অব্যাহত মব সন্ত্রাস দেশে যে নৈরাজ্যের জন্ম দিয়েছে, এর বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন ও সংগঠিত হতে হবে বলে জানিয়েছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা। তারা বলেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মব সন্ত্রাসের ঘটনায় সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ হয়েছে। এসব ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করেই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সারাদেশে শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষের জীবনের সংকট তুলে ধরে নেতারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধিতে জনজীবন অতিষ্ঠ। সংস্কার নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে কিন্তু সবার কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা বৈষম্য দূর করা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ও কৃষক ক্ষেতমজুরের সংকট দূর করা নিয়ে কোন আলোচনা নেই।
তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হল নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। একই সাথে দেশ যাতে গণতান্ত্রিক বৈষম্যহীন পথে চলতে পারে তার জন্য রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য সচেতন মানুষকে নিয়ে রূপরেখা রচনা করা। কিন্তু আমরা ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করলাম সরকার এসব কাজে মনোযোগ না দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের কাছে লিজ দেওয়ার পাঁয়তারা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। করিডোর দেওয়ার প্রশ্নে সরকার এখন কথা বন্ধ করলেও এই অবস্থান থেকে সরে এসেছে এমন কোন খবর পাওয়া যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির নামে আমেরিকার সাথে গোপন চুক্তির খবরে দেশবাসী উদ্বিগ্ন থাকলেও সরকার এই চুক্তি প্রকাশ করছে না।
জোটের নেতারা আরও বলেন, সরকারের অনেক উপদেষ্টার লাগামহীন বক্তব্য মানুষের মধ্যে নানা ধরনের সংশয় তৈরি করছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য এইসব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে আমরাও ক্ষুব্ধ। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এ ধরনের অসম্মানজনক বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।
নীলফামারীতে শ্রমিক হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তারা বলেন, পতিত এই সরকারের বাহিনীর গলিতে শ্রমিকদের জীবন দিতে হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা। নেতৃবৃন্দ বলেন বামপন্থিরা শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয় ব্যবস্থা বদরের জন্য সংগ্রাম করছে এই সংগ্রামে জয়ী হওয়া ছাড়া মানুষের মুক্তি সম্ভব না। নেতৃবৃন্দ বাম শক্তির পতাকাতলে সমবেত হওয়ার জন্য দেশবাসী প্রতি আহ্বান জানান।
এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বাসদের (মার্কসবাদী) প্রধান সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী। সমাবেশ পরিচালনা করেন সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সময়ের আলো/জেডআই