাশি বা ভাগ্য জানার জন্য জ্যোতিষের পন্থা অবলম্বন করা যাবে না। এটি প্রাক ইসলামি যুগের একটি কুসংস্কার মাত্র। ইসলামে জ্যোতিষী প্রথাকে কুফরি বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোনো ব্যক্তি যখন জ্যোতিষের কাছে যায় এবং সে যা কিছু বলে বিশ্বাস করে অথবা যে ব্যক্তি মাসিক অবস্থায় নিজের স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গম করে কিংবা যে স্ত্রীর পেছনের দ্বার দিয়ে সহবাস করে, সে ওই জিনিস থেকে সম্পর্কহীন হয়ে গেল, যা মুহাম্মদ (সা.) এর ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে। (আবু দাউদ : ৩৯০৬, তিরমিজি : ১৩৫)।
 
নামাজ কবুল হয় না : জ্যোতিষের কাছে গমনকারীর নামাজ কবুল হয় না। যে মুসলমান জ্যোতিষের কাছে গমন করবে এবং তার কথা সত্য বলে বিশ্বাস করবে তার চল্লিশ দিনের নামাজ কবুল করা হবে না। অর্থাৎ ওই চল্লিশ দিনের নামাজের কোনো সওয়াব মিলবে না। অবশ্য তার দায়িত্ব থেকে ফরজ  আদায় হয়ে যাবে, কাজা করা লাগবে না। কিন্তু এটা বড় দুর্ভাগ্য যে, সামান্য ভুলের কারণে সর্বোত্তম ইবাদত বিনষ্ট হয়ে যাবে। এ মর্মে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি গণকের বা জ্যোতিষীর কাছে যায় (তার কথা সত্য মনে পোষণ করে), তাকে কোনো কথা জিজ্ঞাসা করে, তার চল্লিশ দিনের নামাজ কবুল হয় না। (মুসলিম : ৫৯৫৭)

প্রকৃতি পরিবর্তনের ধারণা হারাম : জ্যোতিষের আলোকে নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টিনির্ভর ধারণা করা হারাম। জ্যোতিষীরা বৃষ্টি হওয়া, না হওয়া উভয়টি নক্ষত্রের ওপর নির্ভর করে। তাদের দাবি হলো মেজদাহ নক্ষত্র উদিত হলে বৃষ্টি হবে, অন্যথায় বৃষ্টি হবে না। অথচ বৃষ্টির বিষয়টি সম্পূর্ণ আল্লাহ তায়ালার ওপর নির্ভর। কোনো ঈমানদার জ্যোতিষের এমন দাবিকে বিশ্বাস করতে পারে না। বিশ্বাস করা হবে হারাম ও কুফরি। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখনই আল্লাহ তায়ালা আসমান থেকে কোনো বরকত অবতীর্ণ করেন, তখন এর দ্বারা এক দল লোক কাফেরে পরিণত হয়। বৃষ্টি তো আল্লাহই বর্ষণ করে থাকেন। অথচ এক শ্রেণির লোক বলে যে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবেই বৃষ্টি হয়েছে। (মুসলিম : ২৪২)। আরও বলেন, যদি আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য পাঁচ বছর বৃষ্টি বন্ধ করে রাখেন এবং তারপর তা বর্ষণ করেন, তবু মানুষের এক দল এ বলে অস্বীকার করবে যে, মেজদাহ নক্ষত্র কক্ষস্থানে পৌঁছার কারণে আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে। (নাসায়ি : ১৫৩৭)।

জ্যোতিষীর ভয়াবহ পরিণতি : যে ব্যক্তি জ্যোতিষবিদ্যা অর্জন করে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে তাকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। হাদিসের ভাষায় জ্যোতিষীরা কাফের। আর একজন কাফেরের পরকালীন কী শাস্তি তা সবার কাছে স্পষ্ট। সুতরাং মুসলিম জ্যোতিষবিদকে একজন কাফেরের মতো জাহান্নামের আজাব ভোগ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি নক্ষত্রবিদ্যা বিষয়ে আল্লাহর বাতলানো উদ্দেশ্য ব্যতীত কিছু শিক্ষা গ্রহণ করেছে, সে বস্তুত জাদুবিদ্যার এক অংশ হাসিল করেছে। আর জ্যোতিষী হলো প্রকৃতপক্ষে গণক, আর গণক হলো জাদুকর। আর জাদুকর হলো কাফের। (মেশকাত : ৪৪০১)।

শিক্ষক, নাজিরহাট বড় মাদরাসা ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।

সময়ের আলেঅ/এমএইচ


Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: