২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদদের স্মরণে বাম গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত স্মরণসভায় নেতারা বলেছেন, দেশে পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এসব বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হবে।
বুধবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর পুরোনো পল্টনের মৈত্রী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ডা. জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী।
সভায় গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার সরকারের দায়িত্বহীনতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি, সমাবেশ মঞ্চ ভাঙচুরসহ দমনপীড়নের নিন্দা জানান হয়। বলা হয়, সরকারের এ ধরনের দায়িত্বহীন আচরণ আগামী দিনের গণতন্ত্রের পথ চলাকে ব্যাহত করতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
সভায় নেতারা গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল শ্রেণী পেশার মানুষ, বীর শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও অভিবাদন জানিয়ে বলেন, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের পর আমরা বলেছিলাম, জনগণের বিজয় যাতে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত না হয়, সেজন্য দেশবাসীকে সচেতন থাকতে হবে। এবং পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখাতে হবে। আজও এই বক্তব্য প্রাসঙ্গিক।
তারা বলেন, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের বামপন্থী গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহ, কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে চলেছিল। এই সময়ের অন্যতম স্লোগান ছিল দুঃশাসন হটাও, ব্যবস্থা বদলাও, বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলা। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দু:শাসক ঘটানো গেলেও এখনো দুঃশাসন হটানো যায়নি। আমরা জানি দুর্বৃত্তায়িত অর্থনীতির ধারা পরিবর্তন না করতে পারলে, দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতি বন্ধ করা যাবে না। মানুষের মুক্তি আসবে না। এজন্য আমরা ব্যবস্থা বদলে কথা বলেছি। বামপন্থিরা দেশের অপারাপর গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল শক্তিকে সাথে নিয়ে আগামী দিনে এই ব্যবস্থা বদলের সংগ্রামকে অগ্রসর করবে।
সভার শুরুতে মৈত্রী মিলনায়তনে শহীদদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসময় নেতৃবৃন্দ এক মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সময়ের আলো/জেডআই