পূর্ব আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউয়ে সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট উমারো সিসোকো এমবালোকে গ্রেফতার করে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী। সেনা কর্মকর্তাদের একটি গ্রুপ দেশের ‘পুরো নিয়ন্ত্রণ’ নেয়ার দাবি করেছে। এর মাত্র এক দিন আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই প্রধান প্রার্থীই নিজেদের বিজয়ী বলে ঘোষণা করেছিলেন। এ ঘটনায় রাজধানী বিসাউয়ে নির্বাচন কমিশনের দফতর, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে টানা গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
গতকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক ঘোষণায় সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ‘হাই মিলিটারি কমান্ড ফর দ্য রিস্টোরেশন অব অর্ডার’ নামে একটি নতুন সামরিক কাঠামো গঠন করেছেন। দেশের পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
গিনি-বিসাউ একটি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ, যার রাজধানী বিসাউ। এটি আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত এবং এর উত্তরে সেনেগাল ও পূর্বে ও দক্ষিণে গিনি অবস্থিত। দেশটি বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, দেশটির সব স্থল, আকাশ ও জলসীমা বন্ধ ঘোষণা করেন এবং রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিতে রোববার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের ফল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনে মুখোমুখি ছিলেন প্রেসিডেন্ট উমারো সিসোকো এমবালো ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফার্নান্দো দিয়াস।
ফরাসি গণমাধ্যম ফ্রান্স২৪-কে এমবালো বলেন, ‘আমাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে।’ গতকাল প্রতিবেশী সেনেগাল থেকে আল-জাজিরার নিকোলাস হক জানান, প্রেসিডেন্ট এমবালোকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রধান বিরোধী দল পিএআইজিসির নেতা ডোমিঙ্গোস সিমোয়েস পেরেইরাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান হক। তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, সামরিক বাহিনী ইন্টারনেট বন্ধের চেষ্টা করছে। দেশে কারফিউ চলছে।’
পর্তুগালের কাছ থেকে ১৯৭৪ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে গিনি-বিসাউয়ে বহুবার সামরিক অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থানচেষ্টা ঘটেছে। দেশটির সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দল পিএআইজিসিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না দেওয়ায় নির্বাচনটি শুরু থেকেই অন্যায্য হয়ে পড়ে।
পর্যবেক্ষক নিকোলাস হক বলেন, ‘নির্বাচনে প্রকৃত বিজয়ী কে—এ নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা ও অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে।’ এদিকে, প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বী উমারো সিসোকো এমবালো ও ফার্নান্দো দিয়াস—দুজনই পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেছিলেন।
সূত্র : আলজাজিরা।
সময়ের আলো/এনএ