স্থায়ী শান্তির জন্য পার্বত্য অঞ্চলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের সামনে সিপিবি আয়োজিত আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে পার্বত্য খাগড়াছড়িতে জাতিবিদ্বেষী সন্ত্রাস ও তিনজন আদিবাসী হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির পক্ষ থেকে এ কথা বলা হয়।
সমাবেশে সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রাগিব আহসান মুন্নার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহীন রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সমীর প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল।
সমাবেশে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি পাহাড়ি কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণসহ সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ-নিপীড়নের সকল ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই দেশের পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
সমাবেশে রাকসুর সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্না বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী ও আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী শক্তি সমূহের আগ্রাসী ভূরাজনৈতিক তৎপরতার কারণে লুসাই পর্বতমালাজুড়ে ক্রমাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে ঐক্য ও সংহতি জোরদার করা বিশেষভাবে প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দেশের পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের অপরিহার্য শর্ত। তাই রাজনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহীন রহমান বলেন, সংবাদপত্র থেকে শুরু করে সরকারি নথিপত্র সর্বত্র অদিবাসীদের পরিচয় মুছে দেয়ার চক্রান্ত চলছে। তিনি আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে খাগড়াছড়ির রামসু বাজারে গত কয়েকদিনে সংঘটিত সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, এলোপাতাড়ি গুলি ও তিনজন আদিবাসী নিহতের ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে পল্টন মোড় থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব অভিমুখে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সময়ের আলো/এনএ