ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও হাইপারসনিক প্রযুক্তি বিশ্বমঞ্চে নতুন নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যা ইসরায়েল এবং পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশ দুটিকে ছেড়ে কথা বলতে নারাজ ইরান। বারবার তারা কথা ও কাজের মধ্যে মিল রেখেছে। এবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি ফাদাভি জানিয়েছেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে এবং এর পাল্লা সীমিত করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহেরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আইআরজিসি একটি গতিশীল ও প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর সংস্থা, যেটি নিজের অগ্রগতির পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলেছে।’
তিনি জানান, আইআরজিসির প্রতিরক্ষা ক্ষমতা উন্নত রয়েছে এবং আরও বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সীমিত করার বিষয়ে তাদের শত্রুদের দাবিকে “অ-বিশেষজ্ঞ মতামত” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
ফাদাভি বলেন, ‘ইরানের অনুসরণ করা ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা মরহুম ইমাম খামেনেয়ির মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল। আইআরজিসির ক্ষমতা সীমাবদ্ধতা করার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। আইআরজিসি একটি গতিশীল এবং উন্নত সংস্থা যা দৃঢ়ভাবে অগ্রগতির পথে অটল।’
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে অবদান রাখার কারণে তিনি শহিদ হাসান তেহরানি-মোগাদ্দাম এবং অন্যান্য শহিদদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যখন আল্লাহ দেখেন যে আমরা আমাদের কর্তব্য পালন করি, তখন তিনি আমাদের বিজয় দান করেন।’
এই সপ্তাহের শুরুতে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি জোর দিয়ে জানিয়েছিলেন, দেশের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পশ্চিমাদের কোনও বিষয় নয় এবং এই ধরনের বিষয়গুলো উত্থাপন যুক্তরাষ্ট্র এবং কিছু ইউরোপীয় দেশের আধিপত্যবাদী নীতিকে প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, ইরান ১২ দিনের সাম্প্রতিক যুদ্ধে তার ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করতে সক্ষম এবং প্রয়োজনে দেশের পুরো ভূখণ্ডে মারাত্মক আঘাত হানতে পারে।
সময়ের আলো/এনএ