সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ননথাবুরি প্রদেশের বৌদ্ধ মন্দিরে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে। শ্মশানে শেষকৃত্যের জন্য আনা এক বৃদ্ধ নারী হঠাৎ জীবিত হয়ে উঠেছেন।
মন্দিরে রাখা একটি সাদা কফিন। হঠাৎ কফিন থেকে ভেসে আসছে ঠক ঠক নকের আওয়াজ। মন্দিরের কর্মীরা ভয়ে ভয়ে কফিনের ঢাকনা তুলে দেখেন, বৃদ্ধ নারী চোখ খুলে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে তাকিয়ে আছেন, দেখছেন কী ঘটছে তার সঙ্গে।
মন্দিরটির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়, যেখানে দেখা যায়, সাদা কফিনের ভেতরে হাত এবং মাথা নড়ছে। পরে কফিনের মুখ খুলে তাকে জীবিত অবস্থায় দেখে হতভম্ব হয়ে যায় কর্মীরা।
বয়সে ৬৫ বছরের সেই মহিলার ভাই জানান, প্রায় দুই বছর যাবৎ তার বোন বিছানায় শয্যাশায়ী ছিলেন। গত দু’দিন আগে, তার অবস্থা আরও খারাপ হলে তারা সবাই ভাবেন তিনি মারা গেছেন। ফলে তার ভাই এই নারীকে কফিনে করে প্রায় ৩০০ মাইল দূরের মন্দিরে নিয়ে আসেন।
এ মন্দিরটি শেষকৃত্যের জন্য বেছে নেওয়ার কারণ ছিল এখানে মৃতের শবদাহ বিনামূল্যে করা হয়। কিন্তু তার ভাগ্য এতোটাই খারাপ ছিল যে, তার মৃত্যু সনদ না থাকায় মন্দিরের কর্মীরা তার মৃতদেহ গ্রহণ করছিল না। এরপরই শুরু হয় এ ভয়ঙ্কর গা ছমছমে কাহিনী। হুট করে কফিনে হালকা করে নক। প্রথমে কর্মীরা বুঝতেই পারেনি, কিন্তু যখন কফিনটি খোলা হয়, তখনই সবাই হতবাক হয়ে যান।
এর কিছুক্ষণ পরই তার ভাই জানালেন, তার বোনের ডায়াবেটিসের সমস্যা ছিল।
চিকিৎসকরা পরে জানায়, মহিলার রক্তে চিনির মাত্রা ছিল খুবই কম, যার ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ফলে এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বলে তারা মনে করছেন।
মন্দিরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই নারীকে তত্ক্ষণাত্ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা শুরু করা হয়। এরপর আবার মন্দিরের আধ্যাত্মিক গুরু জানিয়েছেন, তারা ওই নারীর চিকিৎসার সব খরচ বহন করবেন।
এ ঘটনা অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। একদিকে যেখানে মানুষের মৃত্যু হয়, সেখানে অন্যদিকে এমন অদ্ভুত ঘটনা প্রমাণ করে যে কখনও কখনও জীবনের ইচ্ছা এবং লড়াই আশা-নিরাশার সীমা ছাড়িয়ে যায় আমাদের কল্পনার বাইরে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অবলম্বনে অনুবাদ : মারিয়া হাসিবা
/ইউএমএইচ