পুরান ঢাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদ হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ঢাকা বার ইউনিট।
সোমবার (১৪ জুলাই) আইনজীবী ফোরামের আহব্বায়ক, এডভোকেট খোরশেদ আলম সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
একইসঙ্গে সোহাগ হত্যার সকল আসামিদের চিহ্নিত করে তাদের বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঢালাওভাবে বিএনপির ওপর দায় চাপানোর নিন্দাও জানায় সংগঠনটি।
এসময় বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত এদেশের সবচাইতে নির্যাতিত নিপীড়িত ও মজলুম দলটির নাম বিএনপি। পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি এই দলকে নিশ্চিহ্ন করতে এমন কোনো অত্যাচার নিপীড়ন নাই, যা করেনি। এর পরেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সততা, আদর্শে অনুপ্রাণিত লক্ষ কোটি নেতা-কর্মী সমর্থকরা শত অত্যাচারের স্টিম রোলার সহ্য করেও বিএনপি পতাকা তলেই ঐক্যবদ্ধ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে।
গত কয়েকদিনের কিছু নৃশংস এবং ঘৃণিত ঘটনা আপনাদের পাশাপাশি আমরাও জানতে পেরেছি। এর মধ্যে মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে সোহাগ হত্যা, খুলনায় যুবদল নেতা হত্যা এবং চাঁদপুরে মসজিদের ইমামকে কুপিয়ে আহত করা, তার মৃত্যু আমাদের অত্যন্ত মর্মাহত ও বিচলিত করেছে। যা কোনোভাবে মেনে নেওয়ার মতো নয়। এর মধ্যে সবচাইতে আলোচিত ঘটনা মিটফোর্ড হাসপাতালের সোহাগ হত্যা, যা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে স্পষ্টভাবে সবকিছু দেখার পরও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এর সমস্ত দায়ভার বাংলাদেশের সবচাইতে মজলুম ও নিপীড়িত দল বিএনপির ওপর চাপানো হচ্ছে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে অশ্লীল স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।
আমরা মনে করি ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসর এবং আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভবিষ্যতে অদৃশ্য শক্তি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে কোনোরকম তদন্ত অনুসন্ধান ছাড়াই চাঁদাবাজির মতো এক ঘৃণ্য অপবাদ আরোপ করে বিএনপিকে দোষারোপ করা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, ঢাকা বার ইউনিট সোহাগ হত্যার তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাচ্ছে এবং অনতিবিলম্বে সকল আসামির দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। পাশাপাশি জাহীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ঢাকা বার ইউনিটের কোনো সদস্য সোহাগ হত্যা মামলায় আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করবে না মর্মে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং কোনো বিজ্ঞ আইনজীবী যেন আসামিদের পক্ষে না দাঁড়ায় সেই আহ্বানও জানাচ্ছে।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এড.ইকবাল হোসেন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ফোরামের সদস্য সচিব এড.নেহার হোসেন ফারুক, আব্দল খালেক মিলন, আমির হোসেন সহ আইনজীবী নেতৃবৃন্দ।
এএডি/