একজন শীর্ষস্থানীয় মার্কিন নৌবাহিনীর কমান্ডার ভেনেজুয়েলার একটি সন্দেহভাজন নৌযানকে লক্ষ্য করে সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
সোমবার (১ নভেম্বর) প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিয়েট বলেছেন, অ্যাডমিরাল ফ্র্যাঙ্ক ব্র্যাডলি এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ হামলার অনুমোদন দিয়েছেন, কিন্তু সবার মৃত্যু নিশ্চিত করতেই হবে এমন কোনো নির্দেশনা দেননি, যা ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম হামলার পর দুই ব্যক্তি বেঁচে ছিলেন এবং অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ নৌকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উভয় রাজনৈতিক দলের আইনপ্রণেতারা এই ঘটনার প্রতিবেদন নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তারা পর্যবেক্ষণের আশ্বাস দিয়েছেন। লিভিয়েট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং সচিব হেগসেথ স্পষ্টভাবে বলেছেন রাষ্ট্রপতি দ্বারা নির্ধারিত এ ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীকে যুদ্ধের লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে তিনি প্রথম হামলায় দগ্ধ নৌকা থেকে বেঁচে থাকা দুই ব্যক্তির বর্তমান অবস্থা বা দ্বিতীয় হামলার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেননি।
হেগসেথ অভিযোগগুলোকে কল্পিত, উত্তেজক এবং অবমাননাকর হিসেবে নাকচ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলি একজন আমেরিকান হিরো, সত্যিকারের দেশপ্রেমিক এবং তার প্রতি আমার একশ শতাংশ সমর্থন রয়েছে। আমি তার সব যুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ছে এবং ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার আশেপাশের অঞ্চল ঘিরে সন্দেহভাজন মাদকচোরাকারবারি নৌকাগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে। সরকার বলছে, এসব অভিযান আমেরিকার জনগণকে রক্ষার উদ্দেশ্যে এবং যুক্তরাষ্ট্রে মাদক প্রবাহ রোধের জন্য। এই হামলায় সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৮০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
ঘটনার পর ভেনেজুয়েলা-যুক্ত মার্কিন সেনা উপস্থিতি এবং হামলার বৈধতা নিয়ে রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে। সিনেট এবং হাউসের আর্মড সার্ভিসেস কমিটি উভয়ই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সিনেটের রিপাবলিকান চেয়ারম্যান রজার উইকার জানিয়েছেন, তারা অভিযানের কমান্ডারকে সাক্ষাৎকার নেবেন এবং অডিও-ভিডিও রেকর্ড সংগ্রহ করবেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, দ্বিতীয় হামলাটি বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের উপর চালানো হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হতে পারে। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, আহত বা লড়াই করার অক্ষম ব্যক্তিদের হত্যা করা যাবে না, বরং তাদের নিরাপদে আটক এবং চিকিৎসা দিতে হবে।
সাম্প্রতিক ঘটনায় ভেনেজুয়েলার জাতীয় সংসদ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং ২ সেপ্টেম্বরের হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভেনেজুয়েলার অ্যাটর্নি জেনারেল তারেক উইলিয়াম সাও বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবিগুলি ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদকে কেন্দ্র করে ঈর্ষার প্রতিফলন। তিনি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন, যা আমাদের পরিবেশকে আরও বিষাক্ত করে তুলেছে, তা পরিষ্কার করার জন্য।
এদিকে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে ফোনে সংক্ষিপ্ত কথোপকথন করেছেন এবং তাকে দেশ ত্যাগের জন্য চাপ দিয়েছেন। মাদুরো অনুমতি চেয়েছিলেন তার প্রধান সহযোগীদের জন্য ক্ষমা এবং সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য, কিন্তু ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা মাদুরোকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ কার্টেল অফ দ্য সানসের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা উচ্চপদস্থ ভেনেজুয়েলার সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাদক চোরাচালানে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে মাদুরো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
/ইউএমএইচ