
বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে ৮৮ মিনিটের দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শীতকালীন অধিবেশনের মধ্যে এই বৈঠক রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা সৃষ্টি করেছে। শুরুতে শুধুমাত্র প্রধান তথ্য কমিশনার (সিআইসি) নিয়োগ নিয়ে আলোচনার কথা ছিল, কিন্তু দেখা গেছে বৈঠকে আরও আলোচিত হয়েছে আট তথ্য কমিশনার এবং একজন ভিজিল্যান্স কমিশনারের নিয়োগ।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি, প্রধানমন্ত্রী মনোনীত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী উপস্থিত ছিলেন। গান্ধী দুপুর ১টায় পিএমও-তে পৌঁছান এবং ১টা ৭ মিনিটে বৈঠক শুরু হয়। ৮৮ মিনিটের আলোচনার পর বেরিয়ে এসে রাহুল জানান, তিনি প্রস্তাবিত সকল নিয়োগের প্রতি আপত্তি জানিয়েছেন এবং তা লিখিতভাবে জমা দিয়েছেন। তাঁর আপত্তির মূল কারণ হলো প্রতিনিধিত্ব ও বাছাই-মানদণ্ড সংক্রান্ত উদ্বেগ।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাহুল গান্ধী উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের প্রায় ৯০ শতাংশ জনসংখ্যা যেসব সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, তারা প্রস্তাবিত তালিকায় প্রায় অনুপস্থিত। বিশেষ করে দলিত, আদিবাসী, ওবিসি/ইবিসি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের সংখ্যা অত্যন্ত কম, মাত্র ৭শতাংশের কম। তিনি আবেদনকারীদের জাতিগত তথ্য চেয়েছেন এবং বলেছেন, এই ধরনের অসাম্য সংস্থাগুলোর অন্তর্ভুক্তি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনে প্রধান তথ্য কমিশনারসহ মোট ৮টি পদ শূন্য। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হীরালাল সামারিয়া এই পদে ছিলেন। তার অবসরের পর শুধু দুজন তথ্য কমিশনার, আনন্দী রামালিঙ্গম ও বিনোদ কুমার তিওয়ারি, কাজ পরিচালনা করছেন। সিআইসি-এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রায় ৩০,৮৩৮টি মামলা মুলতুবি রয়েছে। চূড়ান্ত নিয়োগ শীঘ্রই আশা করা হচ্ছে।
তথ্য অধিকার আইনের ১২(৩) ধারা অনুসারে, প্রধান তথ্য কমিশনার ও অন্যান্য তথ্য কমিশনারদের নিয়োগের সুপারিশের দায়িত্বে থাকে নির্বাচন কমিটি, যার সভাপতি প্রধানমন্ত্রী এবং সদস্য হিসেবে থাকেন বিরোধী দলনেতা ও প্রধানমন্ত্রী মনোনীত একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
রাহুল গান্ধীর এই বৈঠক দেখিয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলিতে বহুজন ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও কার্যকর হয়।
/ইউএমএইচ